চাঁদপুর জেলা কারাগারে তিল পরিমাণ স্থান নেই হাজতি ও কয়েদিদের চাপে। নির্ধারিত ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে বহু আগেই। হাজতির সংখ্যা বাড়তে থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অবস্থা চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত পুলিশের হাতে আটক বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ভিড়ে কারাগারে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কারাগারে যেমনি কয়েদি ও হাজতিদের থাকার স্থান সঙ্কট বাড়ছে তেমনি তাদের খাবার সরবরাহসহ দৈনন্দিন নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
চাঁদপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ২শ’ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কারাগারে বর্তমানে হাজতি ও কয়েদি মিলে আছেন মোট ৫৪১ জন। যা ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বেশি। প্রতিদিনই জেলার কোনো না কোনো উপজেলা থেকে গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন করে হাজতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের থাকতে হয় নানা সঙ্কটে।
২০১০ সালের ৫ সেপ্টেম্বরর চাঁদপুর জেলা কারাগার সম্পূর্ণ নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেছিল শহরতলীর আশিকাটিতে। শুরুতেই কারাগারে ধারণক্ষমতা নির্ধারণ করা হয় ২শ’ জনের। এর মাঝে পুরুষ ১৯০ জন, মহিলা ১০ জন। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রয়েছে পুরুষ ১২৪ জন, মহিলা ৬ জন। মোট কয়েদি ১৩০ জন। এছাড়া হাজতির সংখ্যা গতকাল ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরুষ ৪০৩ জন ও মহিলা ৮ জন। মোট হাজতি ৪১১ জন। হাজতিদের ৯০ ভাগই বর্তমানে ২০ দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতালে পুলিশের দায়েরকৃত একাধিক মামলাসহ সন্দেহভাজন হিসেবে আটক।
এদিকে, পাইকারি হারে আটক বিএনপি-জামায়াতসহ অনান্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগহ হত্যা মামলা ও হত্যার পরিকল্পনার মতো অভিযোগ থাকায় আটকের বিপরীতে আদালত থেকে জামিনের সংখ্যা কম হওয়ায় কারাগারে হাজতির সংখ্যা বেড়েই চলছে। এভাবে প্রতিদিনই পুলিশের হাতে রাজনৈতিক মামলায় আটক হাজতিদের পরিসংখ্যান বৃদ্ধি পেতে থাকলে হাট-বাজারকেও হার মানাবে। পাশাপশি কারাগারের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও বাড়বে কয়েকগুণ।
আটককৃতদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাজতি ও কয়েদিদের প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেয়া ও দৈনদিন গোসলসহ খাবারের বিড়ম্বনা বাড়ছে। ফলে এ সঙ্কট উত্তরণের রাস্তাও নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে। তবে কবে নাগাদ সমস্যার লাগব হবে তাও সংশ্লিষ্টদের কাছে উত্তর নেই। আটককৃত হাজতিদের বিপরীতে জামিনের সংখ্যা বাড়লেই কিছুটা কমে আসবে বলে মনে করেন হাজতিরা।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেলার আক্তার আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হাজতি ও কয়েদিদের পরিসংখ্যানে আমাদের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নেই। এমনকি খাদ্যসহ অন্যান্য সমস্যা নেই বললেই চলে। তিনি দাবি করেন, জেলা কারাগারটি উদ্বোধনের পর থেকে ২শ’ জন ধারণক্ষমতা নিয়ে যাত্রা করলেও এখানে ধারণক্ষমতা আরো বেশি। তার মতে, বর্তমানে একটি কম্পাউন্ডে হাজতি ও কয়েদিরা রয়েছে। আরো দুটি কম্পাউন্ড তালাবদ্ধ।
শিরোনাম:
সোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
চাঁদপুর নিউজ সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

