মোঃ জামাল হোসেন ॥
বেশ কয়েকদিন যাবৎ ধরে টানা বর্ষণের কারণে শাহরাস্তি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলো যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার অধিকাংশ পাকা সড়কগুলো বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে যান চলাচলের ব্যাঘাত ঘটছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে হাজার হাজার মানুষ। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এবার ঈদ উদযাপন করতে শাহরাস্তিতে আসে হাজার হাজার মানুষ। বৃষ্টির কারণে উৎসব তেমনভাবে পালন করতে পারেনি অনেকেই। ঈদ উৎসবে বাধা হয়ে দাড়ালেও ঘর থেকে অনেকেই বের হয়নি সড়কের বেহাল দশার কারণে। বর্তমানে শাহরাস্তি গেইট দোয়াভাঙ্গা থেকে মেহের কালীবাড়ী পর্যন্ত সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটির মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। ঈদ সামনে রেখে সড়ক ও জনপদ বিভাগ ইটের কনা ও বালু দিয়ে গর্ত ভরাটের ব্যর্থ চেষ্টা করে। কিন্তু সড়কটি এতটাই ব্যস্ত হয়ে উঠেছে যে তা দু’এক দিনও টিকে নি। দীর্ঘস্থায়ীভাবে সড়কটি মেরামত করা না হলে লোক দেখানো এ ধরণের কাজ জনগণের উপকারে আসবে না বলে মন্তব্য করেছে এলাকাবাসী।
সড়কটির দু’পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এটি দ্রুত গতিতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই পৌর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবে এটাই পৌরবাসীর প্রত্যাশা।
বহুবার লেখালেখি করেও সড়কটির কোন ক্ষতি না হওয়ায় হতাশায় ভুগছে এলাকাবাসী। এদিকে উপজেলার মেহের কালীবাড়ী-লোটরা সড়ক, নরিংপুর সড়ক, উঘারিয়া সড়ক, খিলাবাজার সড়ক সহ বেশ কয়েকটি সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার বহু সংযোগ সড়কও টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ সকল সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এতে করে দুর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে যানবাহন।
অনেকেই জানান, সড়কের বেহাল দশার কারণে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পাড়ি দিতে হয়। অনেক সময় সিএনজি অটোরিক্সা বিকল হয়ে পড়ে থাকে।
এ ব্যাপারে সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির সভাপতি জানান, সড়কের বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। গাড়ী নষ্ট হচ্ছে আগের তুলনায় অনেক বেশী। যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়ছে। তাই সড়কটি সংস্কার জরুরী হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, টানা বর্ষণ চলতে থাকলে সড়কগুলো যান চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তাই জনগণের কথা মাথায় রেখে এখনই সংস্কার করা জরুরী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে জোড়ালো সময় উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এটাই শাহরাস্তি বাসীর প্রত্যাশা।

