মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও চরের মাটি কাটার দরুন
মিজানুর রহমান ॥
চাঁদপুরের মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও চরের মাটি কাটার দরুন ব্যাপক হারে চলছে বালুবাহী বাল্কহেড এবং ইটভাটার মাটি বহনের অসংখ্য ট্রলার। ফলে অনিরাপদ হয়ে ওঠেছে চাঁদপুর নৌ-সীমানা। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে দেশের দক্ষিনাঞ্চল,চাঁদপুর ও ঢাকা রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-নারায়নগঞ্জ রুটের পণ্যবাহী বিভিন্ন নৌ-যান। চাঁদপুর থেকে বরিশাল ও মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিরাপদ নৌ-পথের জন্য কোনো প্রদক্ষেপ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব বাল্কহেড ও মাটির ট্রলার যাতায়াত করছে। যত্রতত্র নদী সীমানায় চলাচল করায় ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুরের হাইমচর কাটাখালি,চাঁদপুর সদরের হরিনা,বহরিয়া,সাখুয়া,রাজরাজেশ^র কোড়ালিয়া চর, জাহাজমারা,লক্ষ্মীরচর এলাকায় প্রায় শতাধিক ড্রেজারে মেঘনা নদীতে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে। এ ছাড়া মতলব উত্তর ও মুন্সিগঞ্জ নৌ সীমানায় আছে আরো ৫০ ড্রেজার। এসব বালু উত্তোলন থেকেে মসরকার কোন রাজস্ব পাচ্ছে না বলে একটি সূত্র জানায়। এই বালু বহন করার কাজে ব্যবহার হচ্ছে বাল্কহেড জাহাজ। এদিকে ইটভাটা চালু হওয়ায় ঢাকা , মুন্সিগঞ্জ ও না’গঞ্জ এলাকার ইটভাটার জন্য চাঁদপুরের চর এলাকা থেকে বিপুল পরিমান মাটি কাটা হয়। সেই মাটি ইটভাটায় নিয়ে যাবার জন্য রাতের আঁধারে এবং দিনের সকালে অগণিত ট্রলার এবং অবৈধ বালুবহনের বাল্কহেড নদীতে চলাচল করছে। সেগুলো বেপরোয়াভাবে চলতে গিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করায় যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে যাওয়ার পথে দেখা মেলে এসব চিত্র। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অগণিত বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করছে নদীতে। চাঁদপুরের মেঘনার পশ্চিমে রাজরাজেশ্বর, মতলবের ষাটনল থেকে মুন্সীগঞ্জ সীমানা পর্যন্ত মাঝ নদীতে বাল্কহেডকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করতে দেখা যায়। চাঁদপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় এসব নৌযানের সঙ্গে যাত্রীবাহী লঞ্চের এবং পণ্য ও জ¦ালানি তেল এবং সিমমেন্ট বানানোর কাাঁচামাল কিলিংকার বহনকারী জাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে লঞ্চসহ নৌ-যান চলাচল করছে।
যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব বালুবাহী বাল্কহেড ও মাটি বহনকারী ট্রলারগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিআইডব্লিউটিএ। তাই এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে নদীপথে চলাচল করার অনুমতি পাচ্ছে।
অপরদিকে বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসন থেকে অভিযানের সময় জাহাজগুলোকে জরিমানা করলেও তারা আবার একই পন্থায় নদীতে চলাচল করছে। শীতকে সামনে রেখে এসব বালুর জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ না আনলে ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চ ও জাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
বিভিন্ন লঞ্চের চালকরা জানান, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা সীমানায় অসংখ্য বাল্কহেডের কারণে লঞ্চের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাতে চলাচল করার সময় এ ধরনের সমস্যায় বেশি পড়তে হচ্ছে। দেখা যায় নদীর মধ্যে যত্রতত্র বাল্কহেড নোঙর করে রাখায় বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, বাল্কহেড চলাচলের বিষয়টি নৌ-পরিবহন অধিদফতর দেখে থাকে। তাছাড়া জেলা প্রশাসনও মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে থাকে।
