স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা নিয়ে ত্রিপুরা জেলা বিলুপ্ত হবার পর ‘‘জেলা পরিষদ’’ নামটি লোকজন ভুলেই গিয়েছিল। ১৯৮৮ সালে হুসাইন মো: এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর দেশের প্রতিটি জেলাকে একটি করে জেলা পরিষদ ঘোষনা করেন এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে একজন করে জাতীয় সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেন। সেমতে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক ডা: শহীদুল ইসলাম,এমপি কে দায়িত্ব দেয়া হয়। তখন জেলা পরিষদের কার্যক্রম ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর ২য় তলায অস্থায়ী ভাবে পরিচালিত হতো। ডা: শহীদুল ইসলাম ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। জেলা পরিষদের ডাক বাংলো থেকে জেলা পরিষদের নিজস¦ ভবন তৈরি করার জন্য চাঁদপুর -কুমিল্লা রেডের পাশে বাবুরহাট নামক স্থানে প্রায় ২ একর ভ’মি অধিগ্রহন করা হয় এবং ২৯ জানুয়ারি ১৯৯১ সালে এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ মধ্যে সরকারের হাত বদল,অর্থ বরাদ্দ এবং তৈরি করার ক্ষেত্রে বহু বছর চলে যায়। অবশেষে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের পদ বিলুপ্ত ঘোষনা করে উপ সচিবের পদমর্যাদা সম্পন্ন একজন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। সরকারের এ আদেশ বলে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে একেএম সামছুল আলম দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর পর ১১ জন এ পদের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে আবদুল মান্নান নামে একজন ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের স্থলে জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে একটি পদ সৃষ্টি করেন এবং চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধের ৮ নং সেক্টর কমান্ডার লে: কর্নেল (অব) আবু ওসমান চৌধুরীকে দায়িত্ব দেন। তিনি ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে এ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলেই দেশে এই প্রথমবারের মত জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিটি জেলা পরিষদের জন্য এক জন চেয়ারম্যান ,প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য একজন মেম্বার ও সংরক্ষিত আসনের জন্য একজন মহিলা মেম্বার জনপ্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত হন। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ,বিশিষ্ট সমাজ সেবক সর্বজন পরিচিত মুখ আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই সাথে চাঁদপুরের ১৫ টি ওয়ার্ড মেম্বার ও ৫ জন মহিলা মেম্বার অত্যন্ত সূষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত ব্যক্তিগণের নাম ইতোমধ্যে সরকারি গেজেট হয়েছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথপাঠ করিয়েছেন। এখন আসছে সেই মাহিন্দ্রক্ষন। তাই আগামি ১৯ জানুয়ারী ২০১৭ তে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান,মেম্বরগণ তাদের দায়িত্বভার গ্রহন করার তারিখ ঘোষনা করেছেন। বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক লে:কর্নেল (অব) আবুওসমান চৌধুরীর নিকট থেকে চাঁদপুরের ইতিহাসে তথা এ দেশের ইতিহাসে প্রথম আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহন করবেন। এ জন্য ইতমধ্যে ব্যপক প্রস্তুতি গ্রহন ও তা সম্পন্ন করা হয়েছে।
শিরোনাম:
রবিবার , ১২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৯ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
