মিজানুর রহমান রানা,
চাঁদপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে রোগীদের জিম্মি করে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোগীদের অভিযোগ মামলার প্রয়োজনে যে কোনো সময় তার কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে এসে ৫ থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতি সার্টিফিকেটে উৎকোচ দিতে হয়। এছাড়াও রয়েছে হাসপাতালে আগত মহিলা নারীদের যৌন হয়রানিসহ নানা অপকীর্তি কাহিনী। বিষয়টি দেখার মতো যেনো চাঁদপুরের স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ নেই। সেই সুবাদে ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম ভালো মানুষের মতো সেজে চালিয়ে যাচ্ছেন তার মনগড়া সার্টিফিকেট বাণিজ্য।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষের মতো আস্তে আস্তে বলেন, আমি কি এটি করতে পারি? আপনারাই বলুন? আর পত্র-পত্রিকায় এসব লিখেও কোনো লাভ হবে না। কারণ পত্র-পত্রিকা মানুষ পড়ে না এবং এগুলো পড়েও কোনো কাজও হয় না। এগুলো মানুষ দলা করে ফেলে দেয়। আমি অনেক বছর ধরে এভাবেই চালিয়ে যাচ্ছি। কেউ আমার কিছু করতে পারেনি, আর পারবেও না। কারণ যারা করবে তারাই তো আমার কাছ থেকে মাসোহারা নিচ্ছে।
অসদুপায় অবলম্বন করে মানুষকে মিথ্যা সার্টিফিকেট দেওয়ার ব্যাপারে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি সার্টিফিকেট দিলে যদি মানুষের উপকার হয়, তাহলে দিবো না কেনো? মানুষ আমার কাছে আসে তাদের উপকারের জন্য, আমি তাদের উপকার করছি, এটা তো দোষের কিছু নয়।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে হাসপাতালের একজন কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, আসলে হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানুষের এ অভিযোগ কিছুটা হলেও সত্য। কারণ তিনি হাসপাতালের একজন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা দেওয়া দূরে থাক, প্রয়োজনীয় সময়ে তাকে রোগীরা কাছেও পায় না। মনেন হয় তিনি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে একদম উদাসীন।
এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আরএমও ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম এ প্রতিষ্ঠানের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা হয়েও রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা না দিয়ে নিজের স্বার্থের সেবা নিয়ে অধিক রাত পর্যন্ত মগ্ন থাকেন। তিনি রোগীদের সার্টিফিকেট দেওয়ার নাম করে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত রয়েছেন। এছাড়াও তিনি অনেক মহিলা রোগীর শরীর স্পর্শ করে বসেন এবং মাঝে মাঝে তিনি অনেক রোগীর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদেরকে নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেন।
জানা যায়, একটি হাসপাতালের আরএমও গুরুত্বপূর্ণ একজন দায়িত্ববান ব্যক্তি। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করেন তাদের দেখাশোনা সরকার কর্তৃক রোগীদের জন্যে যে খাবার পরিবেশন করা হয় ঠিকাদার ঠিকমতো রোগীদেরকে সরকারি নিয়মমাফিক ওই খাদ্য সরবরাহ করে কি-না সেটি দেখাশোনা, হাসপাতালটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রয়েছে কিনা সেটিও দেখার দায়িত্ব রয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের সমস্যাসহ বিভিন্ন দিকগুলো দেখে তত্ত্বাবধায়কের সাথে পরামর্শক্রমে তা সমাধানে ব্যস্ত থাকবেন। পাশাপাশি জরুরি বিভাগে একজন মেডিকেল অফিসারের সাথে তিনি সব সময় সমন্বয় করে রোগী চিকিৎসা দিবেন। কিন্তু তিনি তা করেন না। না করে তিনি শুধু ব্যস্ত থাকেন নিজের স্বার্থের কাজে। তার সাথে কথা বললে তিনি এতো আস্তে কথা বলেন যেনো কথাটি বুঝতে বা শুনতে যে কোনো ব্যক্তির খুব কষ্ট হয়। শুধু তাই নয়, তার সাথে কথা বলার সময় মনে হয় যেনো সবচে ভদ্র একজন মানুষ হিসেবে তিনি কথা বলেন। আর কোনো রোগী সার্টিফিকেটের জন্য গেলে তখন তার ওপরের রূপটি যতোটা সুন্দর দেখা যায়, ভিতরের রূপটি কতযে ভয়ংকর সেটি বুঝা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সার্টিফিকেটের জন্য তিনি ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন, এমন অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত। আবার ৫শ’ টাকা দিয়েও তিনি সার্টিফিকেট দেন। অর্থাৎ যে রোগী থেকে যেভাবে সম্ভব টাকা তার নিতে হবে বিনিময়ে একটি সার্টিফিকেট দিতে হবে সেটি সত্য কি মিথ্যা তা জানার মনে করেন না তিনি। