জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষন স্মার্ট কার্ড বিতরণে দলীয় হস্তক্ষেপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি
মোঃনাজমুল হাসান বাঁধন॥ গত ৮ আগস্ট চাঁদপুর সদর উপজেলা পর্যায়ে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ৯ আগস্ট থেকে মাঠ পর্যায়ে তথা চাঁদপুর পৌর ১নং ওয়ার্ড থেকে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার লোকের স্মার্ট কার্ড বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের ১ জন টিম লিডার, ১৫জন কম্পিউটার অপারেটর এবং ১১ জন সহযোগী অপারেটর রয়েছে। প্রতিদিন এত মানুষের কার্ড বিতরণের স্বাভাবিকভাবেই হিমশীম খেতে হয় স্মার্ট কার্ড বিতরণের দায়িত্বে থাকা টিমকে। কিন্তু এরমধ্যে আবার দলীয় প্রভাবের কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণ জনগন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে তাদের স্মার্ট কার্ড নিতে পারছে না কতিপয় লোকের দলীয় প্রভাবের কারণে। দলীয় লোক পরিচয়দানকারীদের থামাতেও বেগ পোহাতে হচ্ছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা খোদ পুলিশ প্রশাসনকে। বর্তমানে পৌর ওয়ার্ডগুলোতে স্মার্ট কার্ড বিতরণ হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত ৪টি ওয়ার্ডে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এবং নিজেকে দলীয় লোক পরিচয় দিয়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অপারেটরদের সার্চিং রুমে গিয়ে তাদের নিজস্ব লোকদের কার্ডগুলো আগে দেয়ার জন্য বলতে থাকে। অপারেটর কিংবা সহযোগী অপারেটররা দু’ একবার তাদের আবদার রক্ষা করলেও তারা মিনিটে মিনিটেই ১০/১৫জনের কার্ড নিয়ে হাজির হচ্ছে। বাঁধা দিতে গেলেই নিজেকে ওয়ার্ড যুবলীগের অমুক নেতা, ছাত্রলীগের তমুক নেতা দাবি করে। এ সমস্যা নিয়ে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গতকাল ১৬ আগস্ট সরেজমিনে ৪নং ওয়ার্ড ৩নং বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ জনগন সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। আর যারা কেন্দ্রে উপস্থিতই হননি এইরকম অনেক লোকের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে অপারেটরতের কাছে গিয়ে স্লীপ দিতে বলে। অপারেটররা অপরাগতা প্রকাশ করলে তখন নিজেকে দলীয় নামধারী পরিচয় দেয়। তখন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতে এড়াতে বাধ্য হয়ে অপারেটররা তাদেরকে স্লীপ দিয়ে দেয়। তারা স্লীপ নিয়ে ফিংগার প্রিন্ট দিতে গেলেও সেখানেও লাইন না মেনে আগেই নিতে যায় এবং দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে। সর্বশেষ স্মার্ট কার্ড বিতরণেও একইভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজেই না আসা ব্যক্তিদের আইডি কার্ড নিয়ে অপারেটর রুমে বার বার প্রবেশ করে স্লীপ নিয়ে যায়। কিন্তু লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিরা হা করে দাঁড়িয়েই থাকে। কাউন্সিলরদের কার্যকলাপ দেখে মনে হয় যাদের স্লীপ তিনি নিয়ে আসেন শুধুমাত্র তারাই তাকে ভোট দিয়ে পাস করিয়েছেন। কাউন্সিলরের দেখা দেখি ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান ও সেক্রেটারী মুরাদ, ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়দানকারী পারভেজ মুন্সী, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি, পদবীহীন নেতা রাসেলসহ প্রায় ৬/৮ জন। আবার কিছু নামধারী নেতা আছে যারা অপারেটরদের সহযোগিতা করার কথা বলে সাথে থাকে কিন্তু সহযোগিতা তারা নিজেদেরই করে। নির্বাচন কমিশন তাদের পর্যাপ্ত লোক নিয়োগ দেয়া সত্ত্বেও বাইরের কোন লোকের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। যারা সহযোগিতা করতে চায় তারা সাধারণ জনগন যাতে সুষ্ঠুভাবে নিতে পারে সেই ব্যবস্থা না করে নিজেদের চিন্তাই করে। তখন জনগন থেকে গালি শুনতে হয় অপারেটরদের। আর এই নাম পদবী ধারী দলীয় ব্যক্তিদের ঠেকাতে হিমশিম খায় খোদ পুলিশ প্রশাসনের লোক। তারা বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও কাউকে তোয়াক্কাই করছে না। দলীয় পদবী এবং নাম পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের কারণে অনেক সাধারণ ও নিরীহ মানুষ স্মার্ট কার্ড নিতে না পেরে ফেরত যায়। এদিকে এতকিছুর পরও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা ছিলো প্রশংসনীয়। পুলিশের এসআই পলাশ, কনস্টেবল তাহমিনা ও নাছরিনসহ অন্যান্যদের নিরলস পরিশ্রমে স্মার্ট কার্ড বিতরণ সুষ্ঠুভাবে চললেও দলীয় পরিচয়দানকারীদের ভূমিকা ছিলো নিন্দনীয়। তাই স্মার্ট কার্ড বিতরণ সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে বিতরণের লক্ষ্যে দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল পাটোয়ারীর দৃষ্টি আকর্ষন করছে চাঁদপুরের সাধারণ জনগন।
