সর্বশেষ চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন হয়েছিলো ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে। তখন এ পৌরসভার আয়তন ছিলো মাত্র নয় বর্গ কিলোমিটার। আর বর্তমানে এর আয়তন ২২ বর্গ কিলোমিটার। ২০০৫ সালের নির্বাচনের সময় চাঁদপুর পৌরসভার মোট ভোটার ছিলো ৫৭ হাজার ৫শ’ ৬৪ জন, আর বর্তমানে মোট ভোটার হচ্ছে ১ লাখ ১ হাজার ১শ’ ২২ জন। সে সময় ভোট কেন্দ্র ছিলো ২১টি, আর এবার ভোট কেন্দ্র ৪৯টি। ২০০৫ সালের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। আর এবার মাত্র ২ জন। সে সময় লড়াই হয়েছে ত্রিমুখী। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে নাছির উদ্দিন আহম্মদ ১৮ হাজার ২শ’ ২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুর রহমান ভূঁইয়া পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৯ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা আক্তার হোসেন মাঝি পেয়েছেন ৪ হাজার ৫শ’ ৯২ ভোট। সে সময়কার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ৩৭ হাজার ৫শ’ ৩১, যার শতকরা হার ৬৫.২০%। কাস্টিং ভোটের মধ্যে নাছির উদ্দিন আহম্মদ পেয়েছেন শতকরা ৪৮.৫৫% এবং শফিকুর রহমান ভূঁইয়া পেয়েছেন ৩৭.৫৭%। আর মোট ভোটের শতকরা হারে নাছির উদ্দিন আহম্মদ পেয়েছেন ৩১.৬৬% এবং শফিকুর রহমান ভূঁইয়া পেয়েছেন ২৪.৪৯% ভোট।
চাঁদপুর পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যাকে যদি নতুনবাজার-পুরাণবাজার অংশে ভাগ করা হয় তাহলে এর বিভাজন সংখ্যা হচ্ছে এবার পুরাণবাজার অংশের পাঁচটি ওয়ার্ডে ভোটার ২৮ হাজার ৮শ’ ৪২, আর নতুনবাজার অংশের ১০টি ওয়ার্ডে ভোটার ৭২ হাজার ২শ’ ৮০। যা ২০০৫ সালে ছিলো পুরাণবাজার অংশের ছয়টি ওয়ার্ডে ১৮ হাজার ৪শ’ ১৯ এবং নতুনবাজার অংশের নয়টি ওয়ার্ডে ছিলো ৩৯ হাজার ১শ’ ৪৫ ভোটার। ২০০৫ সালের তুলনায় এবার ভোটার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। আর কেন্দ্র সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। ২০০৫ সালের নির্বাচনে নাছির উদ্দিন আহম্মদ ও শফিকুর রহমান ভূঁইয়ার প্রাপ্ত ভোটকে পুরাণবাজার ও নতুনবাজার অংশে ভাগ করলে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার গিয়ে দাঁড়ায়_ নাছির উদ্দিন আহম্মদ পুরাণবাজার অংশে পেয়েছেন শতকরা ৪২.৩৬্ব ভোট আর নতুনবাজার অংশে পেয়েছেন ২৬.৮০ ভাগ ভোট। অপরদিকে শফিকুর রহমান ভূঁইয়া পুরাণবাজার অংশে পেয়েছেন ২৩.৩১% ভোট আর নতুনবাজার অংশে পেয়েছেন ২৫.০৫% ভোট। ২০০৫ সালের নির্বাচনে নাছির উদ্দিন আহম্মদ ছিলেন নতুন মুখ। আর শফিকুর রহমান ভূঁইয়া ছিলেন রানিং চেয়ারম্যান। তারপরও নাছির উদ্দিন আহম্মদ নতুনবাজার-পুরাণবাজার উভয় অংশেই শফিক ভূঁইয়ার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। দীর্ঘ নয় বছর নাছির উদ্দিন আহম্মদ চেয়ারম্যান ও মেয়রের দায়িত্ব পালনের পর আবার সেই পুরানো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মাঝেই ভোট যুদ্ধ হচ্ছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘ নয় বছরে নাছির উদ্দিন আহম্মদের ব্যক্তি ইমেজ, পৌরসভার রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন, নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ইত্যাদি নানা সফলতার কারণে মেয়র প্রার্থী নাছির উদ্দিন আহম্মদ এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে আছেন। তাই পুরানো দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে ভোটের সেই ব্যবধান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটিই এখন দেখার বিষয়।

