গেঞ্জি ব্যবসায়ী নুরু মাস্তানের নয়া কৌশল
চাঁদপুরে মাদ্রাসা আছে ছাত্র নেই ॥ ভবন দেখিয়ে চাঁদা আদায়
শাহারিয়ার খান কৌশিক ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮নং বাগাদী ইউনিয়নের সাহেব বাজার পশ্চিম সকদী এলাকায় জামিয়া আহম্মদিয়া নূরিয়া মাদরাসা এন্ড ক্যাডেট স্কুলের ভবন আছে, কিন্তু নেই কোন ছাত্র, নেই কোন শিক্ষক। গেঞ্জি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম মাস্তান নিজের বসতবাড়ির সামনে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড বসিয়ে দীর্ঘদিন যাবত প্রতারণা করে অন্য মাদ্রাসা ভবনের ছবি দেখিয়ে প্রতি মাসে মানুষের কাছ থেকে এতিমদেন নামে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা মিরপুর-১০ ফরিদ বাড়ী মসজিদে পাশে একটি মার্কেটের গেঞ্জি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম মাস্তান চাঁদপুরে তার জামিয়া আহম্মদিয়া নূরিয়া মাদরাসা এন্ড ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক দাবী করে নয়া কৌশলে মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত এভাবেই লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। সরজমিনে বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম সকদী এম.আর.বি আফজালের বিক ফিল্ডের পূর্ব পার্শ্বে চকিদার বাড়ী সংলগ্ন মৃত আলী আহম্মদ মাস্তানের ছেলে নুরুল ইসলাম মাস্তানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছর পূর্বে সে নিজে থাকার জন্য দো-তলা একটি ভবন নির্মাণ করেন। সেই ভবনটিতে মাদ্রাসার ও ক্যাডেট স্কুল সাইন বোর্ড সাটিয়ে মানুষ দেখানোর জন্য কয়েক মাস গুটি কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেয়। গেঞ্জি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম মাস্তান দেয়ানবাগীদের নাম ভাঙ্গিয়ে তাদের অর্থশালী মুরিদের কাছ থেকে অন্য মাদ্রাসার ভবনে ছবি দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। সেই চাঁদার টাকায় তার স্ব-পরিবারকে নিয়ে সৌদি আরব ভ্রমন করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত দু-বছর যাবত তার এই মাদ্রাসাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকায় সেখানে কোন ছাত্র ও শিক্ষক নেই। ভবনটির ভিতরে নেই কোন চেয়ার টেবিল রয়েছে কয়েকটি কক্ষে জ্বালানির লাড়কির খামাল। এ দুটি কক্ষ ভাড়া দেওয়ায় সেখানে রয়েছে ভাড়াটিয়া। এলাকার বেশ কয়েকজন লোক জানায় নুরুল ইসলাম মাস্তান তার বসত বাড়িকে মাদ্রাসার বানিয়ে সেখানে সাইন বোর্ড লাগিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত মানুষ কে ধোকা দিয়ে মাদ্রাসার নামে রিসিট দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে। এছাড়া সে এলাকার নিরহ মানুষের সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করে নিয়েছে। এতিমদের নামে অন্য মাদ্রাসার ভবন দেখিয়ে চাঁদা আদায় করার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘ দুই বছর পূর্বে সেই মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেয়। নুরুল ইসলাম মস্তান ঢাকায় অবস্থান করে দেওয়ানবাগীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে সেই টাকায় তার গেঞ্জি ব্যবসা পরিচালনা করছে। আর এই অপরাধের সহযোগীতা করছে তার ভাই মজিবুর রহমান, মিজান ও মোস্তফা মাস্তান। তার এই তিন ভাইকে দিয়ে চাঁদপুর থেকে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদার টাকা সবাই মিলে ভাগবাটোয়ারা করে নিজেদের সংসার চালাচ্ছে। এব্যাপারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই বছর পূর্বে মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে গেছে, ছয় মাস আগেই চাকুরী ছেড়ে দিয়েছি। মাদ্রাসার ভবন দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে কিনা তা প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম মাস্তান ও তার ভাইয়েরা ভালো জানে। এই মাদ্রাসায় এখন কোন শিক্ষক ও ছাত্র/ছাত্রী নেই। এ ঘটনা জানতে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম মস্তানের ব্যবহৃত ০১৯১২২৫১৮৬৭ মোবাইল নাম্বারে ফোন করলে সংযোগটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি। ধারাবাহিক প্রতিবেদনে পরবর্তীতে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
