অভিজিত রায় ॥
সারাদেশে ন্যাপ, কমিনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন, বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ২৩শ’ ৬৭জনের সনদ বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছরের গত ৫ নভেম্বর বুধবার প্রজ্ঞাপন জাড়ি করেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আর এই তালিকায় চাঁদপুর জেলার হেভী ওয়েট মুক্তিযোদ্ধাসহ মোট ৪২জন মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে জানাযায়।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানাযায়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০১২(২০০২সনের ৮নং আইন) এর (ঝ) ধারা মোতাবেক জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ১৩-১০-২০১৪তারিখে অনুষ্ঠিত ২৫তম সভার সুপারিশ অনুযায়ী ((Rulcs of Busincss 1996 এর Schcdulc-1 (Allocation of Busincss ) এর তালিকা ৪১এর ৬নং ক্রমিকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সারাদেশের ন্যাপ, কমিনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন, বিশেষ গেরিলা বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের ২৩শ’ ৬৭জনের নামে সনদ বাতিল কমেন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর ৪৮.০০.০০০০.০০৪.৩৭.১৪৯.২০১৩.৪৩৯, তারিখ ঃ ২২-০৭-২০১৩ মারফত ত্রুটিপূর্ণভাবে প্রকাশিত গেজেট বাতিল করে স্মারক নম্বর ৪৮.০০.০০০০.০০৪.৭৫.১০৫ (অংশ-২).২০১২-১৪৮৮ তারিখ ঃ ২৯-১০-২০১৪মারফত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত গেজেটের কপি পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, জেলা প্রশাসকসহ দেশের সকল উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পাঠিয়েছেন উপসবিচ মো. সলিমুল্লাহ।
চাঁদপুর জেলায় ৪২মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন। এরা হলেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক এবং শহরের কোড়ালিয়া রোডের মৃত হাজী পিয়ার আলী সরকারের পুত্র অ্যাড. ফজলুল হক সরকার, শহরের মেটারনেটী রোডের মৃত হরলাল সাহার পুত্র অজিত কুমার সাহা, চাঁদপুর জেলা ন্যাপের সভাপতি ও শহরের কোড়ালিয়া রোডের শহীদ আব্দুল মজিদ পাটওয়ারীর পুত্র আবুল কালাম পাটওয়ারী, চাঁদপুর জেলা কমিনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নের বাহের খলিশাঢুলীর প্রয়াত জিতেন্দ্র কুমার অধিকারীর পুত্র নীরোধ বরন অধিকারী, চাঁদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলার ছোট সুন্দর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ মিয়ার পুত্র শাহ আলম মিয়া, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কস্থ মৃত ধীরেশ্বর মজুমদারের পুত্র অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও শহরের আলিমপাড়ার মৃত অনুকুল দাসের পুত্র ব্রজ ভল্লব দাস, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাবুরহাট আমানলাহপুর গ্রামের মৃত মো. ছিটু খানের পুত্র মো. শহীদ উল্লাহ খান, শহরের পন্ডিতপাড়ার মো. আলী আকবরের পুত্র আবুল বাশার দুলাল, শহরের রেলওয়ে ফিটার রোডের মৃত নুরুল হক পাটওয়ারীর পুত্র মো. আমিনুল হক পাটওয়ারী, বাবুরহাট দাসাদী গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম মালের পুত্র মো. শহীদ উল্লাহ, সদর উপজেলার মহামায়া রং বলিয়া গ্রামের মৃত মানিক ঢালীর পুত্র মো. মতিন ঢালী, বাবুরহাট দাস্দী গ্রামের মো. ইউনুছ শেখের পুত্র শেখ আ. ঘাই, সদর উপজেলার আশিকাঠি গ্রামের শহীদ মোহাম্মদ খানের পুত্র মু. হাফিজ খান, বাবুরহাট শিলন্দীয়া গ্রামের মৃত জিতেন্দ্র চন্দ্র পালের পুত্র মিলন চন্দ্র পাল, সদর উপজেলার বাখরপুর গ্রামের মৃত রাধিকা মোহন মজুমদারের