লিবিয়ায় যুবককে আটকে রেখে মুক্তীপন দাবি
শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮নং বাগাদি ইউনিয়নের উত্তর ইচলীর গ্রামের সালাউদ্দিন জাকির(২৫)কে লিবিয়ায় যাওয়ার পর আটকে রেখে মুক্তীপন দাবি করছে পাচারকারি চক্ররা। এই ঘটনায় মানব পাচার মামলা হলে মামলার ২য় আসামী তাজুল জমাদার(৫৫)কে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার মডেল থানা পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরন করলে তার জামিন না মঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। মানবপাচারকারি মামলায় আটক তাজুল জমাদার ১০নং লক্ষীপুর ইউনিয়নের বহরিয়া শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক আলী জমাদারের পুত্র। এই মামলার প্রধান আসামি তাজুল জমাদারের ছেলে ফয়সাল জমাদার(৩০)ঘটনায় পরেই ঢাকায় পালিয়ে রয়েছে।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, উত্তর ইচলীর গ্রামের গাজী বাড়ির তাজুল জমাদারের ছোট ছেলে সালাউদ্দিন জাকিরকে ইটালি পাঠানোর জন্য মাদব পাচারকারি বহরিয়ার তাজুল জমাদার ও তার ছেলে ফয়সাল জমাদারের সাথে ১২ লক্ষ টাকায় কন্টাক হয়। তারা সালাউদ্দিন জাকিরকে লিভিয়া নিয়ে সেখান থেকে সমূদ্র পারি দিয়ে ইটালি নেওয়ার কথা বলে ৮ লক্ষ টাকা নেয়। বাকি ৪ লক্ষ টাকা ইটালি নেওয়ার পরে দেওয়ার হবে বলে উভয়ের মধ্যে চুক্তি হয়। ২০১৮ সালের মে মাষের ২১ তারিখে মানবপাচারকারি ফয়সাল জমাদার ৮লক্ষ টাকা নিয়ে সালাউদ্দিন জাকিরকে লিভিয়া নেয়। এর পরেই মানকপাচার কারি চক্ররা তাকে সেখানে একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে ৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। তারা মুক্তিপনের টাকা নিয়ে তাকে সেখানে বেদম মারধর করে তার পরিবারের কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করে।
এই ঘটনায় লিবিয়ায় বন্ধি থাকা সালাউদ্দিন জাকিরকে পাচারকারিদেও কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনতে তার বড় ভাই শাকিল গাজী চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করার পরে ঘটনা সমাধান না হওয়ার পরে চাঁদপুর আদালতে ২জনকে আসামি করে মানব পাচার মামলা দায়ের করে। সেই অভিযোগটি চাঁদপুর মডেল থানায় ওসিকে তদন্ত সাপেক্ষে মামলাটি রুজু করার জন্য নির্দ্যশে দেয় আদালত। থানার মামলা নং২৩/১৮।
এামলার প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুরানবাজার ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক আবদুল রশিদ মঙ্গলবার রাতে বহরিয়া বাজার থেকে মামলার ২নং আসামী তাজুল জমাদারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার পরেই তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য দালাল বহরিয়ার বাবুল শেখ পুলিশকে ম্যেনেজ করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যার্থ হয়।
