
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি ঃ
ফরিদগঞ্জে খন্ডকালীন শিক্ষককে প্রকাশ্যে জুতা পেটা করলো ছাত্রী। যৌন হয়রানির প্রতিবাদে এমন ঘটনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ছাত্রীর অভিযোগ। ঐ শিক্ষকের নাম রাসেল হাসান। ফরিদগঞ্জ এ.আর. মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় আঙ্গিনায় শত শত অভিভবাক ও শিক্ষার্থীর সামনে এ ঘটনা ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায়। মূহুর্তে আশপাশ এলাকায় ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ ছুটে যান স্কুল আঙ্গীনায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রীর অভিভবাক জানিয়েছে, ঘটনার সময় পরি (ছদ্ম নাম) নামের ছাত্রী স্কুলে উপস্থিত হয়ে রাসেল হাসানকে শিক্ষক কক্ষ থেকে ডেকে বাইরে নেয়। সে রাসেল হাসানকে নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত করে। দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রী পা থেকে জুতা খুলে রাসেল হাসানকে জুতাপেটা শুরু করে। ঘটনার আকস্মিকতায় আশপাশে উপস্থিত লোকজন ছুটে যায়। তারা ছাত্রীকে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু, ক্ষুব্ধ ছাত্রী রাসেল হাসানের শার্ট টেনে ধরে রাখে ও চিৎকার করতে থাকে। সে অভিযোগ করে জানায় রাসেল হাসান তাকে ফুসলিয়ে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেছে। কুপ্রস্তাব গ্রহণ না করায় রাসেল হাসানের কেমিস্ট্রি বিষয়ে ছাত্রীকে ফেল করিয়েছে। এমনি হৈ হট্টগোলের মধ্যে রাসেল হাসান দৌড়ে শিক্ষক কক্ষে ঢুকে পড়ে।
কয়েক মিনিট পর প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজলসহ অপরাপর শিক্ষক ছুটে যান। খবর পেয়ে অভিভাবক প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি পেশার লোকজনও সেখানে জড়ো হয়। ছাত্রীর বিক্ষুব্ধ অভিভাবকগণ অনবরত চিৎকার করে বলেন, গত এক বছর যাবত ছাত্রীর সঙ্গে কি হয়েছে আপনারা শোনেন এবং এই মূহুর্তে বিচার করেন। ছাত্রীর মামা অভিযোগ করেন, রাসেল হাসান তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে নানা সময় এমন ঘৃণ্য কাজ করেছে। ছাত্রীর বাসায় রাসেল হাসান যাতায়াত করতো বলেও তারা উপস্থিত সকলের সামনে অভিযোগ করেন। এ সময় রাসেল হাসান নিরবে বসে ছিলো।
উপস্থিত প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা এখনই ৪/৬ সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অপরাধ সাব্যস্ত হলে রাসেল হাসানকে আইনের আওতায় নেয়া হবে। কিন্তু, ছাত্রীর অভিভবাকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা এখানে বিচার পাবো কি না এ নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, এর পূর্বে রাসেল হাসানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু, কোনো বিচার হয়নি।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত রাসেল হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এ সবই ষড়যন্ত্র। পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এদিকে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৪টা) স্কুলে বৈঠক চলছিলো। তদন্ত কমিটি গঠন বা এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তে কর্তৃপক্ষ উপনীত হতে পারেনি।