পুত্র বাসুদেব মজুমদার, শহরের কোড়ালিয়া রোডের অশ্বিন কুমার চ্যাটার্জীর পুত্র কালীপদ চ্যাটার্জী, সদর উপজেলার মহামায়া লোধের গাঁও গ্রামের মৃত আবদুল হামিদ খানের পুত্র মো. আনোয়ার উল্লা খান, সদর উপজেলার সাহতলী গ্রামের মো. মোখলেছুর রহমান খানের পুত্র এ বি এম ওয়াহিদুজ্জামান খান, সদর উপজেলার শিলন্দীয়া গ্রামের মৃত আ. ঘামিদ মিজির পুত্র মোখলেছুর রহমান, শহরের রেলওয়ে ফিডার রোডের মৃত নুরুল হক পাটওয়ারীর পুত্র মরহুম মাহবুবুল হক পাটওয়ারী, সদর উপজেলার ছোট সুন্দর গ্রামের মৃত হাছান আলীর পুত্র মরহুম মাওলানা আব্দুল লতিফ, শহরের কোড়ালিয়া রোডের মৃত সিরাজুর হক প্রধানের পুত্র মরহুম আনোয়ার হোসেন, একই এলাকার মৃত আ. এালেক মিজির পুত্র মরহুম আব্দুর রহমান, চাঁদপুর জেলার বাসিন্ধা পশ্চিম নাখাল পাড়া এলাকার ফয়েজ বখশ পাটওয়ারীর পুত্র মুহাম্মদ হিলাল উদ্দিন, হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মো. এমদাদুল হকের পুত্র মো. হারুন অর রশিদ, হাজীগঞ্জ উপজেলার ছয়চিলা গ্রামের মৃত চন্দ্র মোহন লোধের পুত্র হরি নারায়ন লোধ, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধনুয়া গ্রামের মো. কোব্বাধ খানের পুত্র এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান খান, ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্ধপুর গ্রামের শচীন্দ্র কুমার ভৌমিকের পুত্র সুশীতল চন্দ্র ভৌমিক, ফরিদগঞ্জ উপজেলার কটাতলী গ্রামের মৃত আহম্মদ উল্লার পুত্র এরশাদ হোসেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা সাইনকি সাইর গ্রামের রোহিনা কুমার কর্মকারের পুত্র প্রিয়তোষ কর্মকার, ফরিদগঞ্জ উপজেলার হর্নি পূর্গাপুর গ্রামের শহীদ আব্দুল মজিদ পাটওয়ারীর পুত্র আবুল কালাম আজাদ, ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম হাঁসা গ্রামের হাজী মো. ওয়ালী মিয়া পাটুয়ারীর পুত্র গোলাম মোস্তফা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সকদী রামপুর গ্রামের মৃত দীনেশ চন্দ্র বর্ম্মনের পুত্র রনজিত বর্ম্মন, মতলব আড়ৎবাজার ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের মরহুম মিন্নত আলী প্রধানিয়ার পুত্র শফিকুল ইসলাম, মতলব বাগানবাড়ী ইয়াবলী গ্রামের মৃত মিয়া আবদুল করিমের পুত্র মরহুম তাজুল ইসলাম, মতলব খাঁদেরগাঁও বেলতী গ্রামের মহিউদ্দিন ঢালীর পুত্র আবুল কালাম আজাদ, কচুয়া উপজেলার ওমর আলী প্রধানিয়ার পুত্র মো. আমিনুল হক, কচুয়া উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৌলভী আবুল মতিন খানের পুত্র উঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, কচুয়া উপজেলার কহলথুড়ী গ্রামের মৃত মৌলভী আবদুল মজিদ মজুমদারে পুত্র এ কে এম মজিবুল হক মজুমদার, কচুয়া উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র অলিউল্লা ও শহারাস্তি উপজেলার রায়শ্রী গ্রামের মৃত যজ্ঞেশ্বর মজুমদারের পুত্র অরুন চন্দ্র মজুমদার।
বিভিন্ন সূত্রে জানাযায়, ১৯৭১সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালে ন্যাপ, কমিনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহীনী তৈরী করে ভারতের আগরতলা তেজপুরে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ট্রেনিং হয়। সেই ট্রেনিংয়ে ন্যাপ, কমিনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের প্রায় তিনশতাধীক মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর্বে সেই তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা যোগ হয়ে দাড়ায় প্রায় ২৬শ’তে। এবছর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইতে সেই তালিকা থেকে সারা দেশে ২৩শ’ ৬৭জন মুক্তিযোদ্ধা প্রকাশিত গেজেট থেকে বাদ পড়েন।