
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অফিস সহকারি কর্তৃক সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র ষ্টাফ নার্সদের কাছ থেকে অফিসিয়াল কাজের বরাত দিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের প্রধান করনিক সফিউল ইসলামকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বিষয়টি না জানার ভান করে এড়িয়ে যান।
জানাযায়, বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্যসেবা খাতে উন্নয়নের লক্ষে ইতি মধ্যে ব্যপক পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। সে লক্ষে সারা দেশে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ন্যায় চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ১৪৭ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সকে নিয়োগ দেয়। গত ১৫ জানুয়ারী নিয়োগ প্রাপ্তির পর তারা এ হাসপাতালে যোগদান করে। যোগদানের পর থেকে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি নানা ভাবে অর্থ আদায় করার পায়তারা শুরু করে অফিস সহকারি ফারুকুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট একটি চক্র। এ চক্রটির নের্তৃত্বে থাকা অফিস সহকারি ফারুকুল ইসলাম নানা কাজের বরাত দিয়ে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের কাছ থেকে গত ১ মাস পুর্বে জনপ্রতি ২১০০ টাকা করে আদায় করে। যোগদানকৃত নার্সরা সকলে মিলে অসহায়ের মতো হয়ে প্রায় লাখ খানেকের মতো (৯৮৭০০) পরিমান নগদ অর্থ ফারুকের হাতে তুলে দেয়। এতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি ফারুকুৃল ও সিন্ডিকেট চক্ররা । ইতিমধ্যে তারা ২য় ধাপে পুলিশ ভেরিভিশনের নামে আরো ৩ থেকে ৫ শ টাকা করে জন প্রতি আদায় করার জন্য আগাম বার্তা দিয়ে হুশিয়ারি দিয়েছে বলেও সুত্র থেকে জানাযায়। এ বিষয়ে আলাপকালে নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স অর্চনা, আছমা সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমরা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৭ জন সকলে জনপ্রতি ২১শ টাকা করে একত্রে উঠিয়ে অফিস সহকারি ফারুকুল ভাইয়ের কাছে জমা দিয়েছি। এ টাকা তিনি আইডি কার্ড প্রদান ও অনলাইনে আমাদের কাগজপত্র পাঠাবেন বলে জানিয়ে নিয়েছেন।
অফিস সহকারি ফারুকুল জানায়, তিনি আইডি কার্ড প্রদান ও বিভিন্ন কাগজ পত্র ঠিক করে দিতে হবে তাই এ টাকা নিয়েছে। তিনি এ বিষয়ে এর বেশি কিছু জানেনা। যা কিছু হেডক্লার্ক জানে।
অফিস সহকারি ফারুকুলের সাথে আলাপকালে সে সময় তার কক্ষে প্রবেশ করে সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স নিপা রাণি ও আরেকজন। ফারুকুলের সামনে তাদের কাছ থেকে নেওয়া ২১শ টাকার কথা জানতে চাইলে তারা বিষয়টির সত্যতা স্বিকার করেন। এবং তাদেরকে এ টাকার জন্য কোন প্রকার মানি রিসিট দেওয়া হয়না বলেও তারা জানায়। তারাও আইডি কার্ড প্রদান ও অনলাইনে আমাদের কাগজপত্র পাঠাবেন বলে টাকা নিয়েছে বলে জানায়। এদিকে নিপা রাণি ও তার সহকর্মীর সাথে আলাপের একপর্যায়ে অফিসসহকারি ফারুকুল উঠে হেডক্লার্কের কক্ষে চলে যায়।
প্রধান করনিক ( হেডক্লার্ক) সফিউল ইসলাম জানান, আমিতো বিষয়টি জানিনা। আর এরকম টাকা নেওয়ার বিধান নেই। তিনি কিছুটা চুপ থেকে এক পর্যায় দম্ভোক্তি সূরে বলেন, যা কিছু লিখেন গিয়ে কিছুই হবেনা।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে গত ১ বছরের চিত্রে দেখা যায়, হাসপাতালে মূল্যবান আসবাবপত্র ও ওষুধ অন্যত্র বিক্রিকালে হাতে নাতে আটক হয়েছে, অফিস চলাকালে হাসপাতালে ডাক্তার কর্তৃক প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখার অজ¯্র প্রমান, নিয়মিত টাইম ম্যান্টেন না করা, হাসপাতালে চেয়ারে বসে রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট নেওয়া সহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অন্যায়ের চিত্র মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেলেও তাতে কর্মকর্তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা একের পর এক তাদের রাম রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভাবে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।
শিরোনাম:
বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
