
কাদের পলাশ
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশী সিগারেটে সয়লাব হয়ে গেছে পুরো চাঁদপুর। এক সময় গোপনে এসব সিগারেট বিকিকিনি হলেও বর্তমানে প্রকাশ্যেই চলছে বাজারজাতকরণ ও বিপণন। প্রায় প্রতিটি পান চা সিগারেটের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে এসব সিগারেট। চাঁদপুর শহরের নারায়ণ স্টোর, পিক এন্ড পে, মেসার্স হাবিব ডিপার্টমেন্টালসহ আরো ক’টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এসব সিগারেট অবৈধভাবে বাজারজাত করছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। আবার ব্যক্তি উদ্যোগেও কেউ কেউ বাজারজাত করতে শোনা গেছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই। আর তাই সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
চাঁদপুর শহরের একাধিক দোকান ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে অবৈধভাবে বাজারজাতকৃত প্রায় ১৫টি ব্র্যান্ডের সিগারেট। এর মধ্যে ইজি লাইট, ৩০৩, গুদাংগ্রাম, এ্যাবসুলেট, ট্যাক্সওম-৫, মোর, পাইন, লুভিন, দুই ধরনের ব্লাক সিগারেট এবং স্ট্র্যবরি ও পানের মিষ্টি মশলা স্বাদের দু প্রকার মণ্ড সিগারেট। এসব সিগারেট প্রায় প্রতিটিই আলাদা স্বাদ, আকার ও রঙ্গের হয়ে থাকে। যে কারণে নতুন ধূমপায়ীরা এসব সিগারেটে আগ্রহী হয়ে উঠছে। প্রতি পিচ বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২৫ টাকায়।
এসব সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর, মৃত্যু ঘটায়, হৃদরোগের কারণ, ফুসফুসে ক্যান্সার, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা এমন কোনো সতর্কীকরণ শ্লোগান বাংলা ভাষায় লেখা না থাকলেও ইংরেজিতে লেখা রয়েছে। আর তাই বিভিন্ন স্বাদের এ সিগারেটে আসক্ত হয়ে পড়ছে উঠতি বয়সের তরুণ সমাজ। তারপর ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ছে নেশার রাজ্যে।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক ক’জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, এসব সিগারেট উঠতি বয়সের যুবকরা শখ করে ব্যবহার করে থাকেন। যদিও বেনসন ও গোল্ডলিপ ও ক্যাপাস্টেনের মতো ইজি সিগারেট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেককেই আবার বেনসনের পরিবর্তে ব্ল্যাক সিগারেট আসক্ত হয়ে পড়ছেন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ভ্রাম্যমাণ ব্ল্যাক সিগারেট বাজারজাতকারী জানান, চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজারে এসব সিগারেট ওপেন বিক্রি হচ্ছে। সেখান থেকে এনেই ৭-৮ কার্টুন সিগারেট বাজারজাত করে সে।
বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, অবৈধভাবে নদী পথে বিদেশ থেকে আসছে এসব সিগারেট। বিশেষ করে নৌ-বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরেও চলে আসছে। এও শুনা যায়, প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে আসার সময় ৫-১০ কার্টুন নিয়ে আসেন। ৫-১০ কার্টুন সিগারেট নিয়ে আসলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয় না। যা পরে চড়া দামে বিক্রি করে দেন বিভিন্ন দোকানে। বিদেশে এসব সিগারেটের দাম অনেক কম বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণ স্টোরের স্বত্বাধিকারী জানান, নারায়ণ স্টোরের নাম অতিপরিচিত বিধায় এ নামটা আগে চলে আসে। আমরা এসব সিগারেটের পাইকারি বিক্রেতা নই। আমরাও খুচরা বিক্রি করে থাকি এসব সিগারেট।
এসব ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেটের কারণে দেশে বৈধভাবে আমদানিকৃত গোল্ডলিফ ও বেনসন সিগারেটের চাহিদা অনেকাংশে কমে গেছে। এ ব্যাপারে সরকারের নজরদারি প্রয়োজন বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিভিন্ন সিগারেটের ডিলার বা প্রতিনিধিরা।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আমির জাফর জানান, বিষয়টি আমরা ভালোভাবে জেনে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করবো।
