
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৬ আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তবে পলাতক আসামিদের মধ্যে সর্বশেষ গ্রেফতার হয়েছেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইকবাল হোসেন ওরফে ইকবাল ওরফে জাহাঙ্গীর ওরফে সেলিম। ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি র্যাব রাজধানীর দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ২৩ জন্য রয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ), কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার, কাশিমপুর-১ ও সিলেট কারাগারে।
অপর দিকে গত বছর ১৫ আগস্ট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন গোয়েন্দা সংস্হা এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম ও একই বছর ৪ নভেম্বর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হুজি সদস্য মাওলানা আব্দুস সালাম। পলাতক আসামিদের মধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত রয়েছেন চার জন। তারা হচ্ছেন—মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দিন মিয়া, আব্দুল হারিছ চৌধুরী,বাবু রাতুল আহমেদ ও হানিফ পরিবহনের মালিক আলহাজ মোহাম্মদ হানিফ। তবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে আব্দুল হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন। তবে মামলার তদন্ত সংস্হা সিআইডি এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেনি।
প্রসঙ্গত, সিআইডির কর্মকতা আব্দুল কাহার আকন্দ মামলার তদন্ত শেষে ৫২ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। বিজ্ঞ দ্রুত ট্রাইব্যুনাল-১(নাজিমউদ্দিন রোড,ঢাকা) ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামির অন্য মামলায় ফাঁসি হয়েছে। ফলে ৪৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হয় মোট ১৯ জন এবং যাবজ্জীবন ১৯ জন। আর চার জনের তিন বছর কারাদণ্ড ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, সাত জনের দুই বছরের কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়া হয়।
পলাতক আসামি: আসামিদের ব্যাপারে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা অফিসের প্রধান (এনসিবি) ও পুলিশের সহকারী উপ-মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম বলেন, তারেক রহমানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করা হয়। তারেক বাদে বাকিরা হলেন—শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, আলহাজ মোহাম্মদ তাজউদ্দিন মিয়া, চৌধুরী আব্দুল হারিছ, বাবু রাতুল আহমেদ ও হানিফ আলহাজ মোহাম্মদ। এর মধ্যে ইন্টারপোল কনস্টিটিউশনের আর্টিকেল ২ ও ৩ ধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের রেড নোটিশ বাতিল হয় ২০১৮ সালের ৪ মে। এবং তারেক রহমানের রেড নোটিশ বাতিল হয় ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি।
পলাতক ১৬ জন: তারেক রহমানসহ ১৬ জন পলাতক রয়েছে। অপর ১৫ জন হচ্ছেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (যাবজ্জীবন), কুমিল্লার মুরাদনগরের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (যাবজ্জীবন), অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার (দুই বছর কারাদণ্ড), ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন আহমদ (দুই বছর কারাদণ্ড), হানিফ পরিবহনের মালিক আলহাজ মোহাম্মদ হানিফ (মৃতু্যদণ্ড), জঙ্গিনেতা মাওলানা তাজউদ্দিন (মৃতু্যদণ্ড), মহিবুল মুত্তাকিন (যাবজ্জীবন), আনিসুল মোরসালিন (যাবজ্জীবন), মোহাম্মদ খলিল (যাবজ্জীবন), মাওলানা লিটন (যাবজ্জীবন), জাহাঙ্গীর আলম বদর (মৃতু্যদণ্ড), মুফতি শফিকুর রহমান (যাবজ্জীবন), মুফতি আব্দুল হাই (যাবজ্জীবন) ও রাতুল আহমেদ বাবু (যাবজ্জীবন)।
জামিনে ছয় জন, সাজা শেষে মুক্তি দুই জনের: মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল জানিয়েছেন, বিভিন্ন মেয়াদে ১১ জন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, জোট সরকারের সময়ের তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান ও সাবেক পুলিশ সুপার রুহুল আমীন জামিনে রয়েছে। অপর দিকে সাজা শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান, ডিএমপির সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান।
পিনাকি দাসগুপ্ত