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাহিদামতো টাকা না দিলে সার্টিফিকেটটি রোগীকে সেভাবে দেওয়া হয় না, বরং সার্টিফিকেট নিয়ে রোগী কোথায়ও উপস্থাপন করলে ওই সার্টিফিকেটটি যে কোনো ব্যক্তি দেখলেই বলেন, টাকা দিয়ে এতো নর্মাল কথায় সার্টিফিকেট এনে লাভ হবে না। তার এ সার্টিফিকেট ব্যবসা দেখে মনে হয় যেনো তিনি নিজে কসাইর মতো যেমনে ইচ্ছে তেমনেই গরুকে জবাই করে তা বাজারে বিক্রি করছেন।
এছাড়াও আরএমও ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম চাঁদপুরে খ্যাত রয়েছে তিনি নারী একজন নারীখেকো ডাক্তার। বিভিন্ন সময়ে নারী সংক্রান্ত বিষয়ে তার সম্পর্কে জনমনে বিভিন্ন কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন কয়েক বছর যাবত তিনি চাঁদপুরে চাকুরির সুবাদে অবস্থান করে ধরাকে সরা জ্ঞান করে জনগণকে ঠকাচ্ছেন। অথচ চিকিৎসা সেবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়গুলো জেনেও না জানার ভাণ করে যেনো নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। তিািন শুধু সার্টিফিকেট ব্যবসার জন্য সকাল নয়টায় হাসপাতালে তার বরাদ্দকৃত রুমে ঢুকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই কাজেই ব্যস্ত থাকেন। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগী এসে তার রুমের সম্মুখে জরুরি বিভাগের বেডে কাতরলে এবং জরুরি বিভাগে কর্মরত কর্মচারীরা তাকে ডাকাডাকি করলেও তিনি সেগুলোকে কর্ণপাত করেননি। এমনকি তার এ সার্টিফিকেট ব্যবসার কারণে এই হাসপাতালে বেশ কয়েকজন রোগীর চিকিৎসা দিতে দোির হয় এবং রোগী মারা যাবার ঘটনাও দীর্ঘদিন ধরে ঘটছে। অথচ তার গাফিলতির কারণে রোগী পক্ষ বেশ ক’বার অভিযোগ করে হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটিয়েছে। এমন বহু প্রমাণ রয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৩ অক্টোবর এ হাসপাতালে সিয়াম নামের একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তার অবহেলাকে দায়ী করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তারপরও নীরব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। শুধু কি সার্টিফিকেট ব্যবসাই তার একমাত্র কাজ? এর বাইরেও তার রয়েছে আরো অর্থ উপার্জনের বেশ কয়েকটি পথ। এর মধ্যে রোগীদের খাদ্য সরবরাহকৃত ঠিকাদার কর্তৃক ইচ্ছেমতো বিল-ভাউচারে তিনি সংখ্যায় বাড়িয়ে টুপাইস নেন। হাসপাতালে ঔষধ সরবরাহকৃত ঠিকাদার থেকে পার্সেন্টিজ নেন। লিলেন ধোলাইসহ সকল ঠিকাদার এবং ঔষধ দোকান দেওয়া বাবদও তিনি নিয়মিত পার্সেন্টিজ নেন।
জানা যায়, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর তিনি এলপিআরে যাচ্ছেন। অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অবসরে যাচ্ছেন। আর এ মুহূর্তে এটিকে কেন্দ্র করে তিনি উলঙ্গভাবে লাজ লজ্জা বাদ দিয়ে দিবারাত্রি সার্টিফিকেট ব্যবসাসহ এ হাসপাাতালে একের পর এক বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে তার স্বার্থের জন্য অর্থ উপার্জন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। কিন্তু কেউ তাকে কিছুই বলছে না। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত উল্লেখিত অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ কুমার দত্তের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি এখন কিছু বলতে পারবো না। পরে বিষয়টি নিয়ে আলাপ হবে।
চাঁদপুরবাসী নারীখেকো ও অর্থপিপাসী এ ডাক্তার আরএমও সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছেন এবং চাঁদপুর সদর হাসপাতালে একজন যোগ্য ডাক্তার নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৮ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

