নাম তার মোঃ তাজুল ইসলাম হলেও এলাকার লোকজন তাকে কাজী নামেই বেশি চিনেন। এলাকার মানুষ বিশেষ করে পুরুষরা তার বিরুদ্ধে কথা বলতে চাইলেও চারপাশে তাকিয়ে তারপর কথা বলেন। কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, তাকে লোকজন কাজী ডাকার কারণ, তিনি বিয়ের কাজী নয়, অপকর্মসহ সকল কাজের কাজী। তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুললে কদিন পরেই তার বিরুদ্ধে আদালত বা থানা থেকে নোটিস এসে পড়ে। ফলে ভয়ে কেউই মুখ খুলতে চায় না। স্থানীয় ইউপি সদস্যের দাবি : ৭ মাস পূর্বে এ লোকটি গ্রামে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত শুধু তাকে নিয়েই শতাধিক সালিস করেছেন। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্যরা স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারীঘটিত বেশ কয়েকটি অভিযোগ থানায় ও আদালতে রয়েছে। উপজেলার আদর্শ গ্রাম বলে খ্যাত লাউতলী গ্রামে এ ‘কাজী’র কাছে পুরো গ্রামবাসী জিম্মি-এমনটাই দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
এক লোকের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ বিষয়টি জানতে সরেজমিন গেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের লাউতলী গ্রামের ইউপি সদস্য মাসুদ আলম পাটওয়ারী, ফরিদ হোসেন দেওয়ান, বয়োবৃদ্ধ ইব্রাহিম (৭৫), ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শিবলী সাদেক চৌধুরী, নাছির উদ্দিন বেপারী, ফারুক আমিন, লাভলী আক্তার, নারগিস আক্তার, মোঃ ইউছুফ, আমির হোসেনসহ লোকজন জানান, তাজুল ইসলাম গত ৭/৮ মাস পূর্বে চট্টগ্রাম থেকে নিজের গ্রামের বাড়ি লাউতলী গ্রামে আসে। বাড়িতে আসার পর থেকে তার সাথে বাড়ির লোকজনসহ আশেপাশের প্রতিবেশীদের একের পর ঝামেলা বাধতে থাকে। তারা জানান, সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়ার সাথে সাথে তার সাথে মন্ত্রী, এমপি, পুলিশের আইজি, রাষ্ট্রপতির ছেলের সম্পর্ক রয়েছে পরিচয় দিয়ে মানুষর মাঝে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে এলাকার বেশ কয়েকজন মহিলা অশোভন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এসব নিয়ে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধে আদালতে বা থানায় মামলা ঠুকে দেন।
তাজুল ইসলামের পাশের ঘরের হতদরিদ্র কাঁচামাল বিক্রেতার স্ত্রী নারগিস আক্তার জানান, তাজুল ইসলাম সম্পর্কে তার চাচা হলেও তিনি তাকে প্রায়শই উত্ত্যক্ত করাসহ নানা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। যা দৃষ্টিকটু হওয়ায় তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু তিনি সেখানে হাজির না হয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বয়োবৃদ্ধ ইব্রাহিম তাজুল ইসলামের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, তাদের সাথে কোনো বিরোধ নেই। বাড়ির জায়গার মাপজোখের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তিনিসহ তার পুত্র, পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, তার হাত থেকে পুরো গ্রামবাসী মুক্তি চায়। এলাকায় আসার পর থেকে তাজুল এলাকাবাসীকে অস্থির ও আতঙ্কে রেখেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ আলম পাটওয়ারী বলেন, গত ৭/৮ মাসে তাজুল ইসলামকে নিয়ে অন্তত শতাধিক সালিস করেছেন। এভাবে চলতে থাকলে তার ওয়ার্ডের অন্যদের সমস্যার সমাধান বাদ দিয়ে শুধু তাকে নিয়ে থাকতে হবে। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার কাছে অন্তহীন মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, তিনি একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হলে তার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ হবে কেন। সচেতন ব্যক্তি ভুল একবার করতে পারে, কিন্তু বারবার নয়।
এদিকে নারীঘটিত ও বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামবাসীর করা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম (কাজী) বলেন, দীর্ঘ ৩৪ বছর পর তিনি এলাকায় এসেছি। এসে নিজের ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক জমি উদ্ধার ও রক্ষা করতে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তুলে আমাকে হয়রানি করছে একটি মহল। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সমূহ মিথ্যা বলে দাবি করেন। আদালতে মামলার বিষয়ে জানান, তার বিরুদ্ধে যেমন মামলা রয়েছে, তেমনি তিনি মামলা দায়ের করেছেন।
একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক ফারুক আলম জানান, তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। দায়েরকৃত অভিযোগের আলোকে তদন্ত চলছে।
