
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কেউ
শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে না
… পরিবেশ অধিদপ্তর মহাপরিচালক মোঃ রইছউল আলম মন্ডল
স্টাফ রিপোটার ॥ চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ রইছউল আলম মন্ডল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুরে তেমন কোনো শিল্প কারখানা না থাকায় এখানে এখনও পরিবেশ ভালো থাকার কথা। পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে ছাড়পত্র ছাড়া কেউ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে না। কেনো না ,রানা প্লাাজা, তাজনিন ও গাজীপুরের বিসিক শিল্পনগরীতে যে ঘটনা ঘটেছে তা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে তৈরি করার কারনে ঘটেছে। চাঁদপুর নদী মাতৃক দেশ। নদী ভরাট করে ও অবৈধভাবে দখল করে জনবসতী গড়ে উঠার কারণে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে আলোচনা করে ভরাটকৃত জলাশয় আইনগত প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করতে হবে । চাঁদপুরে শিল্প প্রতিষ্ঠান কম থাকলেও চাঁদপুরে অনেক আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস স্থাপন করা হয়েছে। এই অফিসে ৫ জনবল দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে কার্যক্রম করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেক জেলাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় নেই। আমরা চাই চাঁদপুরে পরিবেশ যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে যেসব ইটভাটা রয়েছে সকল কার্যক্রমে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মেনে করতে হবে যে সব ইটভাটা পরিবেশ ছাড়পত্র নেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । দেখা যায় বিভিন্ন এলাকাতে বাড়ির,কৃষিজমি এবং বাগানের পাশে অনেকে ইটভাটা তৈরি করেন। এ ইটভাটার কারণে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসককে সকল ক্ষমতা দেওয়া আছে তিনি বলেন, এ মতবিনিময় সভায় যেসব শিক্ষকরা উপস্থিত আছেন তাদের কাছে আমি নিবেদন করবো যেন শিক্ষাদানের পাশাপাশি পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান দান করবেন। তাহলে এ শিক্ষার্থীরা পরিবেশকে সুন্দর রাখতে পারবে। আমরা পরিবেশকে ৪টি ভাগে ভাগ করেছি। তিনি আরো বলেন পলিথিন হলো আমাদের দেশের প্রধান ইস্যু। সব পলিথিনে সরকার নিষিদ্ধ নয়। পরিবেশ আইনে খাদ্যজাত ও মাছ পেকিংএর ক্ষেত্রে পলিথিনের নিষেধাজ্ঞানেই। আমরা যদি সঠিকভাবে এর বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন,চলতি মৌসুমে বিনা লাইসেন্সে একটি ইটভাটায় আগুন দিতে পারবে না । এ ব্যাপারে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।
চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির আহম্মেদ বলেন, আমরা ভালো পরিবেশে বাস করবো। নিজের জন্য পরিবেশ প্রয়োজন। তার জন্য আমাদের সকলের সচেতনতার বিকল্প কিছুই নেই। তিনি বলেন বিদেশে গিয়ে দেখেছি কাগজ রাস্তায় কেউ ফেলছে না। আমাদের দেশে ৩৫ ভাগ লোক শহরে বসবাস করে। আগামী ১০ বছর পর ৭০ ভাগ লোক এ শহরে বসবাস করবে। আমাদের ইচ্ছা আছে এ পৌর এলাকাকে আধুনিক করা হবে। এ পৌরসভা অনেক বড় তাই প্রতিটি পাড়া মহল্লাায় ক্লিনার নিয়োগ করা হয়েছে, যেন ময়লা আবর্জনা তারা নিয়ে আসতে পারে। লন্ডনে গিয়ে দেখেছি তাদের পরিবেশ তারা কিভাবে সুন্দর রাখছে। আমাদের শহরে যারা বহুতল ভবন নির্মান করছে তারা অর্থশালী। ভবন নির্মানের সময় ময়লার পাইপ ড্রেনের সাথে সংযোগ দিয়ে দিচ্ছে। এটা হলো সে অর্থশালীদের অসচেতনতা। বাসাবাড়ির ছাদ থেকে ময়লা আবর্জনা রাস্তায় ছুড়ে ফেলছে। চাঁদপুর উন্নত দেশের চেয়ে ভালো নেই। তবে বাংলাদেশের মধ্যে অনেক ভালো শহর। এটি একটি শান্তির শহর। ডাকাতিয়া নদীকে দুষণ মুক্ত রাখতে পৌরসভা কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই চাঁদপুরের পরিবেশকে সুন্দর রাখতে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোহাম্মদ আব্দুল হাই-এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সচিব মোঃ জাফর সিদ্দিক । মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডঃ জহিরুল ইসলাম, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম হান্নান, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আরেফিন বাদল, চাঁদপুর জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আব্দুর রশিদ,জেলা বেকারী মালিক সমিতির সভাপতি এসএম জয়নাল আবেদীন প্রমুখ ।
