চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন রেলওয়ে শ্রমিক কলোনিতে এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, বিয়ের প্রলোবন দেখিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার পর তাকে বিয়ে না করে প্রতারনা করায়, প্রতারক যুবক কাউছার আহমেদ মিজির বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় কিশোরী বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে পুলিশ সুত্রে জানা যায়।
সরজমিনে চাঁদপুর শহরের রড় স্টেশন রেলওয়ে শ্রমিক কলোনিতে বসবাসরত অটো রিক্সা চালক সফিকুর রহমান ও জানারা বেগমের কিশোরী কন্যা (১৫) জানায়, সে বিগত ১ বছর পূর্বে বড় স্টেশন স্টীমার ঘাট এলাকায় নদী থেকে পানি আনতে যায়। এসময় স্টীমার ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী বসির উল্লা মিজির ছেলে, কাউসার মিয়াজি (২২) তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত রমজান ঈদ উপলক্ষে কাউসার তাকে ২ সেট সেলোয়ার কামিজ উপহার দেয় এবং এতে করে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে উঠে। কিছু দিন পূর্বে কিশোরীকে কাউসার বিয়ের প্রলোবন দেখিয়ে লঞ্চযোগে সুরেশ্বর এলাকায় কিশোরীর নানীর বাড়ি মানা খান এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে কাউসার কিশোরীরর নানী কুলসি বেগমকে জানান, কিশোরীকে সে বিয়ে করেছে। কিশোরী তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রাত্রীযাপন করে। দু’দিন নানীর বাড়িতে থাকার পর সেখান থেকে কাউসার পালিয়ে চাঁদপুর চলে আসে। কিশোরী সুরেশ্বর এলাকা থেকে ১৪ অক্টোবর চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন রেলওয়ে শ্রমিক কলোনীতে এসে তার পিতা মাতা ও এলাকাবাসীকে ঘটনাটি জানায়। এরই মধ্যে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। কিশোরী আরও জানায়, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেছে এখন কাউসার তাকে বিয়ে না করলে সে আত্মহত্যা ছাড়া তার আর কোন উপায় নাই। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি আঃ রহিম, মোঃ আলমগীর হোসেন ও আঃ কাদিরসহ শালিসগণ বসে কাউসারকে কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দেয়। কাউসার তাদের এ প্রস্তাব না মেনে পিতা বসির উল্লার মাধ্যমে কিশোরীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করে। কিশোরীর অভিভাবক ও এলাকাবাসী এ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে কিশোরীর ইজ্জতহানীর কারণে তাকে বিয়ে করার জন্য কাউসারকে চাপ প্রয়োগ করে। কাউসার বিয়ে না করে এলাকা থেকে গা’ ঢাকা দেয়। অবশেষে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কিশোরীর অভিভাবক বাধ্য হয়ে বিচারের দাবিতে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। এ ব্যাপারে কাউসারের সাথে যোগাযোগ করলে সে জানায়, কিশোরীর সাথে নদীতে পানি নেওয়ার পরিচয় হয়। এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি তার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। কাউসারের পিতা বসির উল্লার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি এলাকাবাসীর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে এর সমাধান চেয়েছি। আমার ছেলে এ কাজ করেছে শুনে আমি এ ব্যাপারে কিছু বলার মুখ আমার নেই। এলাকাবাসী যে সমাধান করবে তাতে আমি একমত।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

