
মিজান লিটন ॥
“মাছে ভাতে বাঙ্গালী” এক সময় এই প্রবাদটি আমরা সকলেই বলতাম। কিন্তু এখন আর তা শুনা যাচ্ছে না। দিন দিন আমাদের মাঝ থেকে বহু প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় গ্রাম গঞ্জে যে ধরনের ছোট মাছ দেখা যেত তা আজ নেই বললেই চলে। কারণ এখন আর খাল বিল আগের মতো চোখে পরে না। কিছু সংখ্যক ভূমিদস্যুদের ভীড়ে অধিকাংশ খাল বিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যার কারনে ফসলি জমিও হারাতে শুরু করেছে। জেলা অধিকাংশ স্থানেই নীরবে নীভ্রিতে কৃষি জমি জলাশয় খঅল ও খাস জমি ভরাটের মহাউৎসব চলছে। এই সকল নিচু কৃষি জমিগুলো এক শ্রেণীর লোকজন কম মূল্যে মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করে। পরবর্তিতে তা বরাট করে অধিক মূল্যে বিক্রি করছে। আজ ওই সকল ভূমি ব্যবসায়ীরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। এতে করে আশঙ্কা জনক হারে কমতে শুরু করেছে ফসলি জমি। শুধু এ চিত্র শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও একই অবস্থা চলছে।
উদ্বেগজনক হারে ফসলি জমি কমে আসায় খাদ্য নিবারণ হুমকির মুখে পরছে। ক্রমর্ধ্বমান জন সংখ্যার চাপে উপজেলার বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক এর পশে প্রায় সকল ফসলি জমি এখন আর চোখে পরে না, এ সকল জমি সব ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত ভাবে একটি চক্র এ ধরনের ফসলি জমি ভরাট করে বাড়ি ঘর, প্লট, ইট ভাটা
তৈরী করছে। এর পরিবেশের তোয়াক্কা করছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোন প্রকার ছাড় পত্রও গ্রহণ করছে না। ভরাট করার সময় সরকারি বহু খাস জলাশয় এর জোড় করে ভরাট করে নিচ্ছে। প্রতিটি এলাকায় এক শ্রেনীর জমি ব্যবসায়ীরাই বিশেষ করে এ কাজগুলো করে থাকে। তারা রাস্তার পাশের ফসলি জমিগুলো অল্প মূল্যে ক্রয় করে এক পর্যায়ে ভরাট করে প্লট তৈরি করে অধিক মুনাফায় বিক্রি করে। এই ধরনের সিন্ডিকেট অনেক শক্তিশালী হয়। তাদের উপরে কেহই কথা বলতে পারে না।
এ বিষয়ে জেলার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলি আহাম্মেদ এর সাথে আলাপ কালে তিনি জানায়, আমরা বিভিন্ন সময় সভা সেমিনার এ বিষয়ে বলেছি। কিন্তু কোন সুরাহ হচ্ছে না। সরকার অচিরেই এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা করতে যাচ্ছে। কেহ যদি গ্রামেও বাড়ি করতে চায় তাহলেও সরকারি অনুমতি নিতে হবে। তাহলে ইচ্ছে মতো ফসলি জমি নষ্ট করে ভরাট করে বাড়ি তৈরি করতে পারবেনা। বর্তমানে চাঁদপুর জেলায় ফসলি জমির পরিমান প্রায় ৯৪ হাজার ১শ’ ১৭ হেক্টর রয়েছে। যা দিনদিন কমে যাচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করেন, যে হারে ফসলি জমি ও খাল বিল ভরাট হচ্ছে এতে করে জেলার খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পরবে। কৃষিবিদরা বলেন, কৃষি জিম সুরক্ষা নীতি মালা প্রনয়নের কাজ চলছে অনেকটা এগিয়েছে। সহসাই তা আইন বা বিধিমালা আকারে প্রকাশিত হবে। তখন আর কেহই কৃষি জমি ইচ্ছে করলেই অকৃষিতে ব্যবহার করতে পারবে না। বিশ্বের অনেক দেশেই কৃষিজমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করতে গেলে সরকারের অনুমতি লাগে। সময়ের ব্যপার যা এক সময় আমাদের দেশেও প্রযোয্য হবে।
শিরোনাম:
সোমবার , ১৫ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
