
স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরে ৪ অবুঝ শিশু সন্তান রেখে পরকিয়ার টানে পরকিয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়া মামলায় ১ বছর ৬ মাস সাজাপ্রাপ্ত প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে দীর্ঘ ৩২ বছর পর কচুয়া থানার পুলিশ আয়েশা খানমকে গ্রেফতার করে। আয়েশা কয়েদী হিসেবে সাজা ভোগ করার পর তার আইন জীবিকে ভুল তথ্য দিয়ে বোকা বানিয়ে আদালতের সাথে প্রতারনা করে তার প্রথম জীবনের বৈধ স্বামী মোঃ আঃ গণি মিয়াকে পিতা বানিয়ে ও নিজেকে অশিক্ষিত দাবী করে আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর চাঁদপুর আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ মামলায় অপর সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মোতালেব সরকার এখনও পলাতক রয়েছে। চাঁদপুর থানার মামলা নং-০১, তারিখ ঃ ০২/০১/১৯৮৩ ইং, জিআর-০১/১৯৮৩ ইং ধারা ৪৯৮/১০৯ দন্ডবিধি অনুযায়ী ও গ্রেফতারকৃত আয়েশা খানমের আপিল আবেদন থেকে জানা যায়, বিগত ১৯৮২ সালের ২০ ডিসেম্বর চাঁদপুর শহরের সুনামধন্য ঔষধ ব্যবসায়ী মোঃ আঃ গণি মিয়ার স্ত্রী আয়েশা খানম ঐ দিন রাত সাড়ে ৩ টায় শহরের কুমিল্লা রোডস্থ আকবর মঞ্জিল থেকে ৪টি শিশু সন্তান রেখে স্বর্ণলংকার, মালামাল ও টাকা পয়সাসহ প্রায় ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে পরকিয়া প্রেমিক মোতালেব সরকারের সাথে পালিয়ে যায়। ঐ সময় আয়েশা খানমের স্বামী আঃ গণি মিয়া আয়েশা খানম ও পরকিয়া প্রেমিক মোতালেব সরকারের বিরুদ্ধে ৮৩ সালের ২ জানুয়ারি চাঁদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০১, তারিখ ঃ ০২/০১/১৯৮৩ ইং, জিআর-০১/৮৩। মামলার এজাহারে আঃ গণি মিয়া উল্লেখ করেন ১৯৭২ সালের ১৪ এপ্রিল ১০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে তৎকালিন চাঁদপুর মহকুমা ফুড কন্ট্রোলার মৌলভী কাজী কাসেম আলীর কন্যা আয়েশা খানমের সাথে কচুয়া উপজেলার বুধন্ডা গ্রামের মুন্সী আলী আকবর মিয়ার পুত্র মোঃ আঃ গণি মিয়ার সাথে বিবাহ কার্য্য সম্পন্ন হয়। সে মতে দীর্ঘ ১০ বছর সংসার করার পর আয়েশা গণি মিয়ার তালাত ভাই মোতালেব সরকারের সাথে পরকিয়ার টানে ৪ শিশু সন্তান রেখে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। দীর্ঘ ২ বছর আদালত ব্যাপক পর্যালোচনা করে আদালতের বিজ্ঞ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিষ্ট্রেট শোয়েব উল্যাহ আসামীদ্বয়কে ১ বছর ৬ মাস কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন। কারাদন্ড প্রাপ্তরা আদালতের কাছে হাজির না হয়ে কারাভোগ না করে ৩২ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থেকে সংসার করে ১ সন্তানের জনক-জননী হন। গত ১৭/১২/২০১৬ ইং তারিখে কচুয়া থানার এএসআই শাহাদাত হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স মিজানুর রহমান. নাছরিন আক্তার ও মোরশেদ আলম তাকে কচুয়া উপজেলার খিলমেহের গ্রাম থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হিসেবে গ্রেফতার করে। আয়েশা খানমকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে চাঁদপুর কারাগারে পাঠালে সে দীর্ঘ কয়েক দিন কয়েদি হিসেবে কারা ভোগ করার পর তার নিযুক্ত আইনজীবিকে ভুল তথ্য প্রদান করে ও আদালতের সাথে প্রতারনা করে তার স্বামী মোঃ আঃ গণি মিয়াকে পিতা বানিয়ে আদালতে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে জামিনে মুক্তি লাভ করেন। এ মামলার বাদীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, আদালত কর্তৃক আয়েশা খানমের বিরুদ্ধে যে সাজা প্রদান করেছিল। তা জানতে পেরেও আসামীদ্বয় আদালতে হাজির না হয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে পালিয়ে বেড়ায়। যার ফলে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্লেখ্য, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আয়েশা খানম তার আইনজীবির মাধ্যমে জামিন নেওয়ার জন্য নিজেকে অশিক্ষিত, বৃদ্ধ ও এ মামলা সম্পর্কে কোন কিছু তার জানা নাই বলে আরজিতে উল্লেখ করলেও প্রকৃত পক্ষে সে আদালতের সাথে প্রতারনা করেছে। সে একজন শিক্ষিত, সচেতন ও চতুর মহিলা হিসেবে অবুঝ ৪ সন্তান রেখে পরকিয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়। মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে আয়েশা খানম পালিয়ে যাওয়ার সময় সে চাঁদপুর শহরের লেডি দেহলভী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষিকা ও চাঁদপুর হাজীগঞ্জ উপজেলার আলীগঞ্জ পিটিআই ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের একজন অধ্যায়নরত ছাত্রী ছিল। মামলার কারণে পলাতক থাকায় ঐ সময় পরকীয়া প্রেমিক মোতালেব সরকারকে নিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর কারনে হাজীগঞ্জ পিটিআই ইন্সটিটিউটের অধ্যায়নরত সময় অতিবাহিত করতে পারেনি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকুরিতে যোগদান না করায় সে চাকুরি থেকে বরখাস্ত হয়। এ ব্যাপারে ১৯৮৩ সালে চাঁদপুর থানায় আয়েশা খানম ও তার পরকিয়া প্রেমিক মোতালেব সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকৃত বাদী মোঃ আবদুল গণি মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ১৯৮২ সালে ২০ ডিসেম্বর মোতালেব সরকার, আয়েশা খানমকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় আমি ০৩ কন্যা ও ০১ পুত্র সন্তান নিয়ে অতি কষ্ট স্বীকার করে তাদেরকে লালন পালন করে জীবন যাপন করেছি। লালন পালন করতে গিয়ে আমার বড় কন্যা সন্তানটি মায়ের আদর যতœ ও সেবা না পেয়ে অকালে মৃত্যু বরণ করেন। পরবর্তীতে ০৩ সন্তানকে অতি কষ্টে লালন পালন করে ০২ কন্যা সন্তানকে বিবাহ দেই এবং ০১ ছেলেকে বিবাহ করাই। বর্তমানে তিনি অতি কষ্টে অমানবিকভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে একা জীবন যাপন করছে।
