স্টাফ রিপোর্টার: ॥
চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও লালমনিরহাট পাটগ্রাম সরকারি জসিমউদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুসলিম সরদার মিশু (৪০) কে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় রবিবার ১৮জুন বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মিশুকে শনিবার রাত দেড়টায় স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করে মডেল থানা পুলিশ। শনিবার বিকেলে মিশুর স্ত্রী বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- ৪৪। ১৮/৬/২০১৭ইং।
মুসলিম সরদার মিশু মতলব দক্ষিন উপজেলার উত্তর নলূয়া গ্রামের কাজিম উদ্দিন সরদারের ছেলে।
মিশুর নির্যাতনের কারণে চাঁদপুর সরকারী জেনারেল হাসপাতালে বেডে চিকিৎসাধীন তার স্ত্রী অ্যাড. কুলসুমা এখন ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই (উপ-পরিদর্শক) ত্রিনাথ সাহা জানায়, আটক শিক্ষকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, , গত ৮ বছর আগে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নলুয়া গ্রামের মুসলিম সরদার মিশুর সঙ্গে চাঁদপুর জেলা জজ আদালতের আইনজীবী কুলসুমা বেগমের সাথে বিয়ে হয় । বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা দেয়ার জন্য সে চাপ সৃষ্টি করলে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে সে তার স্ত্রীর উপর আবার পূর্বের ন্যায় মিশু নির্যাতন শুরু করে।
কুলসুমা বেগম জানায়, , লালমনিরহাট থেকে বদলি হয়ে আবার চাঁদপুর আসার জন্য আমার কাছে আবারও ৫ লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু আমি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করি। হঠাৎ শুক্রবার বিকেলে আমাকে ফোন করে বলে, আমি লালমনিরহাটে যাচ্ছি। যাওয়ার আগে আমার মেয়েকে একটু দেখতে চাই। তখন আমি তাকে বাসায় আসতে বলি। পরে সন্ধ্যার দিকে মিশু তার ভাই আব্দুল হকসহ আমার বাসায় আসে। বাসায় এসেই কিছু বুঝার আগেই মিশু আমাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
কুলসুমার আত্মীয় হুমায়ন কবির সুমন জানায়, কুলসুমাকে তার বাসায় থেকে অচেতন অবস্থায় সিএনজিতে তুলে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা দেখে আমাদেরকে জানায়। পরে কুলসুমাকে মতলব নিয়ে বাড়ির অন্যান্যরা সহ দ্বিতীয় দফা মারধর করে অচেতন করে।
স্বজনরা আরোও জানায়, । রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে কুলসুমাকে আঘাতের পর আঘাত করে। পরনের বেল্ট দিয়েও বেদম আঘাত করে। সেই সঙ্গে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে কামড়ের চিহ্নও। আমরা প্রশাসনের কাছে তার উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রায় তিন মাস আগে চাঁদপুর সরকারি কলেজে কর্তব্যরত অবস্থায় তিন ছাত্রীকে নেশাযুক্ত দ্রব্য খাইয়ে শ¬ীলতাহানির অভিযোগ ওঠে মিশুর বিরুদ্ধে। নির্যাতিত ছাত্রীদের অভিযোগের পর তাকে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে লালমনিরহাটের সরকারি কলেজে পাঠানো হয়। কিন্তু সে সেখানে যোগদান করলেও নিয়মিত থাকতো না। সর্বশেষ গত এক-দেড়মাস ধরে সে ওই কলেজেও অনুপস্থিত ছিল বলে জানা যায়।
