চাঁদপুর শহরের ষাটটির মতো ঝুঁকিপূর্ণ ইমরাত চিহ্নিত করেছে চাঁদপুর পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ। এর মধ্যে অতিমাত্রায় ঝুঁকির কারণে পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ইমারতের মধ্যে রয়েছে আবাসিক, বাণিজ্যিক, অফিস, ব্যাংক, পোস্ট অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসবের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ, মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণের কারণে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এমন ভবনও রয়েছে। এগুলোর ব্যাপারে সহসাই সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন।
গত এপ্রিল মাসে ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর সারাদেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সকলে নড়েচড়ে বসে। শুরু হয় সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণে দৌড়ঝাঁপ। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণের জন্যে জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রধান করে একটি কমিটি করে দেন। এ কমিটিতে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এক মাসের মতো হয় এই কমিটি করা হয়। এর মধ্যে চাঁদপুর শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ইমারত চিহ্নিতকরণের কাজ সম্পন্ন হলেও জেলার অন্যান্য উপজেলায় এর খুব অগ্রগতি নেই। মাঝে মধ্যে দু’একটি উপজেলা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু জেলা প্রশাসকের করে দেয়া কমিটির কাজে চাঁদপুর পৌর এলাকা ছাড়া অন্য উপজেলায় তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
চাঁদপুর পৌর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ইমারত চিহ্নিতকরণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ করে কমিটির প্রধান গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জমা দেয়া হয়েছে। অত্যন্ত সুন্দর ও গোছানো ওই তালিকা থেকে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণে বেশ ক’টি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- স্বল্পমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ, মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও ব্যবহার করা হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা, অতিমাত্রায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, অতিমাত্রায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং পরিত্যক্ত ও ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও ব্যবহার করা হচ্ছে এমন দু’টি ভবন রয়েছে। এর একটি হচ্ছে চাঁদপুর শহরের সবচে’ বড় কাঁচাবাজার পাল বাজারের প্রধান প্রবেশ দ্বার সম্বলিত ভবন যেটির নাম হচ্ছে অন্নদা বাজার। এটির নির্মাণ বয়স হচ্ছে ১০৪ বছর। এই স্থাপনার বর্তমান মালিক হচ্ছেন ডাঃ আনোয়ারা হক। আরেকটি হচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভা ভবনের উত্তর পশ্চিম কোণে নাজমা মার্কেটের বিপরীতে। এটির নির্মাণ বয়স ১শ’ বছর। অতিমাত্রায় মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হচ্ছে ১৪টি। এই তালিকায় রয়েছে পুরাণবাজার পোস্ট অফিস। এই ভবনের নির্মাণ বয়স হচ্ছে ১শ’ বছর। এটির বর্তমান অবস্থা হচ্ছে জরাজীর্ণ, ইমারতের টেম্পারমেন্ট নেই, সিলিংয়ে ফাটল ধরেছে এবং ভেতরের রড বের হয়ে এসেছে। এটিতে এখনো কার্যক্রম চলছে। এছাড়া পুরাণবাজারের বাতাসা পট্টি ও ডাইল পট্টিতে আরো অনেক অতিমাত্রায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ইমারত রয়েছে, যেগুলোর বয়স কোনোটির ১শ’ বছর কোনোটির ৮০ বছর। এগুলো ভয়াবহ অবস্থায় আছে। পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে পুরাণবাজারের নিতাইগঞ্জস্থ রমনী মোহন রোডের চারটি ভবন। এই ভবন চারটি বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের বিটিসিএল-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পুরাণবাজারস্থ পরিত্যক্ত কার্যালয়। এ ভবনগুলোতে বিটিসিএল-এর অফিসিয়াল কার্যক্রম না থাকলেও স্টাফদের অনেকে বসবাস করেন। এ ভবনগুলোর নির্মাণ বয়স হচ্ছে ৬০ বছর। বর্তমান অবস্থা হচ্ছে জরাজীর্ণ, ইমারতের টেম্পারমেন্ট নেই, এমনকি ইমারতটি দেখলে মনে হবে যেনো এটি একটি ধ্বংসস্তূপ। এমনিভাবে আরো বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন হিসেবে চিহ্নিত করেছে চাঁদপুর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এর মধ্যে অনেকগুলো এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো থেকে স্থাপনা ও মানুষজন সরিয়ে ফেলে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা তালিকা পেয়েছি। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। যে ক’টি বন্ধ করে দেয়া দরকার সেগুলো বন্ধ করে দেবো। আর যেগুলোকে নোটিস করার দরকার সেগুলোকে নোটিস করবো।
এ ব্যাপারে জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চাঁদপুর শহর ছাড়া অন্য উপজেলা থেকে এখনো এ ধরনের কোনো তালিকা আসেনি।
