শওকত আলী,
চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার অংশে হরিসভা এলাকায় মেঘনার ভয়াভহ ভাঙনে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ও বিকেল পর্যন্ত ১শ বর্গ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ২শ বর্গ মিটার এলাকায় বিশাল ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গণ কবলিত এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক সিসি ব্লক ও জিইও টেক্সটাইল বালি ভর্তি ব্যাগ প্রচন্ড স্রোতের তোরে নদীতে তলিয়ে ভেসে গেছে বলে পাউবো উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান। মঙ্গলবার বিকেল ৬ টা থেকে ভাঙ্গন কবলিত স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর হাইমচর এলাকা থেকে সিসি ব্লক ও জিইও টেক্সটাইল ব্যাগ নদীতে নিক্ষেপ করছে। সোমবার গভীর রাত থেকে ভাঙ্গন শুরু হয় মুহুর্তের মধ্যে শত শত এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙ্গন কবলিত স্থানের ১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় তারা এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছে। এলাকাবাসী ওই
এলাকার শহর রক্ষা বাঁধের কাছ থেকে তাদের ঘরবাড়ি খুলে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন ও স্থানীয় কর্মাকর্তারা মঙ্গলবার দুপুরে ভাঙ্গন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। ভাঙ্গন কবলিত স্থানে পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুব মোল্লা ও চাঁদপুর মডেল থানার এসআই নুরুল হকসহ অসংখ্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভাঙনের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহম্মেদ এবং পানি উন্নয়নের স্থানীয় কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে, হরিসভা এলাকায় মেঘনার ভাঙন শুরু হওয়ায় আশপাশের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা ঘর থেকে মালামাল সরাতে শুরু করেছে। এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হয়ে যেতে পারে মন্দির এলাকার শত শত ঘরবাড়ি, পুরাণবাজারের শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ও অসংখ্য স্থাপনা। গত কায়েক দিনের নদীর পানি হঠাৎ কমতে থাকায় এবং ওই এলাকায় প্রবল ঘুর্নাবর্ত দেখা দেওয়ায় গভীর রাতে এ ভয়াভহ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। পাউবো কর্মকর্তারা দুপুরে ভাঙ্গন স্থান মাপ জরীপের মাধ্যমে সার্ভে করে সার্বিক পরিস্থিতি লিপিবদ্ধ করেন এবং সে অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকাল ৬ টা থেকে ভাঙ্গন স্থানে সিসি ব্লক ও জিইও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। মেঘনার ভয়াভহ ভাঙ্গনের হাত থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরাণবাজার হরিসভা মন্দির এলাকা রক্ষায় সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
মেঘনার সর্বনাশার ভাঙ্গনের হাত থেকে পুরাণবাজার হরিসভা মন্দির এলাকা ও আশ পাশের মানুষকে রক্ষায় জরুরী পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই চাঁদপুরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে আসঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিক উল্যা জানান, উজানের তীব্র পানির চাপে ভাঙনের তীব্রতা আরো ব্যাপক হতে পারে, তাই জরুলিভিত্তিতে সিসি ব্লক ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

