
আশিক বিন রহিম
মাদকের অভয় অরণ্য বনে যাওয়া চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার এলাকায় কিছুতেই বন্ধ হচ্ছেনা মাদক বিক্রি। বরং অল্প অর্থ ব্যায় করে লাখপতি ও বাড়ির মালিক হয়ে যাওয়া মাদক ব্যাবসায়িদের দেখাদেখিতে উক্ত ব্যাবসার সাথে জরিয়ে পরছে রাজনৈতিক পরিচয় বহন করা এক শ্রেণীর যুবকরা। যার ফলে শহরের পুরাণবাজার এলাকাটি যেনো দিনে দিনে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের স্বগরাজ্যই বনে যাচ্ছে। সথানিয়দের অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসকল ব্যাবসায়িরা বিক্রি করে যাচ্ছে গাঁজা, পেন্সিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য। এসব মাদক ব্যাবসায়িরা প্রায় প্রকাশ্যে দিবারোকে প্রতিদিন সকাল ৯টার থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছে যুব-সমাজ ধংশ করা এসব অপব্যাবসা। মাঝে মধ্যে পুরাণবাজার ফাঁড়ি পুলিশ দু’ চারজনকে সন্ধ্যায় আটক করলেও রাত পোহানোর আগেই তারা কোন অর্দশ্য কারণে ছাড়া পেয়ে যান। গকয়েক বছরে জেলায় এই ঔতিয্যবাহি ব্যাবসাহিক
এলাকায় মাদক সেবন এবং বিক্রি কয়েকগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে এখন সবচেয়ে বেশি মাদক সেবন ও বিক্রি হয় গাঁজা ও ইয়াবা।এই গাঁজা ও ইয়াবার বিষে আক্রান্ত হচ্ছে কিশোর-যুবক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী পুরুরা এবং নারীও। এক সমিায় দেখা গেছে ইদানিংকালে চাঁদপুরে ব্যাপকহারে ঢুকে পড়েছে ইয়াবা। পুলিশ মাঝে মাঝে এসব মাদক বিক্রেতাদের দু’একজন আটক করলেও এর পাইকারি চালানদাতা ও মূল হোতারা সবসময়ি থাকেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সম্প্রতি পুরান বাজার বাদিয়া বাড়ি খালের উপর নির্মিত মেয়র রোড়ের উপর প্রায় প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রেতারা ইয়াবা, গাঁজা ও প্যাথেড্রিন বিক্রি করছে। দুধ বাজার বস্তিতেও গাঁজা কেনার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাদকসেবীদের আনাগোনা এখনো অব্যাহত থাকে।
মধ্য শ্রীরামদী বউ বাজার এলাকার প্যাথেড্রিন ইনজেকশন প্যানা, এভিলসহ নেশার সুই বিক্রেতা ফজল বেপারি ও তার দু’ছেলে রাছেল বোপারি-সোহেল বেপারি বর্তমানে মাদক বিক্রির দায়ে হাজত বাস করলেও বর্তমানে তাদের ব্যাবসার হাল ধরেছে মা রাশেদা বেগম। (টগরি)। স্থানিয় পেট কাটা হাসেমের ছেলে মিন্টু কুমিলা সীমান্ত এলাকা থেকে প্যাথেড্রিন ইনজেকশন বহন করে তাদের কাছে সরবরাহ করছে বলে একটি সূত্রে জানায়। উলেখ্য, এই নেশার ইনজেকশন প্যাথেড্রিন আসক্ত পুরান বাজার এলাকার এমদাদ ছৈয়াল (৪০) নামে এক ব্যক্তি গত ক’দিন আগে মৃত্যুবরণ করে। এ নিয়ে চাঁদপুর শহর এলাকায় প্রায় ৩০-৩৫টি তাজা যুবকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ঘাতক মাদক নেশা প্যাথেড্রিন ইনজেকশন। এখনো অনেকে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে শহরে বিচরণ করছে। আইলার বিল এলাকার কুাত গাঁজা