এম.সাখঅওয়াত হোসেন মিথুনঃ
ধীরে ধীরে হাজীগঞ্জে মাদকের নীরব ট্র্যাজিডি গড়ে উঠেছে। মাদকের নীল ছোঁয়া কেড়ে নিচ্ছে শত মানুষের তাজা প্রাণ। হাজীগঞ্জে মাদক দ্রব্যের ব্যবহার বাড়তে থাকে। এর আগে সাধারণত গাঁজা, আফিন ও মদের ভেতর নেশাকারীরা সীমাবদ্ধ ছিল। আশির দশেকের শুরুর দিক থেকে এ জেলায় ব্যবহৃত হতে থাকে ফেনসিডিল, গাঁজা, প্যাথিড্রিন, এ্যাম্পুল, চরষ, ভাং, হেরোইন, নেশা ট্যাবলেট এর সাথে সংযুক্ত হতে থাকে। এখন মাদকের তালিকাভুক্ত সব কিছুই হাজীগঞ্জে পাওয়া যাচ্ছে। শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে গেছে মাদকের নীল নেশা। কিশোর, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ অর্থাৎ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ এসব মাদকদ্রব্য পরিবহণ, বিক্রি এবং সেবনের সাথে সম্পৃক্ত।
হাজীগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। রেল সড়ক ও নৌপথে হাজীগঞ্জ থেকে দেশের সর্বত্র যাতায়াত করা যায়। সড়ক পথে চাঁদপুরের পূর্বে পার্শ্ববর্তী জেলা হচ্ছে কুমিল্লা, দক্ষিনে নোয়াখালী, পশ্চিমে শরীয়তপুর ও উত্তরে সিটি শহর। এই মাদকগুলো মূলত কুমিল্লা সীমান্তবর্তী একটি ভারতীয় এলাকা দিয়ে পাচার হয়ে আসছে সরাসরি চাঁদপুর জেলার প্রান কেন্দ্র হাজীগঞ্জে। বর্ডার সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ অবৈধ পণ্যের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী নারায়নগঞ্জ, খুলনা, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, মাদারীপুর,ফরিদপুর, শরিয়তপুর, চাঁদপুরের উপর দিয়ে নদীপথে মাদকদ্রব্য পরিবহণ করা হয়।
পরিবহণের সময় কিছু মাদকের অংশ চাঁদপুরের ব্যবহারকারীদের জন্য রেখে যাওয়া হয়। তাছাড়া চাঁদপুর শহর ও বিভিন্ন উপজেলার মাদক ব্যবসায়ীরা সরাসরি কুমিল্লা থেকেও হাজীগঞ্জ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ে আসে। মোটামুটি এখানে মাদক সামগ্রী প্রাপ্তি অনেকটা সহজলভ্য। তবে চাঁদপুর জেলার মধ্যে মাদকের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি এবং ট্রাজেটি গড়ে রয়েছে হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি এলাকায়। চাঁদপুর শহরের মাদক ব্যবসায়ীরা সাধারণত হাজীগঞ্জ থেকেই তাদের প্রয়োজনীয় মাদক সামগ্রী সংগ্রহ করে থাকে। মাদকদ্রব্য হাজীগঞ্জে সংকট সৃষ্টি হলে তারা চলে যায় শাহরাস্তি দোয়াভাঙ্গা। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় মাদক সামগ্রী নিয়ে আসে। মাদকের সহজলভ্যতার কারণে দিন দিন আসক্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ঘটছে তারা প্রাণহানীর ঘটনা। সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, এমন এমন সব তরুণ-যুবকরা মাদকের নীল ছোঁয়ার বেড়াজালে নিজেদের আবদ্ধ করছে।
চাঁদপুর জেলার মাদকসেবীদের পছন্দের তালিকায় এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে ভারতীয় ‘এ্যাম্পুল’। এটি হাতের নাগালে এখন পাওয়া যায়। শহরের এমন কোন পাড়া-মহল্লা নেই যেখানে ‘এ্যাম্পুল’ বিক্রি হয় না। এ্যাম্পুল পুশ করার জন্য নেশাখোরেরা ঔষধের দোকান থেকে সিরিঞ্জ, ফ্যানাগন ও এভিল ইঞ্জেকশন কিনে আনে। নেশাখোরদের ভাষ্যমতে, ডাইল (ফেন্সিডিল) এখন আর আগের মত সেই ফিলিংস নেই। তাছাড়া এর দামও যেমন বেশি তেমনি পরিবহনও ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে এক এ্যাম্পুল ৩/৪টি ফেনসিডিলের সমান কাজ করে। এর দামও ফেনসিডিলের চেয়ে অনেক কম। এ কারণেই অনেক নেশাখোর ফেনসিডিলের বদলে এ্যাম্পুলকে বেছে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, মাদকের ব্যপারে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মাদক বিরোধী অভিযানে উপজেলা সর্বস্তরের জনগনের সহযোগীতা ও সহায়তা কামনা করছি। আইনের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয় একা কোন কিছু নিমূল করা সমাজের সচেতন নাগরিক যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসনকে সহায়তা না করবে। হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একের পর এক মাদক সেবনকারী, ক্রেতা-বিক্রেতা, পেছনে লাগামহীন লেগে আছে। পুলিশ প্রশাসন চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের এনায়েতপুর নামক স্থানে ও রামগঞ্জ-গৌরীপুর সড়কে জিয়া নগর নামক স্থানে চেক পোষ্ট বসিয়ে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য সহ আটক করছে।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গাউছুল আজম বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান সব সময় অব্যাহত থাকবে। হাজীগঞ্জ থেকে মাদক নিমূল করার চেষ্টা করছি।
শিরোনাম:
শনিবার , ৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
