
শাহারিয়ার খান কৌশিক ॥
চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক চিরুনী অভিযানে ২১০ ইয়াবা সাড়ে ৬ কেজি গাজা ও ২১ বোতল ফেন্সিডিল সহ ২৭ মাদক মামলার দাগী আসামী ম্যাট বাচ্চু ওরফে বাবা বাচ্চু সহ ৪ মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে। সোমবার আটকৃতদের বিরুদ্ধে ৪টি পৃথক মাদক মামলা দায়ের করে আসামীদের আদালতে প্রেরন করে। আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। মাদক নির্মুলে ও যুব সমাজকে রক্ষা করতে পুলিশ সুপার সামছুনাহারের নির্দেশের চাঁদপুরের ডিবি পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা অভিযান চালিয়ে মাদকের দাগী আসামীদের মাদকসহ আটক করে আদালতে প্রেরন করছেন । তারই ধারাবাহিকতায় ডিবি
পুলিশের এস.আই ইসমাঈল খন্দকার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট, ২নং আশিকাটি ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রাম, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের লালদিয়া ও ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের দক্ষিন রঘুনাথপুরে অভিযান চালিয়ে মহিলাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। ডিবি পুলিশ জানায়, সোমবার ভোর ৪টায় আশিকাটি ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামে মিজানুর রহমানের ভাড়াটিয়া সাদ্দাম হোসেনের বসতঘরে অভিযান চালিয়। এসময় দুই যুবতির সাথে অনৈতিক কাজ করা অবস্থায় পুরানবাজার মেরকাটিজ রোডের নুরু মিজির ছেলে ২৭ মাদক মামলার দাগী আসামী ম্যাট বাচ্চু ওরফে বাবা বাচ্চু (৪৫) কে ১০০পিছ ইয়াবা সহ আটক করা হয়। একই সময় তার সহযোগী হাজীগঞ্জের সাদ্দামকে ৫৫ পিস ইয়াবা সহ আটক করে ডিবি পুলিশ। ম্যাট বাচ্চু ওরফে বাবা বাচ্চু পুরানবাজার কোহিনুর হলের সামনে চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের ৩য় শ্রেণির কর্মচারী মেজবাহ উদ্দিন লিটনের টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ ৯বছর যাবত ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাজা বিক্রি করে আসছিল। ঐ ঘর থেকে তাকে ডিবি পুলিশ ও মডেল থানা পুলিশ ডজনখানিক বার
ইয়াবা সহ আটক করে। সে হাপানিয়া তার সহযোগী সাদ্দামের কাছ থেকে ইয়াবা আনতে গেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। ২১ তারিখ রাত সাড়ে ১২টায় ডিবির এসআই ইসমাঈল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে লালদিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ২১ বোতল ফেন্সিডিল সহ মৃত ছাদেক আলীর পুত্র আলফু ছৈয়াল (৬০) কে আটক করে। ২০ তারিখ রাত্র সাড়ে ৯টায় শহরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৫ পিস ইয়াবা সহ জিটি রোডের সিরাজ চাপরাসি ছেলে মোস্তফা কামাল (৪২) কে আটক করেছে। একই দিনে রাত ৯টায় ১০নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের দক্ষিন রঘুনাথপুরের অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৬ কেজি গাজা সহ ফরিদ রাঢ়ীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) কে আটক করা হয়েছে। আটকৃতদের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে পৃথক ৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের এসআই ইসমাঈল খন্দকার জানায়, ডিবির ইতিহাসে এই প্রথম একই দিনে মাদকের ৪টি মামলা রুজু হয়েছে। এটা একমাত্র চাঁদপুর পুলিশ সুপার মহোদয়ের একান্ত ইচ্ছা ও চাঁদপুর জেলাকে ভয়াভব মাদকের মরণ ছোবল থেকে মুক্ত করার জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সততার ফল। তিনি মাঠ পর্যায়ে অফিসারদেরকে সাহস এবং যারা কাজ করে তাদেরকে ভালোবাসেন বলে কাজে অগ্রগতি সঞ্চালিত হচ্ছে। তাই পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশ প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রেতাদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। মাদক মুক্ত চাঁদপুর চাই আমরা সবাই বাঁচতে চাই এ স্লোগান দিয়ে সবাইকে এগিয়ে এসে মাদক নির্মুলে পুলিশের পাশে থেকে সহযোগীতা করতে হবে।
