প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিকার হবু স্বামী সেলিম সরকারসহ পাঁচজনকে এসিড ছুড়ে মেরেছে সিফাত ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় গ্রেফতার দুজনকে আজ রিমান্ডে নেয়া হতে পারে। বুধবার রাতে শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জের তারাবুনিয়া গ্রামে এই এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সেলিমসহ পাঁচজন দগ্ধ হন। এদের মধ্যে সেলিম ও তার ভাগ্নে রাবেয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। অপর তিনজন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
বার্ন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, সেলিম সরকারের শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। রাবেয়ার শরীর পুড়েছে ৬ শতাংশ। রাবেয়া আশংকামুক্ত হলেও সেলিমের শংকা কাটেনি। সেলিম সরকারের ভগ্নিপতি কামাল মুন্সী জানান, সেলিম সরকারের বাড়ি ভেদরগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া গ্রামে। তিনি ঢাকার আশুলিয়ায় ব্যবসা করেন। পারিবারিকভাবে তার বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সরকান্দি গ্রামের তানজিলা আক্তার শিরোমণির সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়। বৃহস্পতিবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে কনে ও বরের বাড়ি পৃথকভাবে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় সেলিমের বাড়িতে জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়। রাত ১২টার দিকে হঠাৎ জেনারেটর বন্ধ হয়ে যায়। পুরো বাড়ি হয়ে যায় অন্ধকার। সঙ্গে সঙ্গে হবু বর ২৭ বছর বয়সী সেলিম সরকার গায়ে ভিজে ভিজে অনুভব করেন। ততক্ষণে তার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তদের ছোড়া এসিডে সেলিমসহ ৫ জন দগ্ধ হন। ফলে পূর্ব নির্ধারিত বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসাধীন সেলিম সরকার বলেন, কয়েকদিন আগে সিফাত নামে এক যুবক তাকে ফোন দিয়ে জানায়, তার (সিফাত) সঙ্গে তানজিলার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। কিন্তু তানজিলার আত্মীয়-স্বজন তার সঙ্গে তানজিলার বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছে না। একপর্যায়ে সিফাত মোবাইল ফোনে উত্তেজিত হয়ে তানজিলাকে বিয়ে করতে নিষেধ করে। বিয়ে করলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও হুমকি দেয় সিফাত। গায়ে হলুদের রাতে এই এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় সরাসরি সিফাতকে দায়ী করে সেলিম যুগান্তরকে বলেন, প্রেমে ব্যর্থ হয়েই সিফাত আমাকে এসিড মেরেছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সেলিমের ভগ্নিপতি কামাল মুন্সী বলেন, বৃহস্পতিবার বিয়ের দিন ধার্য থাকলেও এসিড নিক্ষেপের কারণে বিয়ে হয়নি। তবে কবে বিয়ে হবে সে ব্যাপারে অভিভাবকরা এখনও আলোচনা করেননি। আমরা এখন সেলিমের সুস্থতা নিয়ে ব্যস্ত আছি। ওই মেয়ের সঙ্গে সেলিমের বিয়ে আর হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন কামাল মুন্সী।
তিনি আরও জানান, ওই রাতে এসিড দগ্ধ পাঁচজনকেই বার্ন ইউনিটে আনা হয়। তোহুরা আক্তার (২০), সিয়াম (৬) ও শাহীন আক্তার (২৫) চিকিৎসা নিয়ে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরেছেন। সখিপুর থানার ওসি সমীর সরকার যুগান্তরকে বলেন, সেলিম সরকারের বড় ভাই ইউনুস সরকার বাদী হয়ে সখিপুর থানায় মামলা করেন। এ মামলায় চরকুমারিয়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেন ও চরমনপুরা খুনের চর এলাকার তুহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, সেলিমের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, সিফাত নামে এক যুবক সেলিমের হবু স্ত্রী তানজিলা আক্তার শিরোমণিকে বিয়ে করতে না পেরে এই এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা সিফাতকে গ্রেফতার করতে চেষ্টা চালাচ্ছি।

