
শাহরিয়ার খান কৌশিক :
চাঁদপুরে নির্বাচনের দিন ও নির্বাচন পরর্বতী সহিংসতায় হামলা ভাংচুর লুটপাট ও সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে অনেক নারী-পুরুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব লোদেরগাও গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন বাইতুল হামদ্ জামে মসজিদের সামনে বিএনপি সমর্থতিত নেতাকর্মীরা দেশী অস্ত্র নিয়ে চারটি দোকান ব্যপক ভাংচুর করে।
ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক সিদ্দিক শিকদার, নবীর হোসেন, সফিক বেপারী, হাসেম আলী জানায়, নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতায় ব্যপক ভাংচুর, লুটপাট ও হামলা ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। প্রতিপক্ষরা দোকান ভাংচুর চালিয়ে মসজিদের রক্ষিত ৬০হাজার টাকাসহ প্রায় নগদ দেড়লক্ষ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের হামলা চালিয়ে গুচ্ছগ্রাম এলাকার মানিক (৪৫), আঃ হামিদ (৫৫), কবির হোসেন (৩৮) ,সাইফুল ইসলাম (৬০), খোকন (২২), গুরতর আহত করেছে। তাদেরকে তাৎক্ষনিক সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আহতা জানায়, ৭নং ওয়ার্ডের চাপকল মার্কার মেম্বার প্রার্থী হাজী বাড়ী হাবিবুর রহমান হাবিব হাজীর নেতৃতে কাউছার, জুয়েল, বাসার, ওয়াসিম, আনিসসহ প্রায় শাতধিক সন্ত্রাসী অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে দোকান পাট ভাংচুর ও লুটপাট করে। দোকানের সামনে তারা যাদেরকে পেয়েছে তাদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। এছাড়া, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে কৃষ্ণপুর জোহরা কেন্দ্র দখল করতে গেলে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে বিএনপির সমর্থিত লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় একটি মোটর সাইকেল অগ্নীসংযোগের পর ভোটের দিন বিকেলে সাবেক চেয়ারম্যান কায়কবাদ আজাদ কাকনের বাড়ীতে হামলা চালায় বিএনপির লোকজন। তারা কায়কবাদ আজাদ চেয়ারম্যানের স্ত্রী শীরিন আক্তার ও তার বৃদ্ধা মা’সহ কয়েকজনকে আহত করে। বিএনপির সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ভয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা সরকার ক্ষমাতায় থাকা সত্বেও ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ক্ষতিগ্রস্থরা। এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দয়ের করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন পরর্বতী সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে দেড়শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এছাড়া শতাধিক নারী-পুরুষ ও যুবক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। ২৫০শয্যার হাসপাতালে এমনিতেই অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসা নিচেছ। তার মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার ২দিন দেড় শতাধিক নারী-পুরুষও যুবক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এখানে রোগীদের সিট না থাকায় ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচেছ। হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগি ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকরা হিমশিম ও বেগ পেতে হচেছ। রোগী ও তাদের ম্বজনদের উপস্থিতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ফ্লোরে রেখে রোগিদের চিকিৎসা দেওয়ায় হাসপাতালে চলাচলে বাধাগ্রস্থ হতে হচেছ।
চাঁদপুর সদরও হাইমচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিনন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থিদের সর্মথকদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় আড়াই শতাধিক লোক আহত হয়েছে।এদের মধ্যে শতাধিক লোককে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও দেড় শতাধিক ভর্তি রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৩১মার্চ চাঁদপুর সদর ও হাইমরের ১৮টি ইউনিয়নের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। সংষর্ষে হাইমচর, বিষ্ণুপৃর ,মৈশাদী,আশিকাঠি, কল্যানপুর, শাহমাহমুদপুর, রামপুর, তরপুরচন্ডী, বাগাদী, ইব্রাহিমপুর, চান্দ্রা, হানারচর, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের কর্মী ও সমর্থকরা নির্বাচন পরবর্তীতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ।
