স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার বাকালী পট্টিতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনাটিকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাভলী বেগমের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা আঃ রহমান হাওলাদার, মোহাম্মদ আলী হাওলাদারসহ কতিপয় সম্মানিত ব্যক্তিকে চোরকে পেটানোর ঘটনা দেখিয়ে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করার চেষ্টা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লাভলী বেগমের মামলাটি লিপিবদ্ধ করেনি মডেল থানা কর্তৃপক্ষ। গত রবিবার ০৩ এপ্রিল পুরাণবাজার বাকালী পট্টি এলাকায় মৃত হাজী আঃ করিম হাওলাদারের ছোট মেয়ে লাভলী বেগমের ঘরের ভেন্টিলেটার ভেঙ্গে চোর বোমা নাছির প্রধানীয়া, ডিব্বা মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, নাছিরের ভাই জাকির, আশুসহ একটি চক্র ঐ দিন দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত করে। এলাকাবাসী চুরির মালামাল বিক্রির খবর পেয়ে লাভলী বেগমকে জানায়। চোর চক্রের সদস্য বোমা নাছির প্রধানীয়া ও ডিব্বা মনিরুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন আটক চোরদ্বয় চুরির ঘটনা স্বীকার করে এবং মালামাল দেয়ারও অঙ্গীকার করে। পরে এলাকাবাসী চোর নাছির ও ডিব্বা মনিরকে গণপিটুনি দিয়ে পুরাণবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে সোপর্দ করে। জাহাঙ্গীর আলম নাছিরকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেন। এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে আহত হওয়া বোমা নাছিরকে চিকিৎসার জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আঃ রহমান হাওলাদার হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে মানবিক কারণে হাজার হাজার টাকার ঔষধ কিনে দেন চিকিৎসার জন্য। গতকাল শনিবার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে সিনিয়র সার্জারী ডাক্তার মনিরুল ইসলামের ব্যবস্থাপনায় নাছিরের শরীরে সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। তারপর তাকে হাসপাতাল থেকে শনিবার রিলিজ লেটার দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং যাওয়ার সময় ১০ দিনের ঔষধপত্র দিয়ে দেওয়া হয়। ঐ সময় তার ভাই আশু প্রধানীয়া, তার বোন জাহানারার উপস্থিতিতে আশুকে নগদ টাকা প্রদান করা হয়, নাছিরকে ফল খাওয়ানোর জন্য স্কয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
শনিবার নাছির বাড়ি যাওয়ার পর একটি চক্র ঘটনাটি অন্যখাতে প্রবাহিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আওয়ামী লীগ নেতা আঃ রহমান হাওলাদারের ইজ্জত ও তার পরিবারের ঐতিহ্য নষ্ট করার জন্য কতিপয় খারাপ প্রকৃতির লোক চিহ্নিত চোর, বোমা, পেট্রোল ও বহু মামলার অন্যতম আসামী বোমা নাছিরের পক্ষ নিয়ে তার স্ত্রীকে দিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করায়। জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়, স্বামী হারা লাভলী বেগমের স্বর্ণালঙ্কার, টাকা পয়সা, মালামাল চুরির মামলা কী কারণে থানায় লিপিবদ্ধ না করে বোমা নাছিরের মামলাটি লিপিবদ্ধ করা হলো?
উল্লেখ্য, এই বোমা নাছির আওয়ামী লীগের মিছিলে বোমা, পেট্রোল বোমা ও ককটেল নিক্ষেপ করে ছিল ঐ সময়। যা প্রশাসন অবগত রয়েছে এবং প্রশাসনের তালিকায় সন্ত্রাসী হিসেবে নাছিরের নাম রয়েছে। নাছিরের একমাত্র কাজই হচ্ছে চুরি, ছিনতাই, মাদক দ্রব্য সেবন ও বিক্রি করা। মাদক বিক্রিকালে সে পুলিশের হাতে বহুবার আটক হয়ে জেল খেটেছে। বর্তমানে তার নামে বহু মামলা চলিত অবস্থা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে। এই বোমা নাছিরের সাথে একটি মহিলা চক্র রয়েছে যারা ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করে থাকে। তারা এ চোর নাছিরের পক্ষ নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও হয়রানি করে যাচ্ছে। বর্তমানে এ মহিলা চক্রটি বিভিন্ন স্থান থেকে মহিলা ভাড়া করে এনে নাছিরের পক্ষ নিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। সচেতন এলাকাবাসীর চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন : এ বোমা নাছিরের বিগত দিনের কার্যক্রমের উপর তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টিতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।
