মিজান লিটন ॥
চাঁদপুরে ভেজালবিরোধ অভিযানের তৎপরতা না থাকায় প্রতিদিন ভেজাল ও নিন্ম মানের খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করছেন ক্রেতারা। এতে জন সাধারণের স্বাস্থ্য ও সুস্থ থাকাটাই মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এসব ভেজাল ও নিন্ম মানের খাদ্যের মূল্য কম হওয়ায় প্রতিনিয়ত ক্রয় করছে ক্রেতাদের।
জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতেও ভেজাল আর নিন্ম মানের খাদ্যদ্রব্যের ছড়াছড়ি থাকলেও সরকারি ভেজালবিরোধী কোনো অভিযান সংগঠিত হচ্ছে এমনটি ল্য করা যাচ্ছেনা। এক শ্রেণী সুযোগ সন্ধানী অসাধু ব্যবসায়িরা নিজেদের খুশিমত মূল্য নির্ধারন করে ভোগ্যপণ্য, নিত্যপণ্য ও বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী অবাধে বিক্রয় করে চলেছে।
শহর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট, পাপর ভাজা, কাঁচা চিপস সহ বিভিন্ন প্রকারের সামগ্রী বিক্রি করছে শহরের বিভিন্ন পথেঘাটে এমনকি পাড়া মহল্লায়ও বিক্রি করছে ভ্যান গাড়িতে করে। এসকল খাদ্য সামগ্রী তৈরী হচ্ছে নিন্ম মানের আটা, ময়দা, চিনি, তেল সম্বলিত ও নোংরা পরিবেশে বিভিন্ন বেকারীতে। এসব অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল ও নিন্ম মানের খাদ্য পরিবেশনের ফলে সাধারণ ভোক্তারা জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
অনেক বিক্রেতা জানান, এসকল খাদ্য সামগ্রী কম মূল্য হওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা কোন প্রশ্ন বা যাচাই না করেই ক্রয় করছে। আমরাও অল্প চালানে এ সকল ব্যবসা করতে পারছি।
জানা যায়, ১ কেজি ভালো মানের সলটেস বিস্কুট বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে। অথচ একই ধরনে সলটেস বিস্কুট ভ্যান গাড়িতে করে বিক্রি করছে ৫০ থেকে ৬০টাকা দরে। ১ পেকেট কাঁচা চিপ বিভিন্ন ভালো মানের দোকান গুলোতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। অথচ একই ধরনের চিপস ফেরী করে বিক্রি করছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। এসকল খাদ্র সামগ্রী শহরের বিভিন্ন এলাকাতে নিন্ম মানের বেকারীথেকে বাজার জাত হচ্ছে। বিক্রেতারা কোনো প্রকার নিয়মনিতী ছাড়াই খোলাভাবে বস্তায় করে এসকল খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করছে।
সূত্রে মতে, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্যানেটারী ইন্সপেক্টরসহ কতিপয় কর্মচারীদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন স্থানে এসকল বেকারী সামগ্রী সহ মিস্টি অবাধে বিক্রি করে চলেছে অসাধু ব্যবসায়িরা।
ক্রেতারা জানান, জেনে না জেনে ভেজাল ও নিন্ম মানের খাদ্য সামগ্রী খেয়ে পেটে গ্যাস্টিকসহ শরীরে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। তবে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোন তৎপরতা না থাকায় ও বাজারের দোকানগুলো সহ পথেঘাটে বিক্রিত সামগ্রীর উপর কোন ভেজালবিরোধ অভিযান পরিচালনা না করার কারণেই ব্যবসায়িরা এসব ভেজাল ও নিন্ম মানের খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করে চলেছে। আর ক্রেতারা তা না জেনেই তা ক্রয় করছে। তবে সচেতন ক্রেতারা মনে করেন টাকা দিয়ে এসব খাদ্য নয় বরং মৃত্যু কেনার সামিল।
এব্যাপারে জেলা ক্যাব সভাপতি জীবন কানাই জানান, এ ধরনের নিন্ম মানের খাদ্য সামগ্রী যারা তৈরী ও বিক্রী করছে তা সম্পুর্ণ অবৈধ। রাষ্ট্রের নাগরীকদের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কর্তব্য। নাগরিকরা আনোদালন গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু কোন শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারেনা। যা একমাত্র দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে। ক্যাব এ ব্যাপারে কয়েকবারই উদ্যেগ নিয়েছে।
শিরোনাম:
বুধবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

