চাঁদপুর:
কিছু অর্থলিপ্সু নরপিশাচদের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে অসহায় মানুষদের। সাভার ট্র্যাজেডি সেটি আবার প্রমাণ করলো। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের রানা প্লাজার অনুমোদন আছে চার তলার। অথচ এটি করা হয়েছে নয় তলা, তাও এটি একটি জলাশয় ভরাট করে করা হয়েছে। ফলে যা হবার তাই হলো। চাঁদপুরেও এমন অনেক ভবন রয়েছে যেগুলোর কোনো প্ল্যান নেই। আবার অনেক ভবন রয়েছে যেগুলো অনুমোদনের চেয়ে আরো বেশি ঊর্ধ্বমুখী সমপ্রসারণ করা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। যেগুলোতে মানুষ এখনো অফিস করছে এবং বসবাস করছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন এবং প্ল্যান ছাড়াই বেশ কিছু ভবন তৈরি করা হয়েছে। মালিক নিজের মতো করে ভবন তৈরি করছে। আবার অনুমোদন রয়েছে একরকম অথচ তৈরি করছে অন্যভাবে। যেমন অনুমোদন রয়েছে চার তলার কিন্তু করা হয়েছে ৬-৭ তলা। খোদ চাঁদপুর শহরে এমন বেশ ক’টি ভবন রয়েছে। চাঁদপুর প্রেসক্লাব সড়কস্থ একটি ভবন কিছুদিন আগে ঊর্ধ্বমুখী সমপ্রসারণ করা হয়েছে। এটি আগে ছিলো দোতলা এখন এটি চারতলা বিশিষ্ট। এই ঊর্ধ্বমুখী সমপ্রসারণে কোনো অনুমোদন নেই এবং কোনো প্ল্যান ছাড়াই এটি করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল লতিফ ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদপুরনিউজ২৪ডটনেটকে জানান, আমরা সরকারি ভবন নির্মাণ করি। আর অন্যান্য ভবন নির্মাণে অনুমোদনের বিষয়টি দেখে পৌরসভা। তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের আলোকে বলেন, যে কোনো বিল্ডিং করতে প্ল্যান ও ডিজাইন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট এক্সপার্ট থেকে অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে প্ল্যান ও ডিজাইন অনুমোদন নেয়া হয় না, আবার অনুমোদন নিলেও বিল্ডিং নির্মাণের সময় সাঠিক ও মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হয় না। আর নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও না। আবার দেখো গেছে যে, বিল্ডিং করে আবাসিকের জন্য, কিন্তু পরে দেখা যায় যে এটি ব্যবহার হয় অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে। সে ক্ষেত্রে ওই বিল্ডিংয়ে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি চাপ পড়ে। এসব কারণে বিভিন্ন সময় ভবন ধসসহ নানা বিপর্যয় ঘটে।
চাঁদপুর শহরের অনুনোমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা হয় চাঁদপুর পৌরসভার সচিব আবুল কালাম ভূঞার সাথে। তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, সাভারের ঘটনার পর আমরা এ বিষয়টি গভীরভাবে দেখছি। মেয়র মহোদয়ের সাথে কথা হয়েছে, নগর পরিকল্পনাবিদকে নিয়ে একটি এক্সপার্ট কমিটি সহসা গঠন করা হবে। এই কমিটি যত দ্রুত সম্ভব শহরে অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করবে। তিনি আরো জানান, পৌর ভবনের পশ্চিম পাশ লাগোয়া ইউসিবিএল ব্যাংক ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার তাদেরকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জেলাবাসী দাবি জানিয়েছে, সাভার ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে চাঁদপুরেও এ ধরনের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা যেনো নেয়া হয়।
