
স্টাফ রিপোর্টার
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার নির্বাচন কমিশন বহুল আলোচিত, প্রত্যাশিত ও কাক্সিক্ষত চাঁদপুর পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই ১ মার্চ, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ১০ মার্চ, প্রতীক বরাদ্দ ১১ মার্চ, আর ২৯ মার্চ রোববার অনুষ্ঠিত হবে পৌরবাসীর কাক্সিক্ষত চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন। এই ঘোষিত তফসিল নিয়ে পৌরবাসীর মনে দেখা দিয়েছে সংশয় আর সন্দেহ। কেউ কেউ মনে করছেন এটা রাজনৈতিক কৌশল। আবার কেউ কেউ মনে করছেন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন হবে কি? আর এই সংশয়ের মূলে রয়েছে এর পূর্বেও ৩ দফায় পৌর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলেও বিভিন্ন আইনী জটিলতা, সীমানা নির্ধারণ, হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করার দাবি জানিয়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যক্তির রিট পিটিশন মামলা।
নির্বাচন কমিশন প্রথম দফায় তফসিল ঘোষণা করে ২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন ঘোষণা করে একই সনের ২১ ডিসেম্বর, আর তৃতীয় দফায় নির্বাচন ঘোষণা করে ২০১১ সালের ২৭ জুন। চতুর্থবারের ন্যায় নির্বাচন ঘোষণা করেন গেল ১৫ ফেব্রুয়ারি। সর্বশেষ গত ২৭ জুন ২০১১ সালে যখন তৃতীয় দফায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয় তখন মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন ৫ জন, সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ছিলেন ৯৪ জন, আর সংরক্ষিত মহিলা আসনে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন ২৮ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন না হওয়ায় তৃতীয় দফায় প্রার্থীরা অনেকটা নিশ্চিত হয়েই ভোটারদের কাছে গিয়েছেন এবং ভোট চেয়েছেন। নির্বাচনী ব্যয়ও করেছেন সানন্দে। কিন্তু তৃতীয়বারও যখন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী পৌর নির্বাচন হলো না, তখন বর্তমান পৌর পরিষদে যারা দায়িত্বে থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের কারো কারো মনে অজানা প্রাপ্তির আনন্দ দেখা দিলেও যারা পৌর পরিষদে পৌরবাসীর খেদমতের লক্ষ্যে নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন এবং ভোটারদের কাছে গিয়ে মা-মাসী-খালা-চাচা সম্বোধন করে মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিন-রাত নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করেছেন তাদের মাঝে দেখা দিয়েছিলো ক্ষোভ ও হতাশা। এই সকল প্রার্থীর অনেকেই বর্তমান ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। উৎসাহবোধ করছেন না সাধারণ ভোটারগণও। তাদের প্রশ্ন : বর্তমান ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী পৌর পরিষদের নির্বাচন হবে তো? নাকি বিগত দিনের ঘোষিত তফসিলের ন্যায় চতুর্থ বারের মতো নির্বাচন পিছিয়ে যাবে? নির্বাচন নিয়ে কিছু লোকের সংশয় থাকলেও পৌরসভার অধিকাংশ মানুষই মনে করছেন চতুর্থবার ঘোষিত তফসিলের তারিখেই নির্বাচন হবে। এবার আর নির্বাচন পেছানোর মতো তেমন কোনো সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌর পরিষদ, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকার কারণে এখানে রাজনৈতিক দলের কোনো মার্কা প্রাধান্য পায় না। নিয়ম অনুযায়ী অরাজনৈতিকভাবেই ব্যক্তি ইমেজের উপর ভিত্তি করে এ সকল পরিষদের নির্বাচন হয়ে থাকে। যদিও তা নিয়মের কথা, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এখন প্রতিটি নির্বাচনই রাজনীতি নির্ভর হয়ে পড়েছে। সে হিসেবে বর্তমান ঘোষিত পৌর নির্বাচনের তফসিল নিয়েও রয়েছে রাজনৈতিক দলের সমর্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে মুখরোচক মন্তব্য। কেউ কেউ মনে করেন চলমান রাজনীতির প্রেক্ষাপট বুঝেই হয়তো বর্তমান সময়ে নির্বাচনের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন নিয়ে এখনো মাঠে-ময়দানে তেমন কোনো আওয়াজ আলোচনা বা সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম শোনা না গেলেও হয়তো পরিস্থিতি হিসেব নিকেশ করে আর ক� দিন পরে নির্বাচনী মাঠে নিজেদের নাম প্রকাশ করবেন নতুন মুখের প্রার্থীরা। তবে বর্তমান পৌর পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কোনো কাউন্সিলর ইতিমধ্যে মানুষের সাথে সৌজন্য আলাপচারিতা বৃদ্ধি করে দিয়েছেন।
