
আশিক বিন রহিম ॥
চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারে বিভিন্ন চায়ের দোকানগুলোয় বেছাকিনার আড়ালে চলছে জমজমাট লুড্ডু জুয়ার আসর। এসব দোকানগুলোয় বিভিন্ন শেনী পেশার নি¤œ আয়ের শ্রমজীবি জুয়াড়িদের পদচারনা লক্ষ করা যায় সকাল থেকে গভির রাত পর্যন্ত। জুয়াড়িদের ভিড় জমাতে ঐ এলাকার অসাধু চায়ের দোকানিরা টিভি চালিয়ে তার অন্তরালে লুড্ডু খেলার আসর বসিয়ে জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে থাকে। যেখানে প্রতিদিন এসব শ্রমজীবি মানুষগুলো তাদের কর্ম ফেলে জুয়া খেলায় মগ্ন হয়ে ওঠে। এসব পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিরা জুয়ার নেসায় আশক্ত হয়ে নিজ পরিবারের ভরন পোষনের দায়ীত্ব ভুলে যায়। ফলে ঐসব পরিবারে পারিবারকি কলহ নেমে আসে। এখানেই শেষ নয়, এসব শ্রমজীবি মানুষগূলো জুয়ার টাকা যোগান বা পরিষোধ করতে গিয়ে এক প্রকার বাধ্যহয়েই বেছে নিচ্ছে ভিন্ন পথ। যার ফলে ঐ এলাকায় নিয়মিত বেড়েই চলছে মাদক বিক্রি, চুরি, ছিনতাই এমনকি স্ত্রী নির্জাতনের মত ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী এলাকা পুরান বজারের হরিসভা রোড (নদির পাড়), পশ্চিম বাজার দুদ পট্টি, নিউ ট্রাক রোড, নিতাইগঞ্জ ও মেয়র রোডসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সকাল থেকে গভির রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যেই চলে লুড্ডু খেলার নামে জমজমাট জুয়ার আসর। এখানে জুয়াড়িরা লুড্ডু খেলার গেম প্রতি ১০০ টাকা থেকে হাজার টাকার বাজি ধরে থাকে। প্রতিটি গেমে দোকানিদেরকে কমিশন বাবদ ২০-৫০ পর্যন্ত দিয়ে থাকেন জুয়াড়িরা। এছাড়াও পুরান ফায়ার সার্ভিস এলাকায়ও স্থায়ীভাবে বছরের পর বছর ধরে বেসকিছু দোকানে চলছে নানা রকম জুয়ার আসর।
জনবহুল এসব এলাকায় প্রকাশ্যেই জুয়ার আসর চললেও প্রশাসনের কোন ধরনের পদক্ষেপ না নেয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে দেখা দিয়েছে নিরব অসন্তোষ। অপর দিকে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব দোকানিরা জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করেন এমন অভিযোগও পাওয়া যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরীকদের দাবি অভিলম্বে এসব দোকানগুলোয় পুলিশি নজরদারি বাড়িয়ে জুয়াড়ি ও এদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্যথায় মাদক ও ক্রিকেট জুয়ার ন্যায় লুড্ডু জুয়াও মহামারি আকার ধারণ করবে।
শিরোনাম:
শুক্রবার , ১৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
