
রফিকুল ইসলাম বাবু ঃ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় দুই সন্তানের জননী তানিয়া হত্যা মামলায় ৫ জনকে আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচার সালাহউদ্দিন আহমদ এই রায় প্রদান করেন। রায়ে সাজপ্রাপ্ত ৫ ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের সাজা দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে কচুয়া পৌর ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন, কামাল, জয়নাল হাজারী ও মিজান হোসেন কারাগারে এবং খোরশেদা বেগম পলাতক রয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রের উদ্বৃতি দিয়ে পিপি অ্যাড. আমান উল্যাহ জানান, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কোয়া এলাকায় আনোয়ার হোসেনের সাথে হাজীগঞ্জের তারাপাল্লা এলাকার আবুল কাশেমের মেয়ে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর আনোয়ার বিদেশ চলে যায়। এর মধ্যে তানিয়া কচুয়ার রাসেলের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায় স্বামী আনোয়ার বিষয়টি জেনে দেশে ফিরে আসে। এ নিয়ে তানিয়ার সাথে স্বামী আনোয়ারের বাকবিতন্ডা হয়। এরপর তানিয়া পরকীয়া প্রেমিক রাসেলের সাথে সিলেট চলে যায়। এই খবর পেয়ে কচুয়া পৌর ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহ আল মামুন সিলেট গিয়ে তানিয়া ও রাসেলকে এলাকায় নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর তানিয়ার স্বামী আনোয়ার ও কথিত প্রেমিক রাসেলকে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন কাউন্সিলর মামুন। এরপর মামুন তানিয়া শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে।এই ঘটনায় ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল তানিয়ার পিতা আবুল কাশেম বাদী হয়ে কচুয়া থানায় সাজাপ্রাপ্ত ৫ আসামিসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫/৬ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর ২০১৩ সালের ৩০ জুন কুমিল্লা থানার সিআইডি’র এসআই জামির হোসেন জিয়া চাঁদপুর আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত ১৭ জনের সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বৃহস্পতিবার এই রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাড. আমান উল্যাহ ও এপিপি অ্যাড. মুক্তার হোসেন অভি। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাড. হেলাল উদ্দিন ও অ্যাড. রেজাউল।
