শুকুবার থেকে টানা ৯দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। চাঁদপুরের মানুষ যারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকেন, আপনজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কর্মস্থল ছেড়ে নাড়ির টানে শুরু করেছেন ঈদ যাত্রা। শুক্রুবার থেকেই চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের আগমন শুরু হতে না হতেই দেখা দিয়েছে নানা দুর্ভোগ। প্রশাসনের চোক ফাকি দিয়ে ঘাট ইজারাদার ও লেবারদে হয়রানিতে অতিষ্ঠ ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর মাদরাসা রোড অস্থায়ী লঞ্চ টার্মিনালে সরেজমিনে দেখা যায় যাত্রী হয়রানি ও নানা দুর্ভোগের চিত্র। চাঁদপুর মহামায়া পলি¬ বিদ্যুৎ এলাকার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসি কাজি কামাল হোসেন ইমাম হাসান লঞ্চ থেকে নামা মাত্রই ঘাটের লেবাররা তাকে ঘিরে ধরে। তার সাথে থাকা মালামাল বাবদ মোটা অংকের টাকা দাবি করলে তিনি বলেন, আমিতো লঞ্চে মালের টাকা দিয়েছি এখন আবার কিসের টাকা দিবো। এ সময় ঘাট ইজারাদারদের কয়েকজন এসে ঘাট বাবদ টাকা চাইতে শুরু করে। এ নিয়ে শুরু হয় বাকতিন্ডা, এক পর্যায়ে এ প্রতিবেদকসহ স্থানিয় প্রিন্ট মিডিয়ার কয়েকজন সাংবাদিক এগিয়ে এসে ছবি তোলায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তারা। পরে যাত্রীদের রোষাণলে পড়ে এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে মোটা অংকের বদলে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় ঐ যাত্রীদের।
ইজারাদার দাবিকৃত ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে নাম না জানিয়ে তিনি বলেন, মোটা অংকের টাকা দিয়ে আমরা ঘাটের ডাক এনেছি। ঈদে যাত্রীদের সাথে থাকা মালামাল বাবদ সামান্য কিছু না নিলে আমরা চলবো কি করে।
অন্যদিকে লঞ্চ থেকে নামার পর যাত্রীদের আরেক দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায় সিএনজি ভাড়া নিয়ে। ঈদের আগে যে ভাড়া ছিলো ২০০/৩০০ টাকা একই দুরুত্বে তা এখন নেয়া হচ্ছে ৭০০/৮০০ টাকা। সিএনজি ড্রাইভারদের এমন ভাড়ার দাবি পুরন করতে হিমশিম খাচ্ছে অধিকাংশ যাত্রীরা । নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গেলেও কেউই কোন অভিযোগ দিতে নারাজ। কারণ হিসেবে তারা বলছেন যাদের কাছে অভিযোগ দেব তারাইতো এদেরকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে।
সিএনজি ড্রাইভারদের অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার ব্যাপারটি স্বিকার করে কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি জীবন কানাই চক্রবর্তী বলেন, ঘাটে দির্ঘ সময় লাইন দিয়ে দিনে দু একটি ভাড়া পায় তারা। এছাড়াও এখন ঈদ মৌসুম, আর তাই একটু বেসি ভাড়া নিচ্ছে তারা। তবে মেনে না নেয়ার মত অতিরিক্ত কোন ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পেলে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমরা তার বিরুদ্দে ব্যবস্থা নিবো।
এ বিষয়ে চাঁদপুর নৌ-পুলিশ পাড়ির ইনচার্জ জাহিদুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, যত্রীদের যে কোন অভিযোগ গ্রহনের জন্য আমরা পুলিশ কন্ট্রেল রুম খলেছি। গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত কেই কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসা মাত্রই তাৎখনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জুমার নামাজের পর থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদকসহ উপস্থিত সাংবাদিকরা পুলিশ কন্ট্রেল রুমে কাউকে দায়িত্ব পালন করতে দেখেনি।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৮ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

