স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে হকার্স মার্কেটটিতে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। মার্কেটের ভেতরের গলিপথ দিয়ে হাঁটা অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। গলিপথ অবৈধ দখলদারদের কবলে থাকায় মার্কেটটিতে শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই। ভাসমান দোকানদাররা প্রায় প্রতিটি গলিই দখল করে আছে। গলিপথে হরেক রকমের মালামালের পসরা সাজিয়ে দোকান দিয়ে ব্যবসা করছে। অথচ এর কোনো বৈধতা নেই। আর এভাবে গলিপথে দোকান দেয়ায় মানুষের হাঁটাচলার পথ অনেকটা রুদ্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া আরো রয়েছে বখাটে ও ছিঁচ্কে অপরাধীদের দিনরাত আড্ডা। এরাই বিভিন্ন সময় গ্রামের এবং দূর থেকে আসা নারী-পুরুষদের নানা জিনিস ছিনিয়ে নেয়। চাঁদপুর শহরের সবচে’ বড় এ মার্কেটটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করলেও এর প্রতিকারে কারোরই যেনো কোনো চিন্তা নেই। বলতে গেলে অভিভাবকহীন অবস্থায়ই আছে এ মার্কেটটি।
প্রায় সাড়ে তিন শ’ দোকান রয়েছে চাঁদপুর শহরের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে হকার্স মার্কেটটিতে। কাঁচা তরকারী ও মাছ ছাড়া সকল ধরনের পণ্য-সামগ্রীর দোকান রয়েছে এ মার্কেটটিতে। মার্কেটের ভেতরে সোজা দুটি গলিপথ ছাড়াও প্রত্যেকটি বস্নকের আশপাশে গলি রয়েছে। এর সুবিধাজনক দিক হলো, যে দিক দিয়েই যে কেউ মার্কেটের ভেতরে ঢুকবে পুরো মার্কেট ঘোরা যাবে এবং যে কোনো দোকানেই যাওয়া যাবে। চাঁদপুর শহর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা এমনকি পার্শ্ববর্তী জেলার অনেক মানুষ এ মার্কেটে আসে কেনাকাটা করতে। আর শহরের একেবারে মূল পয়েন্টে মার্কেটটির অবস্থান হওয়ায় এর সামনে দিয়েই অসংখ্য মানুষের যাতায়াত থাকে সবসময়। সাথেই রয়েছে রেলওয়ে কোর্ট স্টেশন। তাছাড়া লঞ্চযাত্রীরা চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নেমে শহরে আসতে এবং পূর্বাঞ্চলমুখী বিভিন্ন উপজেলায় যেতে হলে এই রেলওয়ে হকার্স মার্কেটের পাশ দিয়েই যেতে হয়। তাই অনেকে ট্রেন থেকে এবং লঞ্চ থেকে নেমে বাসাবাড়িতে যাওয়ার সময় প্রয়োজন মনে করলে হকার্স মার্কেট থেকে কেনাকাটা করে থাকেন। অর্থাৎ সবদিক বিবেচনায় মানুষের সবধরণের কেনাকাটার জন্যে রেলওয়ে হকার্স মার্কেটটি বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অথচ এ মার্কেটটির ভেতরে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে পারছে না। দেখা যায় যে, মার্কেটের ভেতরে প্রায় প্রতিটি গলিপথই অবৈধভাবে ভাসমান দোকানদারদের দখলে চলে গেছে। তারা বিভিন্ন মালামালের পসরা সাজিয়ে গলিপথ দখল করে দোকান দিয়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভাসমান দোকান কোনো কোনো মূল দোকান মালিক টাকার বিনিময়ে বসিয়েছে। আবার কেউ কেউ স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বসেছে। সরজমিনে দেখা যায়, মার্কেটের প্রায় মাঝ বরাবর ফিজা ফ্যাশনের সামনে লম্বা গলিপথ পুরোটাই দখল করে ‘১ থেকে ৯৯’ নামে একটি দোকান দিয়েছে কালাম নামে এক যুবক। এই দোকানে নারীদের ব্যবহার্য প্রসাধনী নানা পণ্য ও বাচ্চাদের খেলনা সামগ্রী বিক্রি করা হয়। আবার একটু সামনে এগুলে পায়েল ট্রেডার্স নামে ক্রোকারিজ দোকানের পাশের গলিতে ঝিলিক নামে একটি ভাসমান দোকান দিয়ে আছে মুরাদ নামে এক যুবক। এমনিভাবে প্রায় প্রতিটি বস্নকের আশপাশে গলিপথ দখল করে আছে ভাসমান দোকান দিয়ে। মার্কেটের ভেতরের গলিপথগুলো এভাবে অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় ক্রেতা সাধারণের হাঁটতে খুবই অসুবিধায় পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
এসব ভাসমান দোকানীর কাছে কীভাবে তারা গলিপথ দখল করে দোকান দিলো জানতে চাইলে তারা এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চায়নি। এদিকে এসব অবৈধ দোকানের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কেটের বেশ কিছু ব্যবসায়ী। তারা বলেন, আমরা দোকান কিনে আবার কেউ কেউ ভাড়া নিয়ে লাখ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা করছি। কোনো কোনো দোকানে কোটি টাকারও মালামাল রয়েছে। অথচ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে মার্কেটের গলিপথ দখল করে কিছু লোক ভাসমান দোকান দিয়ে ব্যবসা করছে। এতে আমরা মারাত্মক সমস্যা ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। মানুষের হাঁটাচলায় অসুবিধা হয় এবং ক্রেতারা আমাদের দোকানে ঠিকমতো আসতে পারছে না। অনেক চোরাই মালামালও ওইসব ভাসমান দোকানে বিক্রি হয়। তারা দাম কমের কথা বলে মানুষের সাথে প্রতারণা করে। এতে আমরা প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এসব বিশৃঙ্খলা দূর করতে আমরা মার্কেটের নেতাদের বহুবার বলেছি। কিন্তু কেউই কোনো কর্ণপাত করেনি। আর এসব বিশৃঙ্খল অবস্থা দূর করতে আমরা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সমিতির নির্বাচনের উদ্যোগ নেই। কিন্তু একটি সমস্যার কারণে নির্বাচনটি স্থগিত হয়ে যায়। তবে আশা করছি সহসাই নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন হবে। এদিকে মার্কেটের ভেতরে ও সামনে দিনরাত সবসময় কিছু বখাটে যুবক দিব্যি আড্ডা দেয়। তারা সুযোগ বুঝেই অপরিচিত নিরীহ নারী-পুরুষদের নানা সমস্যায় ফেলে। মাঝে মধ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনাও তারা ঘটায়। এসব বখাটের উপদ্রবে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। অনেক নারী ক্রেতাদেরও তারা উত্ত্যক্ত করে থাকে। এসব বিশৃঙ্খল অবস্থা দূর করতে ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
