
মিজান লিটন ॥
চাঁদপুরে কুড়িয়ে পাওয়া দু’শিশুদ্বয়ের অভিভাবকের দায়িত্ব নিলেন সিনিয়র জুডিশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: শওকত হোসাইন। শিশুদ্বয় শামীম (১২) ও ছোটভাই সবুজ (৯)। হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ বুধবার দুপুরে আদালতে এই শিশুদ্বয়কে উপস্থাপন করলে শিশু আইন ২০১৩ এর ২ধারার প্রদত্ত সজ্ঞা অনুযায়ী এবং ৮৪ ধারা অনুযায়ী এরূপ শিশুদেরকে তাদের বৈধ অভিভাবকের নিকট ফেরত দিতে হয়। এমনকি পিতা-মাতার অবর্তমানে বর্ধিত পরিবারেরর কাছে ফেরত দিতে হয়। বর্ধিত পরিবারের অনুপস্থিতিতে কোন উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট রাখা যেতে পারে। এরূপ কোন ব্যক্তি পাওয়া না গেলে তখনই সরকারী কোন প্রতিষ্ঠানে প্রেরন করা যায়।
এরই আলোকে সিনিয়র জুডিশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: শওকত হোসাইন নিজে একজন উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে এদের দায়িত্ব গ্রহনে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং শামীম ও সবুজ তার আগ্রহে সাড়া দিলে ম্যাজিষ্ট্রেট নিজ দায়িত্বে এদের নিয়ে নেন।
এদের ভাষ্যমতে জানা যায়, এরা ৩ ভাই ছিল। ঢাকা গুলিস্তানের পাশে একটি বস্তিতে বাস করতো। আজ থেকে বছর তিনেক আগে হটাৎ একদিন এদের মা ছোট ভাইকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তার মাস খানেক পর তাদের বাবা মারা যান। এরা কখনো দাদা বা নানার বাড়ী যায়নি। তবে এরা বাবার কাছে শুনেছিল দাদার বাড়ী মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরে আর নানার বাড়ী শরীয়তপুর জেলায়। এদের বাবা ঢাকায় ফেরী করে মাছ বিক্রি করতো। মা নিরুদ্দেশ ও বাবা মারা যাবার পর সোহেল নামক এক চাচা বাসায় এসে সব মালামাল নিয়ে চলে যায় কিন্তু এদেরকে নেয় না।
পরে সদরঘাটে পানির বোতল কুড়িয়ে মসজিদের টেপ থেকে পানি ভরে বিক্রি করে, ফুটপাতের দোকান থেকে খাবার কিনে খেতো এবং রাতে দু’ভাই বিভিন্ন লঞ্চে ঘুমাতো। এভাবেই গত তিন বছর সদরঘাটে কাটিয়েছে তারা। কোনদিন এরা পোলাও খায় নি। একদিন এক লোক লঞ্চে “বেদানা” খেতে দিয়েছে তাদের। ঐদিনই জীবনে প্রথম ভালো ফল খেয়েছে। গায়ের পোষাক ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। গত কয়েকদিন পূর্বে লঞ্চে করে চাঁদপুর চলে আসে এবং ট্রেনে করে হাজীগঞ্জ চলে যায়। হাজীগঞ্জে জনৈক “বাচ্ছু মিয়া” এদেরকে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা করতে দেখে নিজ হেফাজতে হাজীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে। পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ তাদেরকে আদালতে উপস্থাপন করেন। আদালত থেকেই জুডি. ম্যাজিষ্ট্রেট মো: শওকত হোসাইন তাদেরকে আইনি নিয়ম মেনে তার বাসায় নিয়ে যায়।
এব্যাপারে চাঁদপুর আইনজীবি সমিতির সভাপতি এড. জহিরুল ইসলাম ও এড. সাইফুল ইসলাম তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সমাজে শিশুদের উপর বর্বরতা ও নির্যাতন অধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমকি শিশুশ্রমও বেড়ে গেছে। এ অবস্থ্যায় এ দু’টি শিশুর দায়িত্ব নিয়ে একজন বিচারক নজির বিহীন ঘটনা স্থাপন করেছেন। সমাজের অসহায় শিশুদের পাশে এভাবে সকলে যদি এগিয়ে আসি তাহলে এ সমাজ আরো অনেক সুন্দর হবে।
শিরোনাম:
বুধবার , ১৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
