
শওকত আলী:
চাঁদপুর মৎস্য আড়তে হঠাৎ করে গত কয়েকদিন যাবত প্রচুর ইলিশ আমদানী হচেছ। এ ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থান হতে শত-শত ক্রেতা ক্রয় করছে অনলাইনে। চাঁদপুরের মৎস্য ব্যবসায়ীরা ও এ অনলাইনে ইলিশ বিক্রি করতে পেরে আদন্দ ্উপভোগ করছে। মৎস্য ব্যাবসায়ীরা জানান, চাঁদপুর মৎস্য আড়তে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মন ইলিশ আমদানী হচেছ।
দেশের দক্ষিন এলাকা সাগরের ভাটি অঞ্চল থেকে এ ইলিশ আমদানী করে আনছে,শত-শত জেলে ও ব্যাবসায়ীরা। তারা দীর্ঘ দিন পরে ভর মৌসুমে ইলিশ আমদানী করতে পেরে তাদের মধ্যে আনন্দে জোয়ার বইছে। জেলে পাড়ায় ও জেলে পরিবারের মধ্যে প্রচুর আনন্দের বন্যা দেখা যাচেছ। বর্তমানে ইলিশের যে দাম তা”ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।
চাঁদপুর মৎস্য আড়তে প্রচুর ইলিশ আমদানীতে ব্যাবসায়ী,ক্রেতা,–বিক্রেতারা ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়ে আনন্দে মেতে উঠতে দেখা ঠতে দেখা যাচেছ।
সরোজনিনে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মৎস্য আড়তে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে যায়, দক্ষিন অঞ্চলের ভাটি এলাকা কুয়াকাটা,পাথরঘাটা,মহিবুল,বরিশাল,চরফেশান,সামরাজসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ সব ইলিশ আমদানী হচেছ। গত এক মাস যাবত ইলিশের ভর মৌসুম শুরু হলেও ইলিশ ধরা পরছিলনা, জেলে ও ব্যবসায়ীরা হতাশায় দিন কাটাচিছল। হঠাৎ করে গত ৩/৪ দিন যাবত প্রচুর ইলিশ আমদানী শুরু হয়েছে। যার ফলে ব্যবসায়ী ও জেলেদের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে। জেলেরা ইলিশ বিক্রি করে মহাজন ও দাদনদারদের ঋন পরিশোধ করতে পারবে বলে জেলেরা জানান। ব্যবসায়ীরা জানান,গত বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশের দাম অনেক কম। বর্তমানে ১ কেজি সাইজের ইলিশ ৩০/৩২ হাজার টাকা মন,প্রতি কেজি বিক্রি হচেছ,১১শ টাকা,৭/৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২৫/২৬ হাজার টাকা মন,প্রতি কেজি ৯শ টাকা। ৫/৬ গ্রামের ইলিশ ২২ হাজার টাকা মন,প্রতি কেজি ৫শ ৫০টাকা। ৪ শ গ্রামের ইলিশ ১৫ হাজার টাকা মন,প্রতি কেজি ৩শ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচেছ। এ ছাড়া চাঁদপুরে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে আশানুরুপ ইলিশ পাওয়া যাচেছ না। যা ও ধরা পড়ছে,তার দাম আকাশ চুম্মি প্রতি মন লোকাল ইলিশ ৫৫ হাজার টাকা মন,প্রতি কেজি ইলিশ ২ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, ৫শ,৬শ ও ৭শ গ্রামের ইলিশ আমদানী হচেছ সব চেয়ে বেশী। ব্যবসায়ীরা আরো জানান,গত বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশ আমদানী কম হলেও দাম কম। যার ফলে সাধারন ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে বাজার দর।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর মৎস্য বনিক সমবায় সমিতির লি: এর সভাপতি আবদুল খালেক মাল জানান, এখন ইলিশের ভর মৌসুম। গত বছর এ সময় প্রচুর ইলিশ ধরা পরেছে। এ বছর সে তুলনায় কম ধরা পরছে। তবে এ বছর ইলিশ ধরা পরতে শুরু করেছে, আগামী ভাদ্র মাসে প্রচুর ইলিশ ধরা পরার সম্বাবনা রয়েছে।
চাঁদপুর মৎস্য আড়তের মানিক ট্রেডার্সের বিশিস্ট ব্যবসায়ী বাবুল হাজী জানান, গত ৩/৪ দিন যাবত ইলিশের আমদানী বেশী হচেছ। এ পূর্বে আমদানী কম ছিল। এখন প্রতি দিন ২ হাজার মন ইলিশ আমদানী হচেছ। দাম ক্রেতার ক্রয় ক্ষয়তার মধ্যে। এখন সম্পূর্ন ভর মৌসুম। গত বছর ইলিশের আমদানী বেশী ছিল, এ বছর ইলিশ কম ধরা পরছে। এ সব ইলিশ চাঁদপুর ছাড়াও সিলেট মৌলুবী বাজার,ময়মনসিংহ,আবদুল্লাহপুর,ঢাকা কারন বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী করা হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে মৎস্য ব্যবসায়ী ছিদ্দিক আলীর সাথে কথা বললে সে জানান,চাঁদপুরের নদীতে ইলিশ ধরা পরছেনা। আমদানী কৃত ইলিশ কুয়াকাটা,পাথরঘাটা,মহিবুল,বরিশাল,চরফেশান,সামরাজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে। ইলিশের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক কম। গত এক সপ্তাহ আগে এ ইলিশ বিক্রি হয়েছে,৩৩হাজার টাকা মন। এখন বিক্রি হচেছ ২২হাজার টাকায়।
