শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ১৪ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রফিকুল ইসলাম বাবু
মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের নিহত আরো তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এই নিয়ে প্রাণ হারাল মোট ছয়জন। আর গুরুতর আহত হয়ে এই জেলার নারী শিশু ও পুরুষসহ ১০ জন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বুধবার সকালে জেলার হাইমচরে মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড় দুর্গমচর ঈশানবালার দক্ষিণ তিরাশিকান্দির গ্রামের বাড়িতে পৃথক দুই পরিবারের তিনজনকে দাফন করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতেই তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। হতভাগা এই তিনজন হচ্ছেন কৃষক জাহাঙ্গীর মালের স্ত্রী আমাতুন নেছা (৩০), তার শিশুসন্তান মরিয়ম বেগম (৫) এবং ঢাকায় চাকরিজীবী আইনুল হকের স্ত্রী কাকলী বেগম (২৫)। হাইমচরের নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, জাহাঙ্গীর মাল তার স্ত্রী সন্তান এবং প্রতিবেশী আইনুল হকের স্ত্রী, মা ও এক সন্তান নিয়ে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রা). মাজার জিয়ারতে যান। গত সোমবার রাতে উদয়ন ট্রেনে লাকসাম হয়ে চাঁদপুরে ফেরার পথে কসবার মন্দবাগ এলাকায় পৌঁছালে অন্যদের সঙ্গে তারাও ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়েন। এ সময় অন্যদের সঙ্গে আমানুত নেছা, তার শিশুসন্তান মরিয়ম বেগম এবং প্রতিবেশী কাকলী বেগম প্রাণ হারান। চেয়ারম্যান আরো জানান, এই ঘটনায় নিহত আমাতুন নেছার স্বামী জাহাঙ্গীর মাল (৪০), নিহত কাকলী বেগমের শাশুড়ি রহিমা বেগম (৫০) এবং নাতনি ফাহিমা (৫) গুরুতর আহত হন। এই তিনজনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, গত মঙ্গলবার রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও গ্রামের মজিবুর রহমান (৫৫) ও তার স্ত্রী জেসমিন বেগম (৪৫) এবং চাঁদপুর সদরের উত্তর বালিয়া গ্রামের প্রবাসী বিল্লাল ব্যাপারির মেয়ে ফারজানা আক্তার (১৮) এর মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়িতে পৃথকভাবে দাফন করা হয়। অন্যদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের আহতরা হলেন, নিহত ফারজানা আক্তারের মা বেবী বেগম (৪৫), ভাই হাসান বেপারী (২৮), নানী ফিরোজা বেগম (৭০), ফারজানার মামি শাহিদা বেগম (৪০), মামাত বোন মিতু (১৭), ইলমা (৭) ও মামাতো ভাই জুবায়ের (৩)। আহতদের কুমিল্লায় চিকিৎসা চলছে বর্তমানে। জানা যায় চাঁদপুর-সিলেট রুটে সরাসারি ট্রেন চালু না থাকায় অনেকেই কুমিল্লার লাকসাম স্টেশন হয়ে যাতায়ত করেন। ঠিক একইভাবে আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় হতাহতরা সিলেট থেকে লাকসাম যাচ্ছিলেন। পরে সেখান থেকে পরদিন ভোরে ডেমু কমিউটার ট্রেনে চাঁদপুরে গ্রামের বাড়িতে ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় এদের কেউ হলেন লাশ।
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
