চাঁদপুরের সৌন্দর্য ডাকাতিয়া নদী। যাকে বলা হয় টেমস্ অব বাংলাদেশ। চাঁদপুর শহরের সৌন্দর্যকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে শহরের বুক চিরে বয়ে চলা এ ডাকাতিয়া। এ নদীটির সাথে চাঁদপুরের মানুষের রয়েছে প্রাণের বন্ধন। হাজার বছরের ঐতিহ্য নিয়ে বয়ে চলেছে নদীটি। তারই কোল ঘেষে দাঁড়িয়ে আছে পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। কলেজ সংলগ্ন ডাকাতিয়ার পাড় দীর্ঘদিন ছিল অবৈধ দখলদারদের দখলে। কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি এবং এলাকার মানুষের চাহিদার প্রেক্ষিতে সে অঞ্চলটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলবার জন্যে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ দীপু মনি এমপি, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ্ব মোঃ জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিমসহ সদস্যবৃন্দ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গেল কিছুদিন আগে এখান থেকে সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সে জায়গাটিতে ৭টি বৃক্ষ রোপণ করার জন্যে বেদি তৈরি করা হয়। তৈরি করা হয় বসার জন্যে বেঞ্চ।
গতকাল শনিবার চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি ডাঃ দীপু মনি এটিকে ‘৭ মার্চ চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি সাতটি বেদিতে ৭টি গাছ রোপণ করেন। গাছগুলো ছিল কৃষ্ণচুড়া, বকুল, জারুল, সোনালু ও বাদাম। ডাঃ দীপু মনির সাথে ছিলেন চাঁদপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান। তিনিও বৃক্ষ রোপণে অংশ নেন।
এ বিষয়ে কথা হয় কলেজ অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদারের সাথে। তিনি জানালেন, ৭ মার্চ এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। সারাবিশ্বে ৭ মার্চ এক বিস্ময়। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ বাঙালিকে স্বাধীনতা লাভে অনুপ্রাণিত করেছে। ৭টি গাছ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ঐতিহ্যকে বহন করবে যুগ পরম্পরায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জানবে ৭টি গাছ ঐতিহাসিক ৭ মার্চের প্রতীক। ৭ মার্চ যেমন আমাদের দিয়েছে স্বাধীনতা, ভূখ-, দিয়েছে লাল সবুজ পতাকাতলে আশ্রয়, তেমনি এই ৭টি বৃক্ষ ছায়া দিবে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং পথিককে। এ অঞ্চলটিকে গড়ে তোলা হবে চাঁদপুরের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে। এ ব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এলাকার মানুষ জানায়, এটা তাদেরও দাবি ছিল। এলাকাটি এখন দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। কলেজের সৌন্দর্য বেড়েছে। এতে আমরা খুশী।