ব্যাবসায়ি সুক্কুর খানের (গাঁজা ) স্ত্রী সাজেদা বেগম কিছুদিন আগে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের হাতে হাটক হয়ে হজত বাস করলেও গাঁজা বিক্রি বন্ধ হয়নি। তার অনুপস্থিতে তার স্বামি সুক্কুর খাঁ বাড়িতে বসে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। একই এলাকার আরেক কুখ্যাত ফেন্সিডিল স¤্রাট জামাল খাঁ ওরফে জামাইল্লা চোরা, তার স্ত্রি রোকেয়া বেগম, মেয়ে পান্না, ছেলে পারবেছসহ পুরো পারবারটি মাদক ব্যাবসার সাথে জরিত বলে অভিযোগ রয়েছে এছারা মাদক বিক্রির দায়ে তারা সবাই একাধিক বার জেলও খেটেছে। মেরকাটিজ রোড়ের টিপু দেওয়ানের বাড়ির ভাড়াটিয়া হোমিও লিটন ও তার স্ত্রী বেশ দাপটের সাথেই অত্র এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করছে। এসব মাদক ব্যাবসাহিরা মুলত মোবাইল যোগাযোগের মাধ্যমে এসব মাদক বিক্রি ও সরবরাহ করে থাকে। চিহ্নিত এসব মাদক স্পটগুলোতে সকাল থেকে গভির রাত আবদি প্রায় প্রকাশ্যেই চলে মাদক বিক্রি। এসবের পাশাপাশি বাংলা মদের কাউন্টারে সব সময় খোলা রেখে মদ বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। যার নামে মদের লাইসেন্স তাদের কেউ মদ বিক্রি করছে না। সাব-লিজ নিয়ে জনৈক ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলা মদ বিক্রি করছে। পুরাণবাজারের দুধহাটা বস্তি, মধ্য শ্রীরামদী কবরস্থান, বউবাজার, মেয়র সড়কে ৫-৭টি গাঁজা বিক্রির স্পট রয়েছে। এদিকে মাদক বিরোধী অভিযজান চলায় মাদক ব্যাবসাহীদের একটি অংশ গা ঢকা দিলেও বেশি সংখক মাদক ব্যাবসাহী এখনো দেদারছে মাদক বিক্রি করে চলছে। আরেকটি সূত্র জানায়, রাজনৈতিক নেতাদের আত্মীয়স্বজনের অনেকে এমনকি ছাত্র ও যুবনেতাদের অনেকে মাদক বিক্রির ব্যাবসায় জরিয়ে পড়ছে। এসব মাদক ব্যাবসাহীদের নির্মূলে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রশাসন তেমন সোচ্চার ভূমিকা নিতে পারছে না বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। প্রশাসনের একার পে এসব মাদক ব্যাবসাহিদের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না বলে পুরান বাজার তথা চাঁদপুরের যুব সমাজকে বিপদগামীতার হাত থেকে রা করতে প্রশাসনের সাথে সমাজের সকল শ্রেণির পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের আরো সোচ্চার হবার প্রয়োজন বলে জেলার ব্যাবসাহি নেত্রিবৃন্ধ ও সচেতন মহল মনে করেন। এ েেত্র সামাজিকভাবেও এলাকায় প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ থাকতে হবে। এমন মতামত ও অনেকের। ভয়ংকর এই মাতকের হাত থেকে চাঁদপরের যুব সমাজকে রার্তে এসব মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিজান যেন আব্যাহত থাকে আর এই অভিযান যেন মাঝ পথে থেমে না যায় সে জন্য চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও জেলার মতাশিল রাজনৈতিক দলের নেত্রিবৃন্ধের সুদৃষ্টি কামনা করেছন অভিবাবক মহল। নয়তো মাদকের হিং¯্র থাবায় অচিরেই ধংশ হয়ে যাবে জেলার যুব সমাজ।
