# প্রি-পেইড মিটারের সাথে নতুন তার না দিয়ে পুরাতন তারে সংযোগ দেওয়ায়।
# প্রি-পেইড মিটারের মূল্য বিলের টাকা রিচার্জের সাথে সাথেই প্রতি মাষে কর্তন করা হবে।

চাঁদপুর নিউজ রিপোর্ট সারা বাংলাদেশের ন্যায় চাঁদপুরে আবাসিক-বানিজ্যিক সিঙ্গেল পেইজ ও থ্রি পেইজ পুরাতন ডিজিটেল মিটার খুলে নতুন প্রি-পেইড সংযোগ দেওয়ার কাজ দ্রুত চলছে। নতুন প্রি-পেইড মিটার সংযোগ দেওয়ায় গ্রহকরা চরম দূরভোগ পোহাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে গ্রাহরা লাভমান না হলেও অবৈধ বিদ্যুৎ চুরির অবসান হওয়ায় সরকার লাভমান হয়েছে। এতে করে পিডিবির অসাধু কর্মকর্তা ও কিছু গ্রাহকদের অবৈধ বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ হয়েছে। সারা বাংলাদেশে পুরাতন এনালক ও ডিজিটেল মিটার খুলে নতুন প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের জন্য চায়নার হেটজিন ঠিকাদার কম্পানী কাজ পেয়েছে। চায়নার হেগজিন ঠিকাদার কম্পানীর কাছ থেকে সাব কন্ট্রাক হিসেবে বাংলাদেশের জেভি রয়েল বাদসা ঠিকাদার কম্পানীর কাজটি নিয়ে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু করে। প্রি-প্রেইড মিটার সংযোগ দেওয়ার সময় পিডিবির স্টাফ শওকতসহ জেভি রয়েল বাদসা ঠিকাদার কম্পানীর কিছু সাইড সুপারভাইজার গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০০থেকে ৫০০ টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বেশ কিছু গ্রাহক।
নতুন প্রি-পেইড মিটারের বিদ্যুৎ বিলের টাকা রিচার্জ করার জন্য শুধু মাত্র পিডিবির নিদিষ্ট জায়গায় যেতে হবে। এখন আর বিদ্যুৎ বিল ব্যাংকে দিতে পারবে না। এতে করে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করতে গিয়ে ব্যাপক দূরভোগ পরবে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুরাতন তার খুলে নতুন তার দিয়ে প্রি-পেইড মিটার সংযোগ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার কম্পানী নতুন তার না লাগিয়ে পুরাতন তারে প্রি-পেইড মিটার সংযোগ দিচ্ছে। নতুন তার গুলো তারা অন্যত্রে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে প্রথমে গ্রাহকদেরকে ফ্রি মিটার দেয়া হলেও ৪/৫ মাস যেতে না যেতেই মিটারের দাম নেয়া হবে বলে জানা গেছে। সিঙ্গেল ফেইজ মিটারের একজন গ্রাহক তার মিটার ক্রয় বাবদ (প্রতি মাসে একবার) ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেইজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিলের সাথে প্রদান করতে হবে বলে জানা গেছে। একজন গ্রাহককে ১০ বছর ধরে প্রতি মাসে মিটারের জন্য এই টাকা পরিশোধ করতে হবে।
গ্রাহকরা বলছেন, প্রি-পেইড মিটারে ‘পোস্টপেইড’ যন্ত্রণা শুরু হয়েছে।
একদিকে চায়না প্রি-পেইড মিটার নিয়ে বিপাকে আছেন গ্রাহকরা। তার ওপর লোডের বিষয় নিয়েও আছে চরম বিপত্তি। এরই মাঝে প্রতি মাসে আবার বিলের সাথে যুক্ত হচ্ছে মিটারের ভাড়া। গ্রাহকদের অভিযোগ, কোন ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই মনে হচ্ছে সরকার প্রি-পেইড মিটার লাগানো শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, ১০ বছর ধরে মিটারের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু কোন মিটার যদি কয়েক বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায় সেক্ষেত্রে একজন গ্রাহক আবার নতুন মিটার নিলে তার ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধের বিধান কী রকম হবে, এসব বিষয়ে কোন ধরনের প্রচারণা নেই সংশ্লিষ্টদের। গ্রাহকদের অন্ধকারে রেখে এ সিস্টেম চালু করে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। সব মিলিয়ে প্রি-পেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকরা ক্ষোভে ফুসছে।
প্রকল্প পরিচালক ও সাইড সুপার ভাইজারা জানান, বিদ্যুতের গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটার লাগানোর সময় আমরা মিটার ফ্রি দিতেছি। তবে বিভিন্ন জেলায় এখন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে যে বিদ্যুতের মাসিক বিলের সাথে মিটারের টাকা আদায়ের জন্য। তাই আগামী মাস থেকে গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের মূল্য মাসিক বিলের সাথে প্রদান করতে হবে। এমনিতেই একটি প্রি- পেইড মিটারের মেয়াদ ১০ বছর। আর এ ১০ বছরের মধ্যে মিটারটি নষ্ট হলে আমরা আবার নতুন মিটার লাগায় দিব বলে তিনি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, একটি প্রি-পেইড মিটার ক্রয়ে আমাদের খবচ পড়েছে ৪৮ ডলার। সেই সাথে ৩০ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়েছে। সে হিসেবে একজন সিঙ্গেল ফেইজ মিটারের গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতিমাসে মিটারের জন্য ৪০ টাকা এবং থ্রি-ফেইজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিলের সাথে প্রদান করতে হবে। যা গ্রাহেকদের মাসিক রিচার্জকৃত টাকা হতে কেটে নেয়া হবে।
পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত সংস্থাটির চাঁদপুরে ৪৭ হাজার সিঙ্গেল ফেজ মিটার লাগানো হবে, যার প্রতিটির মূল্য ৪ হাজার ৮শ’ টাকা। কিছু থ্রিফেজ মিটার লাগানো হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য ২০হাজার টাকা বলে জানান তিনি। অবশিষ্ট মিটার পর্যায়ক্রমে লাগনো হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে পুরান বাজার লোহারপুল এলাকার প্রি-পেইড মিটারের গ্রাহক আবদ্দুল মিয়া বলেন, ‘আমাদেরতো মিটার ছিল। আমরা একবার টাকা দিয়ে মিটার এনেছি। এখন সরকার প্রি-পেইড সিস্টেম চালু করতে গিয়ে আমাদের আগের মিটারটি খুলে নিয়েছে। তাহলে আমরা আবার কেন মিটারের জন্য টাকা দেব। প্রি-পেইড মিটার লাগানোর সময় তখন মিটারের টাকার কথা বলেনি। তাহলে ২/৩ মাস পরে এসে কেন মিটারের টাকা দিতে বলছে তা বোধগম্য নয়।’
নতুনবাজার এলাকার বেশ কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, প্রি-প্রেইড মিটার সংযোগ দেওয়ার পর মিটারের লোড বাড়ানোর নামে পিডিবির স্টাফ শওকতসহ সাইড সুপারভাইজার গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০০থেকে ৫০০ টাকা নিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।পিডিবির প্রতি কেবি ৩৭৫ টাকা ও আবেদন পত্র ১৫০ টাকাসহ মোট ৫২৫ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর ও বিভিন্ন অজুহাতে ৮/৯ শত টাকা করে নেয়া হচ্ছে ।(চলবে)
