
শওকত আলী:
সমাজের দলিত সম্প্রদায় হিসেবে যারা পরিচিত সেই বেদে সম্প্রদায়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন ডাঃ দীপু মনি এমপি। তিনি চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ২২৩টি পরিবারের সহস্থাধিক বেদে সম্প্রদায়ের পুনর্বাসনে গুচ্ছগ্রাম করার সকল ব্যবস্থা গ্রহন করে যাচেছন।
এ দলিতরা জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে অত্যান্ত মানবেতরভাবে জীবনযাপন করে যাচেছ। এই বেদে সম্প্রদায়ের মানুষগুলো যাতে অন্তত ন্যূনতম নাগরিক অধিকার নিয়ে এ সমাজে বসবাস করতে পারে সে উদ্যোগ নিলেন চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী এলাকার পরপর দু’বারের সংসদ সদস্য, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক ডাঃ দীপু মনি। চাঁদপুর শহরের ডাকাতিয়ার পাড়ে এবং ডাকাতিয়া নদীতে ভাসমান অবস্থায় বসবাস করা বেদে পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের এ উদ্যোগ নিয়ে তাদের জন্য গুচছগ্রাম করার জন্য ডাঃ দীপু মনি জেলা প্রশাসককে ডিও পত্র পাঠিয়েছেন। তিনি এই পরিবারগুলোর জন্যে ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন সরকারি খাস ভূমিতে গুচ্ছগ্রাম করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প প্রস্তাব প্রাক্কলন করতে ডাঃ দীপু মনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসককে গতকাল ২৮জানুয়ারী একটি ডিও পত্র দিয়েছেন। আর এ কাজে সার্বক্ষণিক শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মোঃ হুমায়ুন কবির খান।
গত ২৩ জানুয়ারি সোমবার ডাঃ দীপু মনি এমপি চাঁদপুর শহরের চৌধুরীঘাট এলাকাস্থ ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বেদে পরিবারগুলোর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। তখন বেদে পরিবারের লোকজন তাদের জন্যে একটি আশ্রয়ন প্রকল্প করে দেয়ার জন্যে দাবি জানায় ডাঃ দীপু মনির কাছে। তারা যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে সে কথা বেদে নারী-পুরুষ তখন ডাঃ দীপু মনির কাছে তুলে ধরেন। তাদের এ দাবির যথার্থতা ও গুরুত্ব অনুধাবন করে ডাঃ দীপু মনি তাৎক্ষণিক এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে স্থানীয় কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির খান ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ানকে নির্দেশ দেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ পত্র পত্রিকায় প্রকাশের পর বিশেষ গুরুত্ব পায় বিষটি। ডাঃ দীপু মনির নির্দেশ পেয়েই কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির খান কাজ শুরু করেন। তিনি ঢাকায় গিয়েই ডাঃ দীপু মনি এমপির কাছ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবরে এ সংক্রান্ত ডিও পত্র নিয়ে আসেন।
কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির খান চাঁদপুর জানান, দীপু মনি এমপির নির্দেশনা পেয়ে আমি আমাদের মেয়র মহোদয়ের সাথে এ বিষয়ে কথা বলি। তিনিও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এরপর আমি ঢাকা গিয়ে আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য চাঁদপুরের উন্নয়নের রূপকার ডাঃ দীপু মনির কাছে যাই এবং এ ব্যাপারে ডিওর জন্যে তাঁর কাছে আবেদন করি। তিনি তাৎক্ষনিক জেলা প্রশাসক বরাবর ডিও পত্র দেন। ডিও পত্রে ডাঃ দীপু মনি উল্লেখ করেন, আমার নির্বাচনী এলাকাটি নদী ভাঙ্গন কবলিত হওয়ায় এখানে অসহায় ভূমিহীন ও ভাসমান লোকের সংখ্যা অনেক। নদী সিকস্তি এসব অসহায় ভূমিহীন পরিবার ও অস্থায়ীভাবে বসবাসরত বেদে পরিবারদের জন্যে চাঁদপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডস্থ ৫নং ঘাটের পূর্ব পাশে ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন সরকারি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ভূমি (যার দৈর্ঘ্য ৪৫০ ফুট প্রস্থ ৩২০ ফুট) এলাকায় একটি গুচ্ছগ্রাম করা হলে এখানে এসব পরিবারকে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে। বর্ণিত এলাকায় একটি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প প্রস্তাব প্রাক্কলন প্রস্তুত করে প্রকল্প পরিচালক, গুচ্ছগ্রাম, নীলক্ষেত, ঢাকা বরাবরে প্রস্তাব প্রেরণের জন্যে জনস্বার্থে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেন ডাঃ দীপু মনি। আর এ গুচ্ছগ্রামটি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক চাঁদপুরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী মরহুম সফিকুল ইসলাম খানের নামে করা হবে বলে ডাঃ দীপু মনি তাঁর ডিও পত্রে উল্লেখ করেন। কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির খান জানান, জেলা প্রশাসক ঢাকার রয়েছেন ইলিশ মেলা নিয়ে সেখান থেকে ফিরলেই তাঁকে এমপি মহোদয়ের ডিও পত্র পৌঁছিয়ে দেব । এ ছাড়া চাঁদপুর শহরের ৫নং ঘাট,১০নংঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে আরো কয়েক হাজার বেদে পরিবার রয়েছে তাদেরকে ও পর্যায় ক্রমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহন হবে।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর শহরে ডাকাতিয়ার পাড়ে এবং নদীতে নৌকায় ভাসমান অবস্থায় ২২৩টি বেদে পরিবারের সহস্থাধিক মানুষ বসবাস করে যাচেছ।
