মিজানুর রহমান রানা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিভিন্ন জেলায় অবস্থানকারী চাঁদপুর জেলার বাসিন্দারা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। ঘরমুখো পরিবারের সাথে মিলিত হবার ইচ্ছায় চাঁদপুরে প্রায় একই সাথে আসতে শুরু করেছে তারা। ঈদের কাছাকাছি সময়ে প্রচণ্ড ভিড় বাড়বে এমন আশঙ্কায় চাকুরিজীবী পরিবারের সদস্যদের আগেভাগে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেজন্যে চাঁদপুর অভিমুখী লঞ্চ-বাসে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে ঘরমুখো মানুষদের নিরাপদে চাঁদপুরে আসার তাগিদে চাঁদপুর-ঢাকা অভিমুখী ৪টি নতুন লঞ্চ নামানো হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর-ইচলী-ঢাকা রুটে এমভি মিতালী-৪ লঞ্চ বুধবার উদ্বোধন করা হয়েছে। অপরদিকে আজ ২৭ রমজানে নামবে ঈগল-৩, সোনারী তরী-২ ও এমভি রফরফ-২। পাশাপাশি সরকারিভাবে স্টিমার সার্ভিসও থাকছে অন্যসব ঈদের মতোই। অন্যদিকে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রেলপথে ঈদ স্পেশাল দুটি ট্রেন চলাচল শুরু করেছে। এর সঙ্গে নিয়মিত দুটি এক্সপ্রেস ট্রেনও থাকছে। লঞ্চ ও ট্রেনগুলোতে ঘরমুখো মানুষের চাপে বেশ বেসামাল অবস্থা। এক সাথে হাজার হাজার মানুষ নাড়ির টানে ঘরে ফেরার প্রতিযোগিতায় ট্রেনের ছাদে, লঞ্চের ছাদে মানুষের ঢল নামছে। কোথাও একটু ঠাঁই নেই। ফলে পরিবহনগুলোতে ঠিকমতো জায়গা না পেয়ে এমনকি মহিলারাও পরিবহনের ছাদে ওঠার প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে।
অন্যদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চাঁদপুরের ছোট-বড় মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানিরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং মার্কেটিং করার পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চাঁদপুর শহর ও আশপাশের গ্রামাঞ্চলের মানুষজন ছুটে আসে ঈদ কেনাকাটা করতে। পোশাকের দোকান থেকে শুরু করে গহনা এবং পার্লারের শো রুমগুলোতেও ছিলো উপচেপড়া ভিড়। মার্কেট ঘুরে অবস্থা দেখে মনে হয়েছে আজ হয়তো কাল ঈদ উৎসব। যার কারণে শপিং সেন্টার ও মার্কেট এবং ফুটপাতে কেনাকাটার ধুম লক্ষ্য করা গেছে। পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোশাক এবং প্রসাধনী ক্রয় করে বাসা-বাড়িতে ফিরছে। রেডিমেড পোশাক, শাড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে ভিড় বেড়েছে জুতা, গহনার দোকান এবং পার্লার ও সেলুনগুলোতে। বিশেষ করে মেয়েরা তার পোশাকের সাথে ম্যাচিং করে জুতা ও গহনা কিনতে মার্কেট থেকে মার্কেটে ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে।
চাঁদপুর শহরের ঈদ মার্কেটকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়েছে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া যানজট এড়াতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ফোর্স রাখা হয়েছে সড়কগুলোতে। ঈদ মার্কেটিংকে কেন্দ্র করে এ যাবৎ কোনো ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে রিকশা, সিএনজি স্কুটার ও অটো বাইকের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
ঈদুল ফিতরের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বিভিন্ন ইস্যুতে চাঁদাবাজরা এবং ছিনতাইকারী ও মলম পার্টি সক্রিয় হচ্ছে। এদের তৎপরতা লঞ্চ, স্টিমার ও ট্রেনে বেশি থাকে। অন্যান্য বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০ রমজানের পর এ তৎপরতা বৃদ্ধি হওয়ার কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষজন সর্বস্ব হারিয়ে অসহায়ভাবে বাড়িঘরে ফিরেছে। অনেকে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ঈদের দিন পর্যন্ত স্থানীয় সরকারি হাসপাতাল সমূহে থাকতে হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিটি লঞ্চ, স্টিমার ও ট্রেনে পূর্ব থেকে যাত্রীদের সতর্ক করে দিলে এ সকল অপকর্মের তৎপরতা অনেকাংশে হ্রাস পেতে পারে। যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের নিজ নিজ বাড়ি-ঘরে ফিরে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারবে।
শিরোনাম:
সোমবার , ১৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

