চাঁদপুর নিউজ রিপোর্ট
চাঁদপুর শহরে সম্প্রতি একের পর এক চুরির ঘটনায় শহরবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে সবসময়ই চুরি হচ্ছে। রাতের বেলা ক’টি চুরির ঘটনা ঘটার পর রাতে পুলিশি টহল বাড়ানোয় এখন চুরি রাতে হচ্ছে না, এখন হচ্ছে দিনে। একদিনের ব্যবধানে শহরের গুয়াখোলা এবং কদমতলা এলাকায় দিনের বেলা চুরির ঘটনা ঘটলো। প্রত্যেকটি চুরির ঘটনাই দুর্ধর্ষ। চোরের দল স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও ওজনে হালকা মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন ল্যাপটপ, দামী মোবাইল সেট, ক্যামেরা এসব নিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র সুপরিকল্পিতভাবে পর পর এসব চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে।
গত ৪ মে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে চাঁদপুর শহরে বড় ধরনের ২টি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। একই সময় একই কায়দায় পাশাপাশি দুটি ফ্ল্যাটে ওই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কস্থ অ্যাডঃ হারুনুর রশিদের মালিকানাধীন মুক্তা ভিলার ৩য় তলায় এবং পাশেই ব্যবসায়ী রশিদের ২য় তলায় বুধবার গভীর রাতে চোরের দল জানালার গ্রীল কেটে ভেতরে ঢুকে ঘরের সদস্যদের চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে অচেতন করে ফেলে। তখন তারা এই দু’টি ঘরের স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান সব মালামাল নিয়ে যায়। এ দু পরিবারের পাঁচজন সদস্য অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদিকে গতকাল রাত ৯টায় এ সংবাদটি লিখার মুহূর্তে এ প্রতিবেদকের কাছে সংবাদ আসে, আজো (গতকাল) শহরে চুরি হয়েছে। জানা গেছে, গতকাল বিকেলে শহরের ট্রাক ঘাটস্থ সাবেক ম্যাচ ফ্যাক্টরী এলাকায় জনৈক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান খোকনের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল এ বাসা থেকেও স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
৪ মে’র ঘটনার ২ দিন পর ৭ মে বিকেলে চাঁদপুর শহরের পশ্চিম বিষ্ণুদী রোডস্থ মাতাব্বর বাড়ি এলাকায় জয়নাল মাতাব্বরের বসতঘরের জানালা ভেঙ্গে প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এর ক’দিন পর গত ১২ মে দুপুরে শহরের গুয়াখোলায় জনতা সু স্টোরের মালিকের বাসার ৩য় তলায় ভাড়াটিয়ার বাসায় তালা ভেঙ্গে চোরের দল ৬ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এর একদিন পর ১৪ মে দুপুরে চাঁদপুর শহরের কদমতলা এলাকায় অ্যাডঃ এমএ গফুরের বিল্ডিংয়ের নিচতলায় ভাড়াটিয়ার বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি হয়। এ বাসারও দরজার তালা কেটে চোরের দল স্বর্ণ ও নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা নিয়ে যায়। রাত পোহাতেই আবার গতকাল ১৫ মে শহরের ট্রাকঘাট এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটে। এসব চুরির ঘটনা ছাড়াও পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে তো ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহই ঘটছে। নারীদের গলা থেকে সোনার চেইন, হাত থেকে আংটি, দামী মোবাইল সেট ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে নিয়ে যায় ছিঁচ্কে ছিনতাইকারীরা।
দেখা গেছে যে, মে মাসের অর্ধেক সময়ের মধ্যেই চাঁদপুর শহরেই বড় ধরনের পাঁচটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটলো। তাও যেগুলো সংবাদকর্মী এবং থানা পুলিশ জানে তা এ হিসেবের মধ্যে এসেছে। এমন আরো কিছু ছোটখাটো চুরির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। যা উট্কো ঝামেলার আশঙ্কায় থানা পুলিশ বা সাংবাদিককে জানানো হয় নি। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।
এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় শহরবাসী আতঙ্কিত ও ভীত সন্ত্রস্ত। প্রত্যেকটি চুরির ঘটনা একই ধরনের এবং পরিকল্পিত। ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ একাধিক চোরের দল শহরে অবস্থান করে একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে। আর এ শহরের কিছু দুষ্কৃতকারীও হয়ত তাদের শেল্টার অথবা মদদ দিচ্ছে। এসব চুরির ঘটনায় প্রায় সবগুলোরই থানায় মামলা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কাউকে আটক বা লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গতকাল রাতে এ বিষয়ে কথা হয় চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদের সাথে। তিনি জানান, ওই সব চুরির ঘটনায় থানায় বেশ কটি মামলা হয়েছে। এখনো কাউকে আটক করা বা লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। রাতে চুরির ঘটনার পর আমরা রাতে পুলিশি টহল জোরদার করায় এখন চুরির ঘটনা রাতে ঘটছে না, এখন ঘটছে দিনে। এ ব্যাপারে কী করা যায় সে চিন্তা-ভাবনাও চলছে। তবে মানুষের সচেতন হতে হবে। অপরিচিত কারো আনাগোনা দেখলে তাদের নজরে রাখতে হবে। আর বাসা তালা দিয়ে কোথাও যাওয়ার সময় আশপাশের বাসিন্দাদের বলে যাওয়া উচিত।
এ বিষয়ে রাতে কথা হয় পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের সাথে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরাও উদ্বিগ্ন। শহরে দিনে রাতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। আর সামাজিক সচেতনতার জন্যে কী করা যায় সে লক্ষ্যে ২/১ দিনের মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করবো।
