মিজানুর রহমান রানা, চাঁদপুর ॥
বাংলাদেশের মফস্বল জেলা শহরগুলোর মধ্যে চাঁদপুরের নারী সমাজের রূপচর্চার জন্যে রূপলাগী বিউটি পার্লার দীর্ঘ ১০ বছর পূর্বে আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে পদার্পণ শুরু করে।
ঐতিহ্যবাহী এ শহরটি দেশের মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে যেমনি সুনাম রয়েছে তেমনি এ মাটির নারীদেরও রয়েছে অনেক ঐতিহ্য। দেশের এমন কোনো ত্রে নেই যেখানে এ মাটির নারীরা এ জেলার সুনাম করেনি বা পদার্পণ করেনি। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরের বা এই মাটির সন্তান না হলেও এই মাটির সন্তানেরই পুত্রবধূ সোহেলি সুলতানা স্বপ্না এ শহরের নারীদের রূপচর্চা ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিউটি পার্লার নামক একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করে। যেখানে নারীরা তাদের সকল সৌন্দর্য বিকাশ ঘটার েেত্র কাজ করেন। এটি দীর্ঘ দশ বছর পূর্বে যদিও একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চালু হয়, কিন্তু বর্তমানে মনে হয় যেন এটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয়, যেন একটি ইনস্টিটিউট হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
জানা যায়, ২০০৪ সালে চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সম্মুখে সোহেলি সুলতানা স্বপ্না সর্বপ্রথম ছোট্ট একটি রুমের মধ্যে রূপলাগী বিউটি পার্লার নামক এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে ছয়মাস এটি ওই স্থান থেকে স্থান পরিবর্তন করে শহরের ব্যবসায়ী কেন্দ্র জোড়পুকুরপাড়স্থ হোসেন প্লাজায় বড় আকারে স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে আরো বড় আকারে চাঁদপুর শহরের বিশাল বিপণী বিতান মীর শপিং কমপ্লেক্সের ২য় তলায় পুনরায় নতুন আঙ্গিকে এটিকে স্থানান্তরিত করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
বিউটি পার্লারটি যখন চাঁদপুরে পদযাত্রা শুরু করে তখন এটি সহ মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান ছিলো। আজ ২০১৪ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি ১০ বছরে পদার্পণ করলো। এই পার্লারটিতে বিউটিশিয়ান হিসেবে কাজ করে ৮/১০ জন নারী আজ স্বাবলম্বী। তারাও এই শহরে ভিন্ন নামে আরো ৮টি বিউটি পার্লার নামক প্রতিষ্ঠান শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকের একটি মাত্র শপথ নিজে স্বাবলম্বী হওয়া, অন্য আরো নারীদের স্বাবলম্বী করে নারী সমাজের বেকারত্ব দূর করা। এ সৎ মন মানসিকতার কারণেই তার মূল উদ্দেশ্যে তিনি সফলভাবে এগিয়ে চলছেন।
জানা যায়, রূপলাগী বিউটি পার্লারের নারী সমাজের যে সকল কাস্টমার রয়েছেন তারা হচ্ছে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য, পুলিশ প্রশাসনের, ব্যবসায়ী সমাজের, আইনজীবী, ডাক্তার ও নতুন প্রজন্মের নারীরা এ পার্লারের ভক্ত। কারণ এটি অত্যন্ত নিরাপদ, যা নারী সমাজের পছন্দনীয়। আর যে সকল নারীরা এ পার্লারে তাদের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য আসা যাওয়া করছেন, তারা সকলেই সচেতন নারী। শুধু তাই নয়, রূপলাগী বিউটি পার্লারটির ঐতিহ্য ও সুনামকে বিনষ্ট করার জন্য একটি মহল ‘রূপ’ নামক শব্দটি ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। এটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট করা। কিন্তু আল্লাহর রহমতে রূপলাগী প্রতিষ্ঠানটি তার ঐতিহ্য ও সুনামকে নিয়ে চলছে এগিয়ে সফলতার সাথে।
মালিকপ জানান, এবারের ঈদ উপলে তিনি আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে নতুন আঙ্গিকে প্যাকেজ সহ তার এ প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও সুনাম অুণœ রাখতে তিনি একটি আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করছেন। সেটি হচ্ছে ১ হাজার টাকার কাজ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির মেম্বারশীপ বা এ প্রতিষ্ঠানের সদস্য করে নেয়া হবে। আর যিনি এ কার্ডটি পাবেন তিনি সারা বছর দশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্টে কাজ করতে পারবেন। এছাড়াও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলে তিনি কাস্টমারদের সুবিধার্থে ভিন্ন একটি আঙ্গিকে প্রতিষ্ঠানটিকে সাজিয়েছেন। এটি হচ্ছে চাঁদপুর শহরের বাইরে অর্থাৎ যারা সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হলে সমস্যা পড়বেন এমন নারীদের দুপুরের মধ্যে কাজ করবেন। আর শহরের নারীদের সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করাবেন। এছাড়াও তার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আসা যাওয়া কাস্টমারদের মোবাইল নম্বর রেখে সুযোগ মতোই তাদের ফোন করে কাজ করেন। এক কথায় নিরাপত্তা, নারীদের সকল সুযোগ সুবিধা সবকিছু মিলিয়েই এটি তার ঐতিহ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলে এ প্রতিষ্ঠানের মেম্বারশীপ কার্ড পাওয়া কাস্টমারদের তিনি চাঁদ রাতে মেহেদী পরাবেন বিনা পয়সায়, যেটিকে বলা হয় মেহেদী উৎসব।
বর্তমানে বিশাল আকারে এ রূপলাগী বিউটি পার্লারটিতে ৮ জন নারী বিউটিশিয়ান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পার্লারটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেলী সুলতানা স্বপ্না প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সাফল্যের জন্য সকলের সহযোগিতা ও দোয়া চেয়েছেন।
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

