চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (পবিস)-এর কার্যালয় থেকে ছোট বড় ৩৪টি ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পবিস কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করেছে। পবিসের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে এখনও চুরির মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। ঘটনার ১২দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে সনাক্ত করতে পারে নি।
পবিসের কার্যালয় ও থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের ভেতরে অভিযোগ কেন্দ্রের উত্তর পাশের খোলা আঙ্গিনায় (ওপেন ইয়ার্ড স্টোর) সমিতির পুরাতন, নষ্ট ও মেরামত অযোগ্য ট্রান্সফরমারসমূহ সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি সকাল সোয়া নয়টায় পবিসের স্টোর কিপার রেজাউল মান্নান এসব ট্রান্সফরমার পরিদর্শন করে ৩৪টি বিভিন্ন সাইজের ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরির বিষয়টির সন্ধান পান। চোরেরা এসব ট্রান্সফরমারের ঢাকনা খুলে কয়েল চুরি করে আবার ঢাকনা লাগিয়ে রেখেছে।
এ ঘটনায় পবিসের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোঃ ইউসুফ বাদী হয়ে অজ্ঞাত সংখ্যক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১ ফেব্রুয়ারি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজহারে চুরি হওয়া কয়েলের মূল্য দুই লাখ ৭৪ হাজার ৭২৫ টাকা দেখানো হয়েছে। মামলার এজাহারে চুরির তারিখ ২৩ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পবিসের মহাব্যবস্থাপক মোঃ ইউসুফ জানান, ঘটনার তদন্তের জন্যে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্যে এসেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন সঠিক না হওয়ায় তা জমা নেয়া হয় নি। ঘটনার সাথে কারা জড়িত এবং কার দায়িত্ব অবহেলার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কমিটিকে সেসব বিষয়ে স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মহাব্যবস্থাপক বলেন, চুরি হওয়া কয়েলের পরিমাণ ৬শ’ কেজির মতো। এসব মালামাল নিলামে বিক্রি করে টাকা সমিতির কোষাগারে জমা হওয়ার কথা। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের কাছ থেকে ওই টাকা আদায় করা হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শাহরাস্তি জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম মোঃ ছিদ্দিকুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন আরইবি প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলীর মোঃ ওমর ফারুক ও পবিসের জুনিয়র প্রকৌশলী মোতাহের হোসেন। মোতাহের হোসেন গতকাল রোববার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, আমরা মূলত নিরাপত্তার ঘাটতির দিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। ঘটনার জন্যে কাউকে দায়ী করা হয় নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ শামছুজ্জামান বলেন, ঘটনার সাথে সমিতির ভেতরের লোক জড়িত আছেন। কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না থাকলে সংরক্ষিত এলাকা থেকে এতোগুলো ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরির ঘটনা ঘটতে পারে না।
কার্যালয়ের ভেতরে মালামাল সংরক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সমিতির স্টোর কিপার রেজাউল মান্নান জানান, এতোগুলো ট্রান্সফরমারের কয়েল একদিনে চুরি হয় নি। মালামাল রাখার জায়গাটিতে স্থাপিত সড়ক বাতি চোরেরা ভেঙ্গে ফেলেছে। চোরের দল পরিকল্পনা করে এ চুরি করেছে।
তিনি বলেন, ৩০ জানুয়ারি পরিদর্শনে না গেলে চুরির ঘটনা সহজে জানা যেতো না। এক প্রশ্নের জবাবে, রেজাউল মান্নান তার দায়িত্ব অবহেলার কথা অস্বীকার করেছন।
