
রফিকুল ইসলাম বাবু ঃ
চাঁদপুর শহরের চিত্রলেখার মোড়ে রয়েল হাসপাতালে কতৃপক্ষের অবহেলায় প্রসুতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে জানাযায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর বালিয়া এলাকার শরিফুল ইসলাম খানের স্ত্রী রেশমা বেগমের প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে প্রথমে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ সময় হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বিসমিল্লাহ ফার্মেসীর স্বত্তাধিকারী হাফেজ গোলদার জানায়, আজ শুক্রবার তাই সদর হাসপাতালে কোন ডাক্তার নাই, রোগীকে সিজার করানো যাবেনা তাকে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হবে। রোগীর স্বজনরা রোগীকে সিজার করানোর জন্য রয়েল হাসপাতালে না নিয়ে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য হাফেজ গোলদারকে অনুরোধ করে। কিন্তু গোলদার অনেকটা জোর পূর্বক তাদেরকে রয়েল হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়। দুপুর ২ টায় চাঁদপুর সরকারি সরকারি জেনারেল হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডাঃ ফাতেমা বেগম রোগীকে অপারেশন শেষে বাচ্চা প্রসব হলেও কিন্তু রোগী অচেতন অবস্থায় থাকে। অপারেশন শেষে ডাঃ ফতেমা চলে যাওয়ার পর কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার, নার্স সহ অন্যান্য কতৃপক্ষ এক এক করে পালিয়ে যায়। পরবর্তিতে রোগীর জ্ঞান না ফিরলে রোগীর স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পরে। এ সময় তারা হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স কাউকে তারা খুঁজে না পায়নি। পরবর্তিতে তারা জানতে পারে রোগী রেশমা মৃত্যু বরণ করে। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি তদন্ত মাহাবুব মোল্লা সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ সময় রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল ভাংচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ ও এলাকাবাসী তাদেরকে ভাংচুরের করতে দেয়নি। পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ডাঃ ফাতেমা বেগম জানান, আমি অপারেশন করে রোগীর বাচ্চা প্রসব হওয়ার পর চলে আসি। আমার সাথে এনেসথেসিয়া ডাঃ ইলিয়াছও ছিলো। পরবর্তিতে শুনছি রোগী মারা গেছে। রোগী আমার ভুলের কারনে রোগী মারা যায়নি। এখানে রোগীর জ্ঞান না ফিরার বিষয়টি সম্পূর্ন এনেসথেসিয়া ডাক্তারের বিষয়। তাছাড়া হাসপাতাল কতৃপক্ষ বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানাযায়। এদিকে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বিসমিল্লাহ ফার্মেসীর স্বত্তাধিকারী হাফেজ গোলদারের কাছে গেলে তার দোকান বন্ধ দেখতে পায়। এ হাসপাতালের বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়,প্রায় সময় চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাছাড়া হাসপাতালের পরিবেশ ও চিকিৎসা সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ বলে অনেকে জানান।
