প্রতিনিধি
জিহাদ উদ্ধার অভিযান চলার সময় আমাদের পরিকল্পনার কথা সেখানে দায়িত্ব পালনকারী ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানালে তারা বলেছিলেন, ‘ওয়াসার ৩০০ কোটি টাকার ক্যামেরা দিয়ে যা সম্ভব হচ্ছে না, সেটা তোমরা কীভাবে করবে? এখান থেকে তোমরা চলে যাও।’ এভাবে উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার আগে প্রাথমিক প্রতিবন্ধকতার কথা জানান সাড়ে ৩ বছরের জিহাদকে উদ্ধারকারী দলের অন্যতম সদস্য মোঃ কবির মুরাদ ভূইয়া। তিনি বলেন, পরে খিলগাঁও বাজার কমিটির এক বড় ভাইকে আমাদের পরিকল্পনার কথা জানালে তিনি তা কার্যকরের ব্যবস্থা করে দেন।
আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইউএসটি) টেক্সটাইল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কবির মুরাদ রোববার বিকালে তেজগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এএমএম সফিউল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাজী শরীফুল ইসলাম, ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা অধাপক ড. এম আবুল হোসেন, টেঙ্টাইল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কবির মুরাদ জানান, রাত ৮টার দিকে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে এতটাই ভিড় ছিল যে, কেউ কারও কথা শুনছিলেন না। আমার এক বন্ধু আনোয়ার হোসেন তখন ফোন দেন। সিসি ক্যামেরা ব্যবসায়ী আনোয়ার ফোনে জানান, তার কাছে অনেক ক্যামেরা আছে। এর যে কোনো একটি দিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো যেতে পারে। আমি বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানালে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে খিলগাঁও বাজার কমিটির এক বড় ভাইকে জানালে তিনি ব্যবস্থা করে দেন।
কবির মুরাদ বলেন, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণার পর আমাদের সুযোগ দেয়া হয়। এর আগে রাতেই আমি, বন্ধু ও স্থানীয় কয়েক ছোট ভাইয়ের সহায়তায় আমরা কাজ শুরু করি। আমাদের সঙ্গে ছিল প্রায় ৯০০ ফুট রশি, একটি সিসি ক্যামেরা ও একটি মনিটর। পরে সিসি ক্যামেরাটি রশির সঙ্গে সংযুক্ত করে ১৫ থেকে ২০ বার পাইপের নিচে ফেলি। তবে প্রতিবারই মনিটরে ফোম জাতীয় কিছু বস্তু ভেসে উঠছিল। এক পর্যায়ে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেলেও আশা ছাড়িনি। সকালে আমরা লোহার খাঁচা বানানোর সিদ্ধান্ত নিই। কয়েক ধরনের খাঁচা বানিয়ে নিচে ফেলি। সর্বশেষ একটি খাঁচার মাধ্যমে জিহাদকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, সর্বশেষ ফেলা খাঁচাটি প্রায় ২৩৪ ফুট নিচে যাওয়ার পর মনিটরে ফোম জাতীয় কিছু বস্তু ভেসে ওঠে। ওই বস্তুগুলো ভেদ করলে এর ঠিক নিচেই জিহাদের দেহের সঙ্গে খাঁচাটি খাপ খেয়ে যায়।
ভিসি অধ্যাপক ড. এএমএম সফিউল্লাহ বলেন, মানুষের জীবনে বিপদ আসতে পারে। এ বিপদকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় আমাদের এক শিক্ষার্থী যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে এ ধরনের কাজে উৎসাহ জোগাবে।
সূত্র –আলোকিত বাংলাদেশ ২৯/১২/১৪
