হাইমচর উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দাঁতের চিকিৎসার জন্য ডেন্টাল বিভাগ থাকলেও চিকিৎসকের দায়িত্ব অবহেলা এবং অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসাসেবা হতে বঞ্চিত সাধারণ জনগণ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন মহিলা ডেন্টাল ডাক্তার থাকা সত্বেও তার দায়িত্বে অবহেলা ও অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন রোগীরা। তিনি কোনো কোনো সপ্তাহে আসেন; আবার কোন সপ্তাহে আসেন না। যার ফলে হাসপাতালে টেকনেশিয়ান মোঃ কবির হোসেন পাটওয়ারীকে দিয়ে চলছে হাসপাতালের দাঁতের চিকিৎসা। হাইমচর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল বিভাগ থাকায় এ বিভাগে একজন ডাক্তার থাকার কারণে উপজেলাবাসী চিকিৎসার জন্য ছুটে আসে। এসে নির্ধারিত ডেন্টাল ডাক্তার না থাকায় রোগীরা বিমুখ হয়ে ফিরে যেতে হয়। উপজেলার গরীব-অসহায় রোগীরা অর্থাভাবে দূরে কোথাও যেতে না পারায় টেকনেশিয়ান দ্বারা অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা নিতে হয়।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, টেকনেশিয়ান কবির পাটওয়ারী রোগীর চিকিৎসাপত্র দিচ্ছেন। এজন্য চিকিৎসাপত্র বাবদ তিনি টাকা নিচ্ছেন। ঐ সময় কর্মরত ২জন সাংবাদিক দেখে দ্রুত টাকা পকেটে লুকিয়ে ফেলেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন পূর্বে এক রোগীর চিকিৎসার জন্য ডেন্টাল বিভাগে দাঁত ফেলতে গেলে টেকনেশিয়ান কবির ২শ’ টাকা নেন। কিছুদিন পর ঐ রোগীর আরেকটি দাঁতের ব্যথা উঠলে তার কাছে গেলে তিনি পুনরায় ঐ রোগীর কাছে টাকা দাবি করেন। এ সময় রোগী তার কাছে টাকা নেই এবং তিনি গরীব ও অসহায় এ পরিচয় দিয়ে সদর আলগী দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাকে পাঠিয়েছে এবং তার পরিচয় দিতে বলে এমন কথা বললেও তিনি মানতে রাজি হননি। এ নিয়ে রোগীর সাথের কথা কাটা-কাটি হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সাইন বোর্ডে লেখা রয়েছে অফিস চলাকালীন সময়ে কোন ডাক্তারগণ প্রাইভেট রোগী দেখতে পারবে না। অথচ, একজন টেকনেশিয়ান রোগী দেখে প্রেসক্রিপশনের নামে ২শ’ থেকে ৪শ’ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের সামনে এ ধরনের ন্যায় সঙ্গত সাইন বোর্ড ঝুঁলিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণার কারণ কী; বিষয়টি জানতে চায় হাইমচরের জনগণ।
এ বিষয়ে ডেন্টাল বিভাগের টেকনেশিয়ান মোঃ কবির হোসেনের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে রোগী আসে মেডিসিনের জন্য, চিকিৎসার জন্য না। আমি বাহির থেকে যন্ত্রপাতি ও মেডিসিন কিনে এনে রোগীদের মাঝেমধ্যে সেবা দিচ্ছি। রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় ব্যাপারে তিনি বলেন, মেডিসিন বাহির হতে ক্রয় করতে হয় বিধায় রোগীদের কাছ থেকে কিছু টাকা নিচ্ছি। হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল ডাক্তার থেকে কর্মচারীরা পর্যন্ত প্রতিদিন রোগীদের জিম্মি করে বিভিন্ন কায়দায় অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বাস্থ্য সহকারীরা রোগী আসলেই নামমাত্র সেবার নামে ১শ’/২শ’ টাকা বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

