মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জোড়পুল, বদরপুর, কাশিমপুর ও দৌলতপুর গ্রামে হঠাৎ টর্নেডোর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল রোববার ভোরবেলা ফজরের নামাজের কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ আসা টর্নেডোটি ওই চার গ্রাম ছাড়াও আশপাশের বেশ কটি গ্রামে আঘাত হানে।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বদরপুর গ্রামের ওএস দাখিল মাদ্রাসার একটি টিনের ঘর সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। এর পাশের সেমি-পাকা ঘরের টিনের চাল উড়ে বহু দূরে গাছের মগঢালে ঝুলে রয়েছে। এলাকার শাহ আলম পাটোয়ারী বাড়ির টিনশেড ঘরের চাল কোথায় যেনো হারিয়ে গেছে টর্নেডোর আঘাতে। এই এলাকার শতাধিক গাছ ও গাছের ডাল ভেঙ্গে আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।
কাশিমপুর গ্রামের সফিউল্লা খানের উপর যেনো টর্নেডোটি চড়াও হয়েছে বলে মনে হয়। তার মুরগির খামারের ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে রয়েছে। সেই সাথে মাছের ঘের ভেঙ্গে লক্ষাধিক টাকার মাছ চলে যায়। জোড়পুল বাজারে থাকা দোকানটি ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে খালে। এতে তার বিশাল অংকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া জোড়পুর বাজারে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের এবং শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের ক্লাব ঘরটিও সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। বাজারের ফারুকের মালিকানাধীন চারটি দোকান ঘরের চাল উড়ে গেছে টর্নেডোর আঘাতে। এতে ওই চার দোকানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ঘর মালিক।
দৌলতপুর গ্রামের বেশ কটি আধা-পাকা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা। বেশ কটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রাম বিদ্যুৎহীন রয়েছে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এছাড়া আরো কটি গ্রামে টর্নেডো আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় লোকজন জানায়।
হঠাৎ টর্নেডোর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে যান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম, নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল মোস্তফা তালুকদার। এ সময় তারা বদরপুর ওএস দাখিল মাদ্রাসা পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২২ হাজার টাকা ও ৪ বান্ডেল টিন প্রদানের ঘোষণা দেন। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে অনুদানের আশ্বাস দেন। আর অন্যান্য যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা করেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য প্রদানের কথাও বলেন তাঁরা।
