
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার এলাকায় ভাম্যমাণ আদালত কর্তৃক বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ নিয়ে জরিমানা প্রদানকারী কোনো কোনো ব্যবসায়ীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল ২০ অক্টোবর সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ফারজানা আলম পুরাণবাজার লোহারপুল এলাকা, নতুন রাস্তা, মসজিদ পট্টির বেশ ক’টি দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সকল দোকানে ডিলিং লাইসেন্স, মূল্য তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় লোহারপুল এলাকার মুন্সী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট থেকে ৪ হাজার টাকা, প্যারাডাইস সুইটস থেকে ৫ হাজার টাকা, শাওন সুইটস থেকে ৫ হাজার টাকা, মদিনা স্টোর পানের দোকান থেকে ২ হাজার টাকা, নতুন রাস্তার মোড়ে দেওয়ান স্টোর থেকে ৫ হাজার টাকা, মসজিদ পট্টির একতা মেশিনারী স্টোর থেকে ৫ হাজার টাকা, আল আমিন মেশিনারী স্টোর থেকে ৫ হাজার টাকা, ভূঁইয়া মেশিনারাী স্টোর থেকে ৫ হাজার টাকা, বিসমিল্লাহ হোটেল থেকে ৩ হাজার টাকা ও মোহম্মদ আলীর টুপির দোকান থেকে ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জরিমানা আদায়কৃত অনেক দোকানেরই ছিলো না ডিলিং লাইসেন্স। এই ডিলিং লাইসেন্স সংক্রান্ত ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, আমরা যেহেতু ব্যবসা করি সেহেতু সরকারি সকল নিয়ম মেনে চলতে আমরা বাধ্য। তবে যখন প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ করতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি হতে হয় তখন অনেকেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তিনি ডিলিং লাইসেন্স সম্পর্কে বলেন, ডিলিং লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখা হতে। এই ডিলিং লাইসেন্স সংগ্রহ করতে ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট, দোকানের মালিকানা বা বন্দোবস্তের দলিল, ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করতে হয়। সর্বোপরি যা দিতে হয় তা হলো এলআর ফান্ডে টাকা জমা দেয়া। তবে এলআর ফান্ডে টাকা জমা নেয়ার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জানেন কিনা তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। উক্ত ব্যবসায়ী আরো জানান, যে কোনো সার্টিফিকেট সংগ্রহের ক্ষেত্রে যদি স্ব স্ব ডিপার্টমেন্ট সার্টিফিকেট প্রদানে আন্তরিক হতেন তাহলে অনেকেই ব্যবসাায়িক প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে দ্বিধাবোধ করতেন না।
গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক একটি পানের দোকানে ২ হাজার ও টুপি এবং নামাজের সরঞ্জাম বিক্রেতার ২ হাজার টাকা জরিমানা করায় উপস্থিত মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ডিলিং লাইসেন্স কি তারা তা জানেন না। এ ব্যাপারে তাদেরকে যদি স্ব স্ব ডিপার্টমেন্ট প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান ও এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পূর্ব থেকে অভিজ্ঞতা প্রদান করা হতো তাহলে তারা তা সংগ্রহ করতে চেষ্টা করতো। তারা এ প্রসঙ্গে ভ্যাট গ্রহীতাদের প্রশংসা করে বলেন, ভ্যাট সংগ্রহকারী কর্মকর্তাগণ আমাদেরকে ভ্যাট প্রদানে উৎসাহ দিতে দোকানে এসে ফরম সংগ্রহ করে দিয়ে থাকেন।
